মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছোট ছেলে ব্যারন ট্রাম্প এখন অনেকটাই জনসমাগম এড়িয়ে চলছেন। ২০ বছর বয়সি এই তরুণকে ঘিরে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা, আর পরিবারের ঘনিষ্ঠজনদের দাবি, প্রাণনাশের আশঙ্কায় তিনি প্রায় বাইরে বেরই হন না।
খবর নিউইয়র্ক পোস্টের। নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে দ্বিতীয় বর্ষ শেষ করা ব্যারনের বেশিরভাগ সময় কাটছে নিউজার্সির বেডমিনস্টারে অবস্থিত ট্রাম্প ন্যাশনাল গলফ ক্লাবে। সেখানে তিনি মা মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গেই থাকছেন বলে জানা গেছে। ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে একাধিক প্রাণঘাতী হামলার ঘটনার পর থেকেই পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।
২০২৪ সালের জুলাইয়ের পর অন্তত তিনটি হত্যাচেষ্টা থেকে রক্ষা পেয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরই মধ্যে ব্যারনও হুমকির লক্ষ্যবস্তু হয়েছেন। সম্প্রতি ইরানের একটি গোষ্ঠী ব্যারনকে খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করে। সেখানে তার মাথার জন্য ১ কোটি ডলারের পুরস্কার ঘোষণার দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে ট্রাম্পের স্ত্রী মেলানিয়াকেও হুমকির আওতায় রাখা হয়েছে।
এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে রক্ষণশীল রাজনৈতিক কর্মী চার্লি কার্ক নিহত হওয়ার ঘটনাতেও ব্যারন গভীরভাবে বিচলিত হন বলে জানা যায়। কার্কের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা ছিল। বাবাকে ঘটনাটি জানানোর সময় ব্যারন নাকি বলেছিলেন, বাইরে বের হলে এমন বিপদের মুখোমুখি হতে হয়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে ব্যারনের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে তথ্য প্রকাশ না করতে সংবাদমাধ্যম ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি মেলানিয়ার দপ্তর থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ছেলের নিরাপত্তা নিয়ে মেলানিয়া বরাবরই অত্যন্ত সতর্ক। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় ২০২২ সালে ১৬ বছর বয়সি ব্যারনের জন্য সিক্রেট সার্ভিস নিরাপত্তা বন্ধ হওয়ার কথা থাকলেও মেলানিয়ার অনুরোধে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সেই নিরাপত্তা অব্যাহত রাখার ব্যবস্থা করেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যারনের এভাবে ব্যক্তিগত পরিসরে থাকা নিজেই কোনো মানসিক সমস্যার লক্ষণ নয়।
সাইকোথেরাপিস্ট ড. আজিতা সায়ানের ভাষায়, নির্জন জীবন বেছে নেওয়া মানেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হওয়া নয়; বরং নিজের নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত জীবনকে গুরুত্ব দেওয়ার একটি উপায়ও হতে পারে। ট্রাম্প পরিবারের অন্য সন্তান ডন জুনিয়র, এরিক, ইভানকা ও টিফানিকে নিয়মিতই জনসমক্ষে দেখা যায়। ব্যবসা কিংবা রাজনীতির কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তারা সক্রিয়।
ব্যারনের অবস্থান একেবারেই আলাদা। ৬ ফুট ৯ ইঞ্চি উচ্চতার ব্যারনের জন্য ট্রাম্প পরিবারের বিভিন্ন বাসভবনে আলাদা ও বিশেষভাবে সাজানো ব্যক্তিগত জায়গা রয়েছে। হোয়াইট হাউসে তার জন্য কাস্টমাইজড আসবাবসহ কক্ষ, ট্রাম্প টাওয়ারে পৃথক ফ্লোর এবং মার-আ-লাগোতে নিজস্ব স্যুট থাকার কথা জানা যায়। বাইরে কোথাও গেলেও তিনি সাধারণত গাড়ি থেকে নেমে সরাসরি ব্যক্তিগত পরিসরে চলে যান।
রাজনীতির প্রতি আগ্রহের চেয়ে ব্যবসার দিকেই ব্যারনের ঝোঁক বেশি বলে জানা গেছে। স্কুলজীবনের বন্ধুদের সঙ্গে হার্বাল এনার্জি ড্রিংকসের ব্যবসায় যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি ক্রিপ্টোকারেন্সিতেও বিনিয়োগ শুরু করেছেন তিনি। তবে বাবার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বা নির্বাচনী প্রচারে তাকে খুব একটা দেখা যায় না। জনসমক্ষে ব্যারনের সর্বশেষ উপস্থিতি ছিল গত ১৯ জুলাই।
মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বাবা-মায়ের সঙ্গে বুলেটপ্রুফ কাচের আড়ালে বসে স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনাল উপভোগ করতে দেখা যায় ফুটবলপ্রেমী এই তরুণকে। এরপর থেকে তাকে আরও বেশি আড়ালে রাখছে পরিবার।





















