ভারতসহ পৃথিবীর সব রাষ্ট্রের সঙ্গে মর্যাদা, পারস্পরিক সম্মান ও স্বার্থের ভিত্তিতে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চান জাতীয় সংসদের স্পিকার ও ভোলা-৩ (লালমোহন-তজুমদ্দিন) আসনের সংসদ সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সুসম্পর্ক থাকা প্রয়োজন। তবে ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে যে ধরনের সুসম্পর্ক চায়, তার প্রতিফলন সব সময় দেখা যাচ্ছে না। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে মূলত কূটনৈতিক পর্যায়ে যোগাযোগ রয়েছে। ভবিষ্যতে মর্যাদা ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। সোমবার সকালে ভোলা সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন স্পিকার।
ভারতের প্রসঙ্গ তুলে হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশকে ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণের বিষয়ে ভারত থেকে তেমন উৎসাহ দেখা যায়নি। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকেও ভারত যথাযথ মর্যাদায় আমন্ত্রণ জানায়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, ভারত পতিত সরকারের প্রধানমন্ত্রীকে দেশটিতে আশ্রয় দিয়ে সেখান থেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দিয়েছে, যা বাংলাদেশের জন্য কাম্য নয়।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে স্পিকার বলেন, একটি অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারী সরকারের পতন হয়েছে। এরপর প্রায় দুই বছর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব পালন করেছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ বিএনপিকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দিয়েছে। নতুন সরকারের বয়স মাত্র সাত মাস। দীর্ঘ ১৭ বছরের শাসনামলে দেশের বিভিন্ন খাতে যে ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে সময় প্রয়োজন।
তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে হত্যা, গুম, দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের মতো ঘটনা ঘটেছে। ফলে রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরে সংকট তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে দেশকে ঘুরে দাঁড় করাতে সময় লাগবে। তবে নতুন সরকার ইতোমধ্যে উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু করেছে বলেও দাবি করেন তিনি। হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, সরকারি দল ও বিরোধী দল সংযমের সঙ্গে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করলে দীর্ঘদিনের বঞ্চনা থেকে দেশ বেরিয়ে আসতে পারবে।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং সংবিধান সংস্কারের কাজ শেষ হলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখন দেশের মানুষ বাক্‌স্বাধীনতা ফিরে পেয়েছে। আগের সরকারের সময়ে সত্য কথা বলা কঠিন ছিল। সত্য কথা বলার কারণে অনেক মানুষকে ক্রসফায়ারে প্রাণ দিতে হয়েছে এবং অনেকে গুম হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ সময় বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস আলী ও পারভেজের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন স্পিকার। মতবিনিময় সভায় ভোলা জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান, পুলিশ সুপার শহীদুল্লাহ কাওছার, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম নবী আলমগীর, সদস্যসচিব রাইসুল আলমসহ সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।





















