সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অপতথ্য, গুজব ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট মোকাবিলায় সাংবাদিকদের আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। শনিবার কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় সাংবাদিকদের জন্য আয়োজিত মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকতা, ফ্যাক্টচেকিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিষয়ক তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের ভুল-ত্রুটি থাকলে সাংবাদিকরা অবশ্যই তা তুলে ধরবেন। তবে অপপ্রচার বা অপতথ্যের মাধ্যমে নয়, তথ্যনির্ভর ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমেই তা করতে হবে। তিনি বলেন, এই প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য শুধু সনদ দেওয়া নয়; বরং সাংবাদিকদের ফ্যাক্টচেকিং, ডিসইনফরমেশন ও মিসইনফরমেশন মোকাবিলায় দক্ষ করে তোলা। বাংলাদেশে যেভাবে অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে, তা প্রতিরোধে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইয়াসের খান চৌধুরী আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশের প্রায় সব পরিচিত ব্যক্তিই কোনো না কোনো সময় অপপ্রচারের শিকার হয়েছেন। বিশেষ করে নারী ও কিশোরীদের ছবি বিকৃত করে এআই-নির্ভর ভুয়া ভিডিও ছড়িয়ে তাদের হেয়প্রতিপন্ন করা হচ্ছে, যা মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। তিনি জানান, প্রকৃত সাংবাদিকদের জন্য দুই বছর মেয়াদি মাস্টার্স কোর্স, এআইভিত্তিক সাংবাদিকতাসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
প্রেস ক্লাবগুলোর মাধ্যমে সাংবাদিকদের তালিকা তৈরি করে পর্যায়ক্রমে সারাদেশে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে। প্রথম ধাপে ময়মনসিংহ বিভাগ, বগুড়া, ফেনী ও ঢাকার আশপাশের জেলাগুলোতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাংবাদিক কল্যাণের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এ সহায়তার পরিধি বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে প্রক্রিয়া চলছে।
দেশের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিতে চাই না যে পাঁচ বছরে বাংলাদেশকে সিঙ্গাপুর বানিয়ে দেব। তবে দেশকে আরও উন্নত ও সুন্দর রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি। গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রসঙ্গে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণমাধ্যমে যে স্বাধীনতা রয়েছে, তা অব্যাহত থাকবে।
একই সঙ্গে তিনি রাষ্ট্র ও গণতন্ত্র রক্ষায় দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার ভূমিকা জোরদারের আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুকিত সরকার, হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেকসোনা খাতুন, হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলামসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
নবম পে-স্কেল নিয়ে সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত, আসছে বড় পরিবর্তন ‘নবম জাতীয় পে-স্কেল ২০২৬’ বাস্তবায়নে নতুন বেতন কাঠামোর পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণির সরকারি চাকরিজীবীর জন্য ৭টি পৃথক বিধিবদ্ধ নিয়ন্ত্রক আদেশ (এসআরও) জারি করতে যাচ্ছে সরকার। একই সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন অনলাইনে নির্ধারণে আইবাস প্লাস প্লাস ব্যবস্থাকে প্রস্তুত করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রজ্ঞাপন জারির পরই পে-স্কেল বাস্তবায়নের কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে প্রজ্ঞাপনের খসড়া আইনগত পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। ভেটিং শেষ হলে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। নতুন কাঠামো বাস্তবায়নে ৭টি পৃথক এসআরও থাকবে। এগুলোতে বিভিন্ন শ্রেণি ও প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা এবং সংশ্লিষ্ট বিধান আলাদাভাবে নির্ধারণ করা হবে।
ক্ষেত্রগুলো হলো-বেসামরিক প্রশাসন, পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, সশস্ত্র বাহিনী এবং বিচার বিভাগ। অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এক জাতীয় দৈনিককে বলেন, প্রজ্ঞাপন জারির পরই বাস্তবায়নের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে। বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন কাঠামো প্রয়োগের ক্ষেত্রে কারিগরি ও প্রশাসনিক পার্থক্য বিবেচনায় নিয়ে পৃথক এসআরও প্রস্তুত করা হচ্ছে।
প্রজ্ঞাপন জারির পর সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে বাস্তবায়নের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।


















