আজ সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৩০ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ০১ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
৩০°C
সর্বোচ্চ: ৩৪°C
সর্বনিম্ন: ২৭°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৪৭%

ঠাকুরগাঁওয়ে স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণ: ৭ বছর পর যুবকের যাবজ্জীবন

  • MIT ERP
  • Update Time : 05:34:20 pm, Monday, 14 September 2026
  • 4

ঠাকুরগাঁওয়ে স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণ: ৭ বছর পর যুবকের যাবজ্জীবন

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

ঠাকুরগাঁওয়ে দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের মামলায় মো. রুবেল ইসলাম ওরফে রুবেল রানা (২৫) নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দীর্ঘ প্রায় ৭ বছর পর ঘোষিত এই রায়ে আসামিকে মোট এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং তা অনাদায়ে আরও দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

ঠাকুরগাঁওয়ের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) আলী মনসুর আসামির অনুপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত রুবেল রানা ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া থানার খড়িবাড়ী (বদ্বেশ্বরী) গ্রামের মো. নান্দু ইসলামের ছেলে। রায় ঘোষণার সময় আসামি পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৯ সালের ৭ নভেম্বর বিকেলে রুহিয়ার ঢোলারহাট বালিকা বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক ছাত্রী মাসির বাড়ি যাওয়ার জন্য ঢোলারহাট বাজারস্থ তিন রাস্তার মোড়ে অটোচার্জার স্ট্যান্ডে পৌঁছালে রুবেল তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ও ভুল বুঝিয়ে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে একটি অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয়। স্থানীয়দের চাপের মুখে পরদিন রুবেল মেয়েটিকে অটোতে তুলে ফেরত পাঠালে ভুক্তভোগীর পরিবার রুহিয়া থানায় মামলা দায়ের করে।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭ ধারায় (অপহরণ) ১৪ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড (অনাদায়ে ১ বছর কারাদণ্ড) এবং ৯(১) ধারায় (ধর্ষণ) যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড (অনাদায়ে ১ বছর কারাদণ্ড) প্রদান করেন। উভয় সাজা একই সাথে কার্যকর হবে।

রায়ের বরাতে বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, আসামির ওপর ধার্যকৃত অর্থদণ্ড ভিকটিমের ক্ষতিপূরণ হিসেবে গণ্য হবে। এ ক্ষতিপূরণ আদায়ে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসককে আসামির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট মো. বদিউজ্জামান চৌধুরী বাদল এবং আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. আবু নাঈম।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

বিদ্যুৎ উৎপাদনে দেশীয় কয়লা উত্তোলনের পরিকল্পনা সরকারের

ঠাকুরগাঁওয়ে স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণ: ৭ বছর পর যুবকের যাবজ্জীবন

Update Time : 05:34:20 pm, Monday, 14 September 2026

ঠাকুরগাঁওয়ে দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের মামলায় মো. রুবেল ইসলাম ওরফে রুবেল রানা (২৫) নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দীর্ঘ প্রায় ৭ বছর পর ঘোষিত এই রায়ে আসামিকে মোট এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং তা অনাদায়ে আরও দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

ঠাকুরগাঁওয়ের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) আলী মনসুর আসামির অনুপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত রুবেল রানা ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া থানার খড়িবাড়ী (বদ্বেশ্বরী) গ্রামের মো. নান্দু ইসলামের ছেলে। রায় ঘোষণার সময় আসামি পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৯ সালের ৭ নভেম্বর বিকেলে রুহিয়ার ঢোলারহাট বালিকা বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক ছাত্রী মাসির বাড়ি যাওয়ার জন্য ঢোলারহাট বাজারস্থ তিন রাস্তার মোড়ে অটোচার্জার স্ট্যান্ডে পৌঁছালে রুবেল তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ও ভুল বুঝিয়ে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে একটি অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয়। স্থানীয়দের চাপের মুখে পরদিন রুবেল মেয়েটিকে অটোতে তুলে ফেরত পাঠালে ভুক্তভোগীর পরিবার রুহিয়া থানায় মামলা দায়ের করে।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭ ধারায় (অপহরণ) ১৪ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড (অনাদায়ে ১ বছর কারাদণ্ড) এবং ৯(১) ধারায় (ধর্ষণ) যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড (অনাদায়ে ১ বছর কারাদণ্ড) প্রদান করেন। উভয় সাজা একই সাথে কার্যকর হবে।

রায়ের বরাতে বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, আসামির ওপর ধার্যকৃত অর্থদণ্ড ভিকটিমের ক্ষতিপূরণ হিসেবে গণ্য হবে। এ ক্ষতিপূরণ আদায়ে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসককে আসামির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট মো. বদিউজ্জামান চৌধুরী বাদল এবং আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. আবু নাঈম।