বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কার্যালয়ে দালাল ছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্স মিলছে না বলে অভিযোগ করেছেন সেবাপ্রার্থীরা। তাদের দাবি, দালালের দৌরাত্ম্য ও হয়রানি কমাতে অনলাইন সেবা চালু করা হলেও কাজ সম্পন্ন করতে বারবার কার্যালয়েই আসতে হচ্ছে। ফলে চরম ভোগান্তি এড়াতে শেষ পর্যন্ত দালালদের ওপরই ভরসা করতে হচ্ছে তাদের।
বিআরটিএ কার্যালয় থেকে যানবাহন ও মোটরসাইকেল নিবন্ধন, রুট পারমিট এবং ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ বিভিন্ন সেবা নেন গ্রাহকরা। তবে, এসব সেবা পেতে দীর্ঘসূত্রিতা ও হয়রানির অভিযোগ গ্রাহকদের।
লক্ষ্মীপুরে সেবাপ্রার্থীদের অভিযোগ, সরকার নির্ধারিত ফি’র বাইরে ড্রাইভিং লাইসেন্সে সাত থেকে ১০ হাজার এবং মোটরসাইকেল নিবন্ধনে পাঁচ থেকে সাত হাজার টাকা অতিরিক্ত নেওয়া হচ্ছে। তাদের দাবি, দালালচক্র ছাড়াও বিআরটিএ কার্যালয় ঘিরেও রয়েছে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য।
একজন ভুক্তভোগী বলেন, টাকা–পয়সা দিলে সবকিছু সম্ভব। যারা টাকা দিচ্ছে না, তারা হয়রানির শিকার হচ্ছে।
একই অভিযোগ কিশোরগঞ্জের বিআরটিএ কার্যালয়ে সেবা নিতে আসা বেশিরভাগ লোকদের। তবে, অভিযোগ অস্বীকার কোরে জেলা বিআরটিএ কর্মকর্তা জানান, সবই চলছে সরকারের সঠিক নিয়মে।
কিশোরগঞ্জের বিআরটিএ সহকারী পরিচালক মো. কামরুজ্জামান বলেন, এখন লাইসেন্স করার জন্য অফিসে আর আসতে হয় না। সব পরীক্ষা দিলে ওইদিনই অনলাইনে রেজাল্ট হয়ে যায়। অভিযোগের বিষয়টা সত্যি না।
ড্রাইভিং লাইসেন্সের হয়রানি কমাতে কয়েক বছর আগে চালু হয় অনলাইন সেবা। তবে, রাজশাহী বিআরটিএ কার্যালয়ে সেবাপ্রার্থীদের অভিযোগ, নিয়ম মেনে অনলাইনে আবেদন করেও কাজ শেষ করতে বারবার অফিসে আসতে হয়। ভোগান্তি এড়াতে শেষ পর্যন্ত অনেকে শরণাপন্ন হন দালালের।
তবে, অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ।
বিআরটিএর রাজশাহী বিভাগীয় অফিসের পরিচালক পার্কন চৌধুরী বলেন, আমাদের ভ্রাম্যমাণ টিম আছে, জেলা প্রশাসনের টিম আছে, যাচাইবাছাই হয়। উচ্চ পর্যায়ে এটা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।
দালালমুক্ত পরিবেশের পাশাপাশি দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিতের দাবি সেবাপ্রার্থীদের।
(প্রতিবেদনে তথ্য দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট জেলার প্রতিনিধিরা)


















