শৈশব থেকেই অভিনয়ের প্রতি এক ধরনের সুপ্ত ভালোবাসা ছিল তরুণ অভিনেত্রী নুসরাত আফরিন উইমনার। তবে লাক্স সুপারস্টার প্ল্যাটফর্মটি তাকে সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার সঠিক পথ দেখিয়েছে। মাত্র কয়েকদিনের ক্যারিয়ারেই নির্মাতাদের পছন্দের তালিকায় জায়গা করে নিচ্ছেন এই নবাগতা।
লাক্সের মঞ্চের রেশ কাটতে না কাটতেই উইমনা পা রাখেন অভিনয়ের মূল আঙিনায়। ‘মনের মাঝে তুমি’ নাটকের মাধ্যমে প্রধান অভিনেত্রী হিসেবে তার অভিষেক ঘটে। প্রথম নাটকেই এক লড়াকু ও স্বপ্নবাজ তরুণীর চরিত্রে অভিনয় করে তিনি দারুণ প্রশংসা কুড়ান। এরপর আরও কয়েকটি নাটকে কাজ করেছেন। সম্প্রতি কাজ করেছেন পরিচালক সানজিদ খান প্রিন্সের ‘এভাবেও প্রেম আসে’ টেলিফিল্মে।
পারভেজ ইমামের নিখাঁদ ও জীবনমুখী চিত্রনাট্যে এবার তার জুটি গড়ে উঠেছে এই প্রজন্মের ব্যস্ত অভিনেতা প্রান্তর দস্তিদারের সঙ্গে। খুব শিগগিরই টেলিফিল্মটি প্রচারে আসবে। সামনে নতুন কাজের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে রূপালী বাংলাদেশকে জানিয়েছেন উইমনা। এই অভিনেত্রী মনে করেন ‘লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টার’ প্রতিযোগিতার জার্নিটা তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।
সে কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টার যে কত বড় প্ল্যাটফর্ম, তা আমাদের ইন্ডাস্ট্রির সফল অভিনেত্রীদের দেখলেই বোঝা যায়। তবে এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার কোনো পূর্বপরিকল্পনা আমার ছিল না; অনেকটা হুট করেই মজাচ্ছলে রেজিস্ট্রেশন করা। কিন্তু এই মঞ্চে আসার পরেই জীবন বদলে যায়। গুণী মেন্টরদের সান্নিধ্য ও গ্রুমিংয়ের মাধ্যমে আবিষ্কার করি ক্যামেরার সামনে কাজ করা আর অভিনয়ের প্রতি আমার লুকিয়ে থাকা আবেগ।
এই প্রতিযোগিতা আমাকে আত্মবিশ্বাসী করেছে এবং অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্বদের কাছ থেকে শেখার সেরা সুযোগটি দিয়েছে। হাজার হাজার প্রতিযোগীর ভিড় থেকে ফাইনালিস্ট কাতারে দাঁড়িয়ে নিজের মেধা দেখাতে পেরেছিÑ এই জন্য আমি নিজেকে অত্যন্ত ভাগ্যবান ও কৃতজ্ঞ মনে করি।
’ প্রতিযোগিতার গ্ল্যামার জগৎটা উইমনাকে নাটকের সেটে কাজের ক্ষেত্রে দারুণভাবে সাহায্য করছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যেহেতু মিডিয়া বা অভিনয়ের সঙ্গে আমার পূর্ব কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না, তাই সেটে যাওয়ার আগে যে প্রাথমিক জ্ঞানটুকু দরকার ছিল, তার পুরোটাই আমি এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে অর্জন করেছি। প্রতিযোগিতাটা যেহেতু অনেক লম্বা একটা সময় ধরে চলেছে তাই দীর্ঘ সময় ধরে টানা ক্যামেরার সামনে থাকার ফলে যে আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছিল, তার কারণেই আজ খুব অনায়াসে নাটকের সেটে কাজ করতে পারছি।
অভিজ্ঞতাটা সত্যিই অসাধারণ। একসময় প্রতিযোগী হিসেবে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছিলাম, আর আজ একজন শিল্পী হিসেবে কাজ করছি এই অনুভূতি ও অভিজ্ঞতা বলে বোঝানোর মতো নয়। ’ অভিনয়ের শুরুর দিকের কথা উল্লেখ করে এই অভিনেত্রী বলেন, ‘অভিনয়ের শুরুর কথা বললে একদম অডিশনের সেগমেন্টের কথাই বলতে হয়। আমাকে ইনস্ট্যান্ট একটা চরিত্র দেওয়া হয় অথচ এর আগে জীবনে কখনো আমি অভিনয় করিনি!
তবে ছোটবেলা থেকেই অবসর পেলেই সিনেমা-সিরিজ দেখতাম, যা এখনো আমার দারুণ পছন্দের। হয়তো সেই দেখার অভ্যাসটাই ওদিন কাজ দিয়েছিল। অডিশনে জাজদের কাছ থেকেÑ বিশেষ করে রায়হান রাফি স্যার, জয়া আহসান ও মেহজাবীন চৌধুরী ম্যামের থেকে অনেক প্রশংসা পাই। তখনই ভেতরে প্রথম কনফিডেন্স এলো যেÑ আমিও হয়তো অভিনয়টা পারি! ’ নিজের স্বপ্নের কথা জানিয়ে উইমনা বলেন, ‘আমি নিজেকে একজন দক্ষ ও গুণী অভিনেত্রী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই, যার অভিনয় দর্শকদের মন ছোঁবে এবং কাজগুলো মানুষ দীর্ঘদিন মনে রাখবে।
বিপাশা হায়াত, শমী কায়সার কিংবা সুবর্ণা মোস্তফা তাদের দিকে তাকালে যেমন আজও মানুষ শ্রদ্ধার সঙ্গে তাদের নাম স্মরণ করে, আমিও কাজের মাধ্যমে ঠিক তেমন একটি প্রভাব ফেলে যেতে চাই। আমাদের চারপাশের নেতিবাচকতার ভিড়ে বিনোদন মাধ্যম মানুষের কাছে পজিটিভ মেসেজ পৌঁছানোর শক্তিশালী একটি পথ। তাই এমন সব কাজ করতে চাই, যা সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং মানুষকে ভালো কিছু অনুভূতির সঙ্গে যুক্ত রাখবে।
’ শৈশব থেকেই অভিনয়ে আসার স্বপ্ন ছিল কিনা জানতে চাইলে এই তরুণী বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে অভিনয়ের কোনো স্বপ্ন ছিল না; বরং আমার লক্ষ্য ছিল বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার হওয়া। এখন সেই স্বপ্নের সঙ্গে আরেকটা স্বপ্ন যুক্ত হয়েছে একজন গুণী অভিনেত্রী হওয়া। আমি একটা উদাহরণ তৈরি করতে চাই যে, নিজের শক্ত শিক্ষাগত যোগ্যতা ঠিক রেখেই শিল্প-সংস্কৃতি চর্চা করা সম্ভব এবং সফল আর্টিস্ট হওয়া যায়।
অনেকেই মনে করেন এই জগতে এলে পড়াশোনার ক্ষতি হয়। কিন্তু সঠিক পরিকল্পনা আর রুটিন মেনে চললে সব সামলানো সম্ভব। তাই স্বপ্ন এখন দুটোই পড়াশোনা শেষ করে ইঞ্জিনিয়ার হওয়া, আর পাশাপাশি নিজেকে একজন অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। ’ সামনে কী ধরনের চরিত্রে নিজেকে দেখার ইচ্ছে আছে, জানতে চাইলে উইমনা বলেন, ‘রোমান্টিক গল্পগুলো অবশ্যই চমৎকার এবং দর্শক পছন্দও করেন কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে থ্রিলার, ট্র্যাজিক স্টোরি আর অ্যাকশন-থ্রিলারে কাজ করার দারুণ ইচ্ছে আছে।
ছোটবেলা থেকেই মার্ভেলের ভক্ত হওয়ায় একটু ভিন্নধর্মী ও চ্যালেঞ্জিং কিছু করার টান অনুভব করি। তবে ভিন্ন ভিন্ন ঘরানায় নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করতেই আগ্রহ। ’ আপাতত বড় পর্দা নিয়ে না ভাবলেও ওটিটি প্ল্যাটফর্মে কাজের আগ্রহ রয়েছে উইমনার। বললেন, ‘ওটিটিতে অবশ্যই কাজ করতে চাই; ভালো গল্প আর গুণী পরিচালকের কাজ হলে যেকোনো সময় নিজেকে সেখানে যুক্ত করার ইচ্ছে আছে।
তবে বড় পর্দা নিয়ে এখনই ভাবছি না। আমার মনে হয় সিনেমা একটি অনেক বড় ক্যানভাস ও দায়িত্বের জায়গা। সেখানে নিজেকে উপস্থাপন করার আগে প্রচুর প্রস্তুতি ও শেখার প্রয়োজন আছে। আমি যেহেতু একদম নতুন, প্রতিদিন নতুন কিছু শিখছি, তাই পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়া হুট করে সেই পদক্ষেপে যেতে চাই না। যখন মনে হবে আমি পুরোপুরি প্রস্তুত, তখনই ইনশাআল্লাহ বড় পর্দায় কাজ শুরু করব।






















