আজ রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২৯ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ৩০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি
৩০°C
সর্বোচ্চ: ৩৩°C
সর্বনিম্ন: ২৬°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৬৯%

কলকাতায় নানকের বিলাসবহুল জীবনযাপন

  • MIT ERP
  • Update Time : 04:41:26 pm, Sunday, 13 September 2026
  • 8

কলকাতায় নানকের বিলাসবহুল জীবনযাপন

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। কলকাতার তপসিয়া এলাকায় বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে স্ত্রীকে নিয়ে রাজকীয় জীবনযাপন করছেন।

এই জৌলুসপুর্ণ জীবন যাপনে দেশ ছেড়ে অন্য দেশে পলাতক থাকার কোনো ছাপ পর্যন্ত নেই। স্ত্রী, মে-মেয়ে জামাইকে নিয়ে আড়ম্বরপূর্ণ, নির্ভার জীবন কাটাচ্ছেন। নিয়মিত স্ত্রীকে নিয়ে কলকাতার নামিদামি বিপনিবিতানে শপিং করছেন। দলের কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে সভা করছেন নিয়মিত। পুরোদমে চলছে মৌজ-মাস্তি। দেশে থাকা নানকের বিভিন্ন ব্যবসা ও সম্পত্তি থেকে প্রতি মাসে কোটি টাকার বেশি আয় হুন্ডির মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে তার কাছে পাঠানো হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন ঘনিষ্ঠজন ও সংশ্লিষ্টদের কয়েকজন।

দুই বছর ধরে এভাবেই দেশে থাকা সম্পদের আয় ভারতে পাচার করে বিলাসী জীবন কাটাচ্ছেন নানক। তার বিলাসী জীবনে টাকার যোগান দেন কয়েকজন ঘনিষ্ঠ। এই টাকার জোরেই পলাতক জীবনেও রাজার হালে তার জীবন কাটছে বলে জানিয়েছেন নানকের একাধিক ঘনিষ্ঠ সূত্র। স্ত্রী সৈয়দা আরজুমান্দ বানু এবং মেয়ে এস আমরিন রাখিও বর্তমানে রয়েছেন ভারতে। অবশ্য রাখি ও তার স্বামী থাকেন না নানকের সঙ্গে।

মাঝে মধ্যে এসে দেখা করে যান বাবা-মায়ের সঙ্গে। তপসিয়া এলাকার ওই ফ্ল্যাটে বসেই দেশে দলের নানা কর্মকাণ্ড পরিচালনা আর মাঝে মধ্যে ভিডিও বার্তা দেন পলাতক এই নেতা। পশ্চিমবঙ্গে পলাতক থাকা দলটির প্রভাবশালী নেতারাও মাঝে মধ্যেই যান ওই বাসায়। আওয়ামী শাসনামলের ১৭ বছরে অর্থবিত্তে ফুলেফেঁপে ওঠেন বরিশাল নগরীর বটতলা এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর কবির নানক।

যদিও তিনি এমপি হয়েছিলেন ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে। ২০০৮’র জাতীয় নির্বাচনে দাখিল করা হলফনামায় নিজের ও স্ত্রীর মিলিয়ে মাত্র ৬৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকার সম্পদ থাকার তথ্য দেন নানক। ১৬ বছরের ব্যবধানে ২০২৪’র নির্বাচনে হলফনামায় তিনি দুজনের সম্পদের পরিমাণ দেখান ১৯ কোটি টাকা। দুই হলফনামার এই হিসাবে ৩০ গুণ সম্পদ বাড়ার কথা বলা হলেও বাস্তবে এর চেয়ে বহুগুণ বেশি সম্পদ রয়েছে নানক পরিবারের।

সেসব সম্পদের মূল্য শত কোটি টাকার বেশি। বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ এলাকায় নানক দম্পতির মালিকানায় থাকা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ‘গ্লোবাল ভিলেজ’র কথা উল্লেখ করা হয়নি দাখিল করা ওই হলফনামায়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়ের কোনো হিসাবও দেওয়া হয়নি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে। বরিশালের প্রবেশদ্বার দোয়ারিকা সেতু এলাকায় থাকা ৮ একর জমির কথাও কোথাও বলেননি নানক।

বরিশাল নগরীতে ২টি বাড়ি ও মাছের খামারসহ ২ একর ২২ শতাংশ ভূ-সম্পত্তির কথা হলফনামায় থাকলেও এসব সম্পত্তির অধিকাংশে যে ছোট-বড় ভবন রয়েছে তার যেমন উল্লেখ নেই, তেমনি এসব ভবন থেকে আসা ভাড়ার কথাও হলফনামা তথা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে বলেননি এই আওয়ামী লীগ নেতা। এর বাইরে ঢাকার কলাবাগান এলাকায় বহুতল ভবনসহ কক্সবাজার ও কুয়াকাটায় নামে-বেনামে বিপুল সম্পদ রয়েছে নানকের।

নানকের এসব সম্পদে একটি নখের আঁচড়ও পড়েনি চব্বিশের ৫ আগস্টের পর। বিশেষ করে বরিশাল নগরীর বটতলা এলাকায় থাকা বাড়িতে একটি ঢিলও ছোড়েনি কেউ। ফলে এসব ভবন যেমন রয়েছে বহাল তবিয়তে, তেমনি ভাড়া বাবদ নিয়মিত আদায় হচ্ছে লাখ লাখ টাকা। এর পাশাপাশি বরিশাল নগরীর রুপাতলী, মতাসার, সার্কুলার রোড ও করিম কুটিরসহ বিভিন্ন এলাকায় নানকের জমিতে থাকা ছোট-বড় বাসা-বাড়ি থেকেও ভাড়া বাবদ উঠছে মোটা অংকের টাকা।

সবমিলিয়ে এই টাকার পরিমাণ প্রতি মাসে কোটিরও বেশি। আর এই পুরো টাকাই হুন্ডি হয়ে চলে যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে পালিয়ে থাকা নানকের কাছে। বর্তমানে এই দম্পতিকে মাঝে মধ্যেই দেখা যায় কলকাতার নামিদামি শপিংমলগুলোতে। দেশের মতো বিদেশে পালিয়ে থাকা অবস্থাতেও দামি গাড়িতে চড়া আর বিলাসিতার সবকিছুই ভোগ করছেন তারা। যার জোগান যায় বাংলাদেশ থেকে। প্রতি মাসে মোটা অংকের টাকা বরিশাল আর ঢাকা থেকে নানকের কাছে যায় অবৈধ হুন্ডির মাধ্যমে।

সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ পদ থেকে অবসরে যাওয়ার পর নানকের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি করা এক ব্যক্তি নিয়ন্ত্রণ করেন এর সবকিছু। ৫ আগস্টের পর অবশ্য আন্দোলনের মুখে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি ছাড়তে হয় তাকে। তারপরও যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন ক্ষমতার সময়ে নানকের কাছ থেকে নানা সুবিধা নেওয়া ষাটোর্ধ্ব এই ব্যক্তি। বরিশাল নগরীর সদর রোড ও কাঠপট্টি এলাকার দুই হুন্ডি ব্যবসায়ীর মাধ্যমে সরাসরি ভারতে টাকা যায় নানকের কাছে।

এদের একজন হোটেল ব্যবসায়ী। অন্যজন স্বর্ণের ব্যবসার আড়ালে চালান অবৈধ হুন্ডির ব্যবসা। এখানে থাকা বিশাল ভবনসহ অন্যান্য ছোট-বড় বাড়িগুলোর ভাড়া তুলে সরাসরি দিয়ে দেওয়া হয় ওই দুই হুন্ডি ব্যবসায়ীর কাছে। তারাই তা পশ্চিমবঙ্গে রুপি আকারে নানকের কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করেন। পরিচয় না প্রকাশের শর্তে কিছুদিন আগে পশ্চিমবঙ্গ থেকে দেশে ফেরা আওয়ামী লীগের এক কর্মী যুগান্তরকে বলেন, ‘হুন্ডির মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া টাকা আনতে বাড়ির বাইরে যেতে হয় না নানককে।

নির্ধারিত এজেন্টরা তপসিয়া এলাকার ওই ফ্ল্যাটে গিয়ে পৌঁছে দিয়ে আসেন তা। ৫ আগস্টের পর টানা প্রায় ২ বছর এভাবেই দেখেছি। ওই টাকা দিয়ে রাজকীয় হালে পশ্চিমবঙ্গে দিন কাটাচ্ছেন তিনি। ’ এসব বিষয় নিয়ে কথা বলার জন্য জাহাঙ্গীর কবির নানকের পরিচিত সবগুলো ফোন ও মোবাইল নম্বরে ফোন দেওয়া হলে তার সবগুলোই বন্ধ পাওয়া যায়। হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে খুদে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো উত্তর দেননি তিনি।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

কুমিল্লায় ঘরে ঢুকে যুবলীগ নেতাকে পিটিয়ে হত্যা

কলকাতায় নানকের বিলাসবহুল জীবনযাপন

Update Time : 04:41:26 pm, Sunday, 13 September 2026

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। কলকাতার তপসিয়া এলাকায় বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে স্ত্রীকে নিয়ে রাজকীয় জীবনযাপন করছেন।

এই জৌলুসপুর্ণ জীবন যাপনে দেশ ছেড়ে অন্য দেশে পলাতক থাকার কোনো ছাপ পর্যন্ত নেই। স্ত্রী, মে-মেয়ে জামাইকে নিয়ে আড়ম্বরপূর্ণ, নির্ভার জীবন কাটাচ্ছেন। নিয়মিত স্ত্রীকে নিয়ে কলকাতার নামিদামি বিপনিবিতানে শপিং করছেন। দলের কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে সভা করছেন নিয়মিত। পুরোদমে চলছে মৌজ-মাস্তি। দেশে থাকা নানকের বিভিন্ন ব্যবসা ও সম্পত্তি থেকে প্রতি মাসে কোটি টাকার বেশি আয় হুন্ডির মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে তার কাছে পাঠানো হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন ঘনিষ্ঠজন ও সংশ্লিষ্টদের কয়েকজন।

দুই বছর ধরে এভাবেই দেশে থাকা সম্পদের আয় ভারতে পাচার করে বিলাসী জীবন কাটাচ্ছেন নানক। তার বিলাসী জীবনে টাকার যোগান দেন কয়েকজন ঘনিষ্ঠ। এই টাকার জোরেই পলাতক জীবনেও রাজার হালে তার জীবন কাটছে বলে জানিয়েছেন নানকের একাধিক ঘনিষ্ঠ সূত্র। স্ত্রী সৈয়দা আরজুমান্দ বানু এবং মেয়ে এস আমরিন রাখিও বর্তমানে রয়েছেন ভারতে। অবশ্য রাখি ও তার স্বামী থাকেন না নানকের সঙ্গে।

মাঝে মধ্যে এসে দেখা করে যান বাবা-মায়ের সঙ্গে। তপসিয়া এলাকার ওই ফ্ল্যাটে বসেই দেশে দলের নানা কর্মকাণ্ড পরিচালনা আর মাঝে মধ্যে ভিডিও বার্তা দেন পলাতক এই নেতা। পশ্চিমবঙ্গে পলাতক থাকা দলটির প্রভাবশালী নেতারাও মাঝে মধ্যেই যান ওই বাসায়। আওয়ামী শাসনামলের ১৭ বছরে অর্থবিত্তে ফুলেফেঁপে ওঠেন বরিশাল নগরীর বটতলা এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর কবির নানক।

যদিও তিনি এমপি হয়েছিলেন ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে। ২০০৮’র জাতীয় নির্বাচনে দাখিল করা হলফনামায় নিজের ও স্ত্রীর মিলিয়ে মাত্র ৬৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকার সম্পদ থাকার তথ্য দেন নানক। ১৬ বছরের ব্যবধানে ২০২৪’র নির্বাচনে হলফনামায় তিনি দুজনের সম্পদের পরিমাণ দেখান ১৯ কোটি টাকা। দুই হলফনামার এই হিসাবে ৩০ গুণ সম্পদ বাড়ার কথা বলা হলেও বাস্তবে এর চেয়ে বহুগুণ বেশি সম্পদ রয়েছে নানক পরিবারের।

সেসব সম্পদের মূল্য শত কোটি টাকার বেশি। বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ এলাকায় নানক দম্পতির মালিকানায় থাকা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ‘গ্লোবাল ভিলেজ’র কথা উল্লেখ করা হয়নি দাখিল করা ওই হলফনামায়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়ের কোনো হিসাবও দেওয়া হয়নি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে। বরিশালের প্রবেশদ্বার দোয়ারিকা সেতু এলাকায় থাকা ৮ একর জমির কথাও কোথাও বলেননি নানক।

বরিশাল নগরীতে ২টি বাড়ি ও মাছের খামারসহ ২ একর ২২ শতাংশ ভূ-সম্পত্তির কথা হলফনামায় থাকলেও এসব সম্পত্তির অধিকাংশে যে ছোট-বড় ভবন রয়েছে তার যেমন উল্লেখ নেই, তেমনি এসব ভবন থেকে আসা ভাড়ার কথাও হলফনামা তথা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে বলেননি এই আওয়ামী লীগ নেতা। এর বাইরে ঢাকার কলাবাগান এলাকায় বহুতল ভবনসহ কক্সবাজার ও কুয়াকাটায় নামে-বেনামে বিপুল সম্পদ রয়েছে নানকের।

নানকের এসব সম্পদে একটি নখের আঁচড়ও পড়েনি চব্বিশের ৫ আগস্টের পর। বিশেষ করে বরিশাল নগরীর বটতলা এলাকায় থাকা বাড়িতে একটি ঢিলও ছোড়েনি কেউ। ফলে এসব ভবন যেমন রয়েছে বহাল তবিয়তে, তেমনি ভাড়া বাবদ নিয়মিত আদায় হচ্ছে লাখ লাখ টাকা। এর পাশাপাশি বরিশাল নগরীর রুপাতলী, মতাসার, সার্কুলার রোড ও করিম কুটিরসহ বিভিন্ন এলাকায় নানকের জমিতে থাকা ছোট-বড় বাসা-বাড়ি থেকেও ভাড়া বাবদ উঠছে মোটা অংকের টাকা।

সবমিলিয়ে এই টাকার পরিমাণ প্রতি মাসে কোটিরও বেশি। আর এই পুরো টাকাই হুন্ডি হয়ে চলে যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে পালিয়ে থাকা নানকের কাছে। বর্তমানে এই দম্পতিকে মাঝে মধ্যেই দেখা যায় কলকাতার নামিদামি শপিংমলগুলোতে। দেশের মতো বিদেশে পালিয়ে থাকা অবস্থাতেও দামি গাড়িতে চড়া আর বিলাসিতার সবকিছুই ভোগ করছেন তারা। যার জোগান যায় বাংলাদেশ থেকে। প্রতি মাসে মোটা অংকের টাকা বরিশাল আর ঢাকা থেকে নানকের কাছে যায় অবৈধ হুন্ডির মাধ্যমে।

সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ পদ থেকে অবসরে যাওয়ার পর নানকের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি করা এক ব্যক্তি নিয়ন্ত্রণ করেন এর সবকিছু। ৫ আগস্টের পর অবশ্য আন্দোলনের মুখে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি ছাড়তে হয় তাকে। তারপরও যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন ক্ষমতার সময়ে নানকের কাছ থেকে নানা সুবিধা নেওয়া ষাটোর্ধ্ব এই ব্যক্তি। বরিশাল নগরীর সদর রোড ও কাঠপট্টি এলাকার দুই হুন্ডি ব্যবসায়ীর মাধ্যমে সরাসরি ভারতে টাকা যায় নানকের কাছে।

এদের একজন হোটেল ব্যবসায়ী। অন্যজন স্বর্ণের ব্যবসার আড়ালে চালান অবৈধ হুন্ডির ব্যবসা। এখানে থাকা বিশাল ভবনসহ অন্যান্য ছোট-বড় বাড়িগুলোর ভাড়া তুলে সরাসরি দিয়ে দেওয়া হয় ওই দুই হুন্ডি ব্যবসায়ীর কাছে। তারাই তা পশ্চিমবঙ্গে রুপি আকারে নানকের কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করেন। পরিচয় না প্রকাশের শর্তে কিছুদিন আগে পশ্চিমবঙ্গ থেকে দেশে ফেরা আওয়ামী লীগের এক কর্মী যুগান্তরকে বলেন, ‘হুন্ডির মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া টাকা আনতে বাড়ির বাইরে যেতে হয় না নানককে।

নির্ধারিত এজেন্টরা তপসিয়া এলাকার ওই ফ্ল্যাটে গিয়ে পৌঁছে দিয়ে আসেন তা। ৫ আগস্টের পর টানা প্রায় ২ বছর এভাবেই দেখেছি। ওই টাকা দিয়ে রাজকীয় হালে পশ্চিমবঙ্গে দিন কাটাচ্ছেন তিনি। ’ এসব বিষয় নিয়ে কথা বলার জন্য জাহাঙ্গীর কবির নানকের পরিচিত সবগুলো ফোন ও মোবাইল নম্বরে ফোন দেওয়া হলে তার সবগুলোই বন্ধ পাওয়া যায়। হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে খুদে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো উত্তর দেননি তিনি।