গ্ল্যামার, খ্যাতি আর রাজকীয় লাইফস্টাইল—ওপর থেকে বলিউড তারকাদের জীবনটা এমনই দেখায়। কিন্তু লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশনের পেছনের গল্পটা সব সময় এত সহজ হয় না। সম্প্রতি বলিপাড়ায় শুটিংয়ের দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং তারকাদের ওপর মানসিক চাপ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
এই বিতর্কের মাঝেই নিজের জীবনের এক কঠিন ও আবেগঘন সত্য প্রকাশ করলেন বলিউড ডিভা প্রীতি জিনতা। জানালেন, ক্যারিয়ারের একটা সময়ে এসে তিনি দিনে টানা ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করেছেন। তবে এর নেপথ্যে কোনো পেশাদারি বাধ্যবাধকতা ছিল না; বরং জড়িয়ে ছিল এক মায়ের আবেগ। সম্প্রতি মুম্বাইয়ে তার আসন্ন স্পাই-কমেডি সিনেমা ‘ভাইব’-এর ট্রেলার প্রকাশ অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে নিজের এই গোপন তথ্যটি শেয়ার করেন অভিনেত্রী।
বর্তমানে প্রীতি জিনতা তার স্বামী জিন গুডএনাফ এবং যমজ সন্তান জয় ও জিয়ার সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। দীর্ঘ বিরতির পর কুণাল খেমু পরিচালিত ‘ভাইব’ সিনেমার মাধ্যমে তিনি আবারও বলিউডের বড় পর্দায় কামব্যাক করছেন। এই সিনেমার শুটিংয়ের জন্যই তাকে আমেরিকা থেকে ভারতে আসতে হয়েছিল। প্রীতি জানান, ভারতে আসার পর তার মাথায় সারাক্ষণ একটাই চিন্তা ঘুরপাক খেতÑকত দ্রুত কাজ শেষ করে আমেরিকায় সন্তানদের কাছে ফিরে যাওয়া যায়।
তিনি বলেন, ‘আমি একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ভারতে এসেছিলাম। আমার উদ্দেশ্য ছিল যত দ্রুত সম্ভব শুটিং শেষ করা। তাই আমি দিনে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করেছি। ’ ১৮ ঘণ্টার শিফটে কাজ করার কারণে ভারতে থাকার সময়টায় কোনো বাড়তি সামাজিকতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাননি প্রীতি। শুটিং সেট থেকে সোজা হোটেল রুম, আর ঘুম থেকে উঠেই আবার ক্যামেরাÑএটাই ছিল তার প্রতিদিনের রুটিন।
একজন মা হিসেবে সন্তানদের ছেড়ে দূরে থাকার যে মানসিক কষ্ট, তা ভুলতেই তিনি নিজেকে পুরোপুরি কাজের মধ্যে ডুবিয়ে রেখেছিলেন। বর্তমানে বলিউডে কাজের দীর্ঘ সময় এবং কলাকুশলীদের ওপর চাপ নিয়ে যে বিতর্ক চলছে, সে বিষয়েও মুখ খোলেন প্রীতি। তিনি মনে করেন, কর্মঘণ্টা নিয়ে সবার পরিস্থিতি এক নয়। প্রীতি বলেন, ‘প্রত্যেক মানুষের কাজের পরিস্থিতি এবং ব্যক্তিগত জীবন আলাদা।
আমার পরিস্থিতি এমন ছিল যে সন্তানদের জন্য আমাকে এই কঠিন শিফটে কাজ করতে হয়েছে। পরিস্থিতি কঠিন হলেও পরিস্থিতি অনুযায়ী আমাদের মানিয়ে নিতে হয়। ’ ‘ভাইব’ সিনেমায় প্রীতিকে একেবারে নতুন এক অ্যাকশন অবতারে দেখা যাবে। অ্যাকশন দৃশ্যের জন্য তাকে যেমন শারীরিক কসরত করতে হয়েছে, তেমনই সন্তানদের থেকে দূরে থাকার মানসিক যুদ্ধটাও লড়তে হয়েছে পর্দার পেছনের এই ‘সুপারমম’কে।
মায়ের এই ত্যাগ ও কঠোর পরিশ্রম রুপালি পর্দায় কতটা সফল হয়, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় তার ভক্তরা।
















