আজ রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২৯ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ৩০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
৩২°C
সর্বোচ্চ: ৩২°C
সর্বনিম্ন: ২৬°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৬৯%

জামালপুরে স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও হয়নি সেতু, ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের সাঁকোই ১০ গ্রামের ভরসা

  • MIT ERP
  • Update Time : 11:13:20 am, Sunday, 13 September 2026
  • 8

জামালপুরে স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও হয়নি সেতু, ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের সাঁকোই ১০ গ্রামের ভরসা

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

স্বাধীনতার ৫৫ বছর পার হলেও জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার রৌহা-চুনিয়াপটল এলাকায় যমুনার শাখা ঝিনাই নদীর ওপর কোনো স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হয়নি। এর ফলে বর্ষা ও শুষ্ক উভয় মৌসুমেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রায় ২০০ মিটার দীর্ঘ একটি নড়বড়ে কাঠের সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করছেন ১০টি গ্রামের হাজারো মানুষ।

স্থানীয়দের উদ্যোগ ও অর্থায়নে নির্মিত এই কাঠের সাঁকোটি এখন চুনিয়াপটল, রৌহা, নান্দিনা, সিংগুয়া, লোটাবর, হাটবারি, সিধুলীসহ আশপাশের গ্রামের মানুষের একমাত্র ভরসা। প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, পথচারী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ প্রায় ২০ থেকে ৩০ হাজার মানুষ এই সাঁকো ব্যবহার করেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তবে জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকোটি দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন মানুষ।

সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়তে হয় শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীদের। সাঁকোর কারণে অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি কোনো যানবাহন গ্রামে প্রবেশ করতে পারে না। ফলে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের সময়মতো হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয় না। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বেড়ে গেলে কাঠের সাঁকোটিও অনেক সময় পানিতে ডুবে যায়। তখন শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের নদী পারাপার আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

জীবনের ঝুঁকি নিয়েই নৌকা কিংবা পানির মধ্য দিয়ে চলাচল করতে হয় তাদের। সেতুর অভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এলাকার কৃষকরা। স্থানীয় কৃষকরা পাট, ধান, মরিচসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করলেও সময়মতো হাট-বাজারে তা নিয়ে যেতে পারেন না। পরিবহন সংকট ও অতিরিক্ত ঝুঁকির কারণে অনেক সময় ক্ষেত থেকেই কম দামে কৃষিপণ্য বিক্রি করতে বাধ্য হন তারা।

এতে ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষকরা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত যত নির্বাচন হয়েছে, প্রতিটি নির্বাচনেই বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা ভোটের সময় এই খেয়াঘাটে এসে স্থায়ী সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কিন্তু নির্বাচন শেষ হওয়ার পর আর কেউ তাদের খোঁজ নেননি। দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে বর্তমান সরকারের কাছে দ্রুত স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয় বাসিন্দা মানিক মিয়া বলেন, বছরের পর বছর ধরে আমরা এই ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো দিয়ে চলাচল করছি। নির্বাচন এলেই ব্রিজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, কিন্তু পরে আর কোনো উদ্যোগ দেখা যায় না। আমরা আর আশ্বাস চাই না, দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু চাই। এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী উপজেলা প্রকৌশলী কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া তমাল বলেন, যমুনার শাখা নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের জরুরি প্রয়োজন রয়েছে।

সেতু নির্মাণের জন্য একটি প্রস্তাবনা তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য বাড়াতে লন্ডনে ট্রেড সেন্টার চালুর উদ্যোগ বিবিসিসিআইয়ের

জামালপুরে স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও হয়নি সেতু, ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের সাঁকোই ১০ গ্রামের ভরসা

Update Time : 11:13:20 am, Sunday, 13 September 2026

স্বাধীনতার ৫৫ বছর পার হলেও জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার রৌহা-চুনিয়াপটল এলাকায় যমুনার শাখা ঝিনাই নদীর ওপর কোনো স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হয়নি। এর ফলে বর্ষা ও শুষ্ক উভয় মৌসুমেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রায় ২০০ মিটার দীর্ঘ একটি নড়বড়ে কাঠের সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করছেন ১০টি গ্রামের হাজারো মানুষ।

স্থানীয়দের উদ্যোগ ও অর্থায়নে নির্মিত এই কাঠের সাঁকোটি এখন চুনিয়াপটল, রৌহা, নান্দিনা, সিংগুয়া, লোটাবর, হাটবারি, সিধুলীসহ আশপাশের গ্রামের মানুষের একমাত্র ভরসা। প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, পথচারী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ প্রায় ২০ থেকে ৩০ হাজার মানুষ এই সাঁকো ব্যবহার করেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তবে জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকোটি দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন মানুষ।

সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়তে হয় শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীদের। সাঁকোর কারণে অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি কোনো যানবাহন গ্রামে প্রবেশ করতে পারে না। ফলে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের সময়মতো হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয় না। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বেড়ে গেলে কাঠের সাঁকোটিও অনেক সময় পানিতে ডুবে যায়। তখন শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের নদী পারাপার আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

জীবনের ঝুঁকি নিয়েই নৌকা কিংবা পানির মধ্য দিয়ে চলাচল করতে হয় তাদের। সেতুর অভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এলাকার কৃষকরা। স্থানীয় কৃষকরা পাট, ধান, মরিচসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করলেও সময়মতো হাট-বাজারে তা নিয়ে যেতে পারেন না। পরিবহন সংকট ও অতিরিক্ত ঝুঁকির কারণে অনেক সময় ক্ষেত থেকেই কম দামে কৃষিপণ্য বিক্রি করতে বাধ্য হন তারা।

এতে ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষকরা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত যত নির্বাচন হয়েছে, প্রতিটি নির্বাচনেই বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা ভোটের সময় এই খেয়াঘাটে এসে স্থায়ী সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কিন্তু নির্বাচন শেষ হওয়ার পর আর কেউ তাদের খোঁজ নেননি। দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে বর্তমান সরকারের কাছে দ্রুত স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয় বাসিন্দা মানিক মিয়া বলেন, বছরের পর বছর ধরে আমরা এই ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো দিয়ে চলাচল করছি। নির্বাচন এলেই ব্রিজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, কিন্তু পরে আর কোনো উদ্যোগ দেখা যায় না। আমরা আর আশ্বাস চাই না, দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু চাই। এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী উপজেলা প্রকৌশলী কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া তমাল বলেন, যমুনার শাখা নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের জরুরি প্রয়োজন রয়েছে।

সেতু নির্মাণের জন্য একটি প্রস্তাবনা তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে।