মহাকাশ গবেষণা ও নজরদারিতে যুগান্তকারী অধ্যায় শুরু করল চীন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইভিত্তিক লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলযুক্ত নতুন স্যাটেলাইট প্রযুক্তি উন্মোচন করেছে দেশটির গবেষকরা। এসব স্যাটেলাইট যুদ্ধক্ষেত্রেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্যাটেলাইট-ভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নতুন প্রযুক্তি- এয়ার টার্গেট এজেন্ট সিস্টেম- ব্যবহার করতে শুরু করেছে চীন।
আকাশ থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তথ্য সংগ্রহ, গভীর বিশ্লেষণ ও তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে এই প্রযুক্তি। এছাড়াও এটি প্রচলিত স্যাটেলাইটের ছবি শনাক্তকরণ পদ্ধতির চেয়ে অনেক বেশি নির্ভুল এবং মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে সক্ষম।
যুদ্ধক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারের নৈতিকতা নিয়ে চলমান বিতর্কের মাঝেই এই প্রযুক্তি সামনে এনেছে এশিয়ার অন্যতম পরাশক্তি। এর আগে ইরান যুদ্ধসহ বিভিন্ন খাতে এআই টার্গেটিং সিস্টেম ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও, চীনের দাবি — নতুন এই প্রযুক্তি মহাকাশের তথ্য ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও গতি নিশ্চিত করবে।
চীনের ঝেজিয়াং ল্যাবের পরিচালক ওয়াং জিয়ান বলেন, স্যাটেলাইটে এআই মডেল ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা সেগুলোকে বহুমুখী কাজের জন্য প্রস্তুত করে তুলছি। আশা করছি এই সিদ্ধান্ত অভাবনীয় সাফল্য নিয়ে আসবে।
জটিল কাজকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করা এবং ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকায় এসব স্যাটেলাইট গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণকারী সফটওয়্যারগুলোকে আরও শক্তিশালী করবে বলেই আশা করা হচ্ছে।
যদিও এই প্রযুক্তিটির কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি চীন। তবে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন এটি চীনের সামগ্রিক সামরিক স্যাটেলাইট কমান্ড নেটওয়ার্ককে একীভূত করার একটি বড় পদক্ষেপ।
চীনের নতুন এই স্যাটেলাইট প্রযুক্তি কেবল বিশ্বব্যাপী নজরদারির সংজ্ঞাই নয়, বরং ভবিষ্যতের ভূরাজনৈতিক ও সামরিক সমীকরণকেও বদলে দিতে পারে।
















