আজ বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬
১২ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ১৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৯°C
সর্বোচ্চ: ৩৪°C
সর্বনিম্ন: ২৭°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৫৭%

সংসদে বিরোধী দলের ওয়াকআউট বাহানা ও পরিকল্পিত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

  • MIT ERP
  • Update Time : 09:47:42 pm, Thursday, 27 August 2026
  • 13

সংসদে বিরোধী দলের ওয়াকআউট বাহানা ও পরিকল্পিত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

বিরোধী দলকে সংসদীয় ধারা ও চর্চায় ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, তুচ্ছ বাহানায় কথায় কথায় সংসদ থেকে ওয়াকআউট করলে আখেরে গণতন্ত্রেরই ক্ষতি হবে।

এই সংসদকে কার্যকর করতে না পারলে গণতন্ত্র বার বার হোঁচট খাবে এবং সেটির জন্য ইতিহাস বিরোধী দলকেই দায়ী করবে। তিনি বলেন, সরকারের প্রধান লক্ষ্য আইন প্রণয়নসহ দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সংকটের সমাধান এই জাতীয় সংসদেই করা। রাজপথে বা গুলশানে অনেক কথা বলা সম্ভব হলেও সংসদের ভেতর কথা বলতে হবে নির্দিষ্ট বিধি মেনে এবং তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্য ও ওয়াকআউট করার জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বিরোধী দলীয় নেতার বিভিন্ন বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইন প্রণয়ন কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা না করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এই ওয়াকআউট করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রথম অধিবেশন থেকেই বিরোধী দল মানবাধিকার কমিশন আইন ও গুম প্রতিরোধ সংক্রান্ত আইনের দাবি জানিয়ে আসছিল।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে তাড়াহুড়ো করে তৈরি করা মানবাধিকার কমিশন আইনে যেসব ভুলত্রুটি ছিল, তা সংশোধনের জন্য আইন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সবাই কঠোর পরিশ্রম করেছেন। দেশি-বিদেশি স্টেকহোল্ডার, ডিপ্লোম্যাটিক মিশন, মানবাধিকার সংস্থা এবং ইউএনডিপির সঙ্গে একাধিক সেমিনার ও সিম্পোজিয়াম করে একটি আন্তর্জাতিক মানের এবং দেশীয় সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিল প্রস্তুত করা হয়েছে।

সংসদে উত্থাপিত দুটি বিল নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মানবাধিকার কমিশন বিল এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল—উভয়টিই একটি সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী রূপ দিয়ে আজ সংসদে উত্থাপন ও কমিটিতে পাঠানোর কথা ছিল। বিলের কপি যথেষ্ট আগেই সব সদস্যকে সরবরাহ করা হয়েছে এবং সংসদীয় কমিটিতে আলোচনার জন্য আরও কয়েক দিন সময় পাওয়া যেত। কিন্তু এই বিল উত্থাপনকে বাহানা বানিয়ে বিরোধী দল সংসদ ত্যাগ করেছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

রাষ্ট্রপতিকে চিঠি দিয়ে বিরোধীদলীয় নেতার সংসদ আহ্বান করার এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিরোধীদলীয় নেতার এমন কোনো এখতিয়ার নেই। রাষ্ট্রপতিকে যে চিঠি দেওয়ার এখতিয়ার তার নেই, সেই চিঠির জবাব কীভাবে রাষ্ট্রপতি দেবেন। তাছাড়া রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শপথগ্রহণসহ নানা প্রশাসনিক ও রাষ্ট্রীয় ব্যস্ততার মধ্যেই তড়িঘড়ি করে সংসদ অধিবেশন আহ্বান করা হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে সংসদ আহ্বানের বিষয়ে সরকারের সদিচ্ছাকে প্রশংসা না করে অহেতুক সমালোচনা করা হচ্ছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা ও সংসদ সদস্যদের ওপর কথিত হামলার বিষয়ে বিরোধী দলের ঢালাও অভিযোগের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, সুনির্দিষ্ট তথ্য দিলে সরকার অবশ্যই ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু কোনো নির্দিষ্ট ঘটনা বা স্থান উল্লেখ না করে গণমাধ্যমে বা জনসভায় কথা বলা আর সংসদে কথা বলা এক নয়।

কোনো সংসদ সদস্যের ওপর কোথায় হামলা হয়েছে বা কাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট তথ্য দিলে তাৎক্ষণিক জবাব দেওয়া সম্ভব। গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদকে অবহিত করে বলেন, সরকার ১৬-১৭ বছরের অপরিকল্পিত ও একক গ্যাসনির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থার যে রেখে যাওয়া সংকট, তা প্রতিনিয়ত সংশোধন করার চেষ্টা করছে।

মধ্যপ্রাচ্য ও আন্তর্জাতিক বাজারে তেল-গ্যাসের দাম দ্বিগুণ হলেও বাংলাদেশে তা সহনীয় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বে ইতোমধ্যে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু করা, এফএসআরইউ নির্মাণ এবং এলএনজি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যাতে দেশের সার কারখানা ও শিল্প উৎপাদন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয় এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে থাকে।

সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ের ‘জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫’ এর সমালোচনা করে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ওই আদেশের কোনো রাজনৈতিক ভিত্তি বা রাজনৈতিক সমঝোতা ছিল না। এটি অনেকটা মার্শাল ল অর্ডারের মতো জারি করা হয়েছিল। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের দাবি সরকারেরই ছিল, যেন জনগণের প্রত্যক্ষ জনরায়ে এটি সর্ব সার্বভৌম আইনিভিত্তি পায়।

কিন্তু একটি দূরভিসন্ধিমূলক আদেশের মাধ্যমে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। সংবিধান সংস্কারের নামে কয়েকজনের অবৈধ শপথ গ্রহণের দিকে ইঙ্গিত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের কথা বলা হচ্ছে, বর্তমান সংবিধানে তার কোনো অস্তিত্ব বা বিধান নেই। অথচ এই সংবিধান মেনে ও এর অধীনেই নির্বাচনে অংশ নিয়ে সবাই সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন।

এই সংবিধান অনুসারেই সর্বসম্মতিক্রমে ও মহা উৎসবে রাষ্ট্রপতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং তিনি শপথ নিয়েছেন। রাষ্ট্রপতির নির্বাচন ও সংসদ যদি বৈধ হয়, তবে বিশেষ কোনো পরিষদের কথা বলে সংবিধানকে অস্বীকার করা দ্বিমুখী নীতি। সংসদে গঠিত সংবিধান সংশোধন বিশেষ কমিটি নিয়ে বিরোধী দলের সংশয়ের জবাবে মন্ত্রী অত্যন্ত স্পষ্ট করে বলেন, কার্যপ্রণালী বিধির ২৬৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদীয় বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এই কমিটির সুনির্দিষ্ট টার্মস অব রেফারেন্স বা কার্যপরিধিই হচ্ছে সংবিধান সংশোধন করা। তিনি বিরোধী দলকে কোনো বিভ্রান্তি না ছড়িয়ে এই কমিটিতে এসে নিজস্ব প্রস্তাব ও মতামত তুলে ধরার আহ্বান জানান। বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরকারি ও বিরোধী উভয় পক্ষের সংসদ সদস্যদের প্রতি জাতীয় সংসদকে প্রাণবন্ত ও কার্যকর রাখার আকুল আবেদন জানান।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার বিপ্লব ও শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সবাই সংসদকে আলোচনার মূল কেন্দ্রে পরিণত করবেন এবং দেশ পরিচালনায় গণতান্ত্রিক ধারাকে সংহত রাখবেন।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

টাঙ্গাইলের সখীপুরে ট্রাকচাপায় মা ও শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

সংসদে বিরোধী দলের ওয়াকআউট বাহানা ও পরিকল্পিত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Update Time : 09:47:42 pm, Thursday, 27 August 2026

বিরোধী দলকে সংসদীয় ধারা ও চর্চায় ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, তুচ্ছ বাহানায় কথায় কথায় সংসদ থেকে ওয়াকআউট করলে আখেরে গণতন্ত্রেরই ক্ষতি হবে।

এই সংসদকে কার্যকর করতে না পারলে গণতন্ত্র বার বার হোঁচট খাবে এবং সেটির জন্য ইতিহাস বিরোধী দলকেই দায়ী করবে। তিনি বলেন, সরকারের প্রধান লক্ষ্য আইন প্রণয়নসহ দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সংকটের সমাধান এই জাতীয় সংসদেই করা। রাজপথে বা গুলশানে অনেক কথা বলা সম্ভব হলেও সংসদের ভেতর কথা বলতে হবে নির্দিষ্ট বিধি মেনে এবং তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্য ও ওয়াকআউট করার জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বিরোধী দলীয় নেতার বিভিন্ন বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইন প্রণয়ন কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা না করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এই ওয়াকআউট করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রথম অধিবেশন থেকেই বিরোধী দল মানবাধিকার কমিশন আইন ও গুম প্রতিরোধ সংক্রান্ত আইনের দাবি জানিয়ে আসছিল।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে তাড়াহুড়ো করে তৈরি করা মানবাধিকার কমিশন আইনে যেসব ভুলত্রুটি ছিল, তা সংশোধনের জন্য আইন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সবাই কঠোর পরিশ্রম করেছেন। দেশি-বিদেশি স্টেকহোল্ডার, ডিপ্লোম্যাটিক মিশন, মানবাধিকার সংস্থা এবং ইউএনডিপির সঙ্গে একাধিক সেমিনার ও সিম্পোজিয়াম করে একটি আন্তর্জাতিক মানের এবং দেশীয় সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিল প্রস্তুত করা হয়েছে।

সংসদে উত্থাপিত দুটি বিল নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মানবাধিকার কমিশন বিল এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল—উভয়টিই একটি সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী রূপ দিয়ে আজ সংসদে উত্থাপন ও কমিটিতে পাঠানোর কথা ছিল। বিলের কপি যথেষ্ট আগেই সব সদস্যকে সরবরাহ করা হয়েছে এবং সংসদীয় কমিটিতে আলোচনার জন্য আরও কয়েক দিন সময় পাওয়া যেত। কিন্তু এই বিল উত্থাপনকে বাহানা বানিয়ে বিরোধী দল সংসদ ত্যাগ করেছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

রাষ্ট্রপতিকে চিঠি দিয়ে বিরোধীদলীয় নেতার সংসদ আহ্বান করার এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিরোধীদলীয় নেতার এমন কোনো এখতিয়ার নেই। রাষ্ট্রপতিকে যে চিঠি দেওয়ার এখতিয়ার তার নেই, সেই চিঠির জবাব কীভাবে রাষ্ট্রপতি দেবেন। তাছাড়া রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শপথগ্রহণসহ নানা প্রশাসনিক ও রাষ্ট্রীয় ব্যস্ততার মধ্যেই তড়িঘড়ি করে সংসদ অধিবেশন আহ্বান করা হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে সংসদ আহ্বানের বিষয়ে সরকারের সদিচ্ছাকে প্রশংসা না করে অহেতুক সমালোচনা করা হচ্ছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা ও সংসদ সদস্যদের ওপর কথিত হামলার বিষয়ে বিরোধী দলের ঢালাও অভিযোগের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, সুনির্দিষ্ট তথ্য দিলে সরকার অবশ্যই ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু কোনো নির্দিষ্ট ঘটনা বা স্থান উল্লেখ না করে গণমাধ্যমে বা জনসভায় কথা বলা আর সংসদে কথা বলা এক নয়।

কোনো সংসদ সদস্যের ওপর কোথায় হামলা হয়েছে বা কাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট তথ্য দিলে তাৎক্ষণিক জবাব দেওয়া সম্ভব। গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদকে অবহিত করে বলেন, সরকার ১৬-১৭ বছরের অপরিকল্পিত ও একক গ্যাসনির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থার যে রেখে যাওয়া সংকট, তা প্রতিনিয়ত সংশোধন করার চেষ্টা করছে।

মধ্যপ্রাচ্য ও আন্তর্জাতিক বাজারে তেল-গ্যাসের দাম দ্বিগুণ হলেও বাংলাদেশে তা সহনীয় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বে ইতোমধ্যে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু করা, এফএসআরইউ নির্মাণ এবং এলএনজি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যাতে দেশের সার কারখানা ও শিল্প উৎপাদন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয় এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে থাকে।

সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ের ‘জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫’ এর সমালোচনা করে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ওই আদেশের কোনো রাজনৈতিক ভিত্তি বা রাজনৈতিক সমঝোতা ছিল না। এটি অনেকটা মার্শাল ল অর্ডারের মতো জারি করা হয়েছিল। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের দাবি সরকারেরই ছিল, যেন জনগণের প্রত্যক্ষ জনরায়ে এটি সর্ব সার্বভৌম আইনিভিত্তি পায়।

কিন্তু একটি দূরভিসন্ধিমূলক আদেশের মাধ্যমে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। সংবিধান সংস্কারের নামে কয়েকজনের অবৈধ শপথ গ্রহণের দিকে ইঙ্গিত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের কথা বলা হচ্ছে, বর্তমান সংবিধানে তার কোনো অস্তিত্ব বা বিধান নেই। অথচ এই সংবিধান মেনে ও এর অধীনেই নির্বাচনে অংশ নিয়ে সবাই সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন।

এই সংবিধান অনুসারেই সর্বসম্মতিক্রমে ও মহা উৎসবে রাষ্ট্রপতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং তিনি শপথ নিয়েছেন। রাষ্ট্রপতির নির্বাচন ও সংসদ যদি বৈধ হয়, তবে বিশেষ কোনো পরিষদের কথা বলে সংবিধানকে অস্বীকার করা দ্বিমুখী নীতি। সংসদে গঠিত সংবিধান সংশোধন বিশেষ কমিটি নিয়ে বিরোধী দলের সংশয়ের জবাবে মন্ত্রী অত্যন্ত স্পষ্ট করে বলেন, কার্যপ্রণালী বিধির ২৬৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদীয় বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এই কমিটির সুনির্দিষ্ট টার্মস অব রেফারেন্স বা কার্যপরিধিই হচ্ছে সংবিধান সংশোধন করা। তিনি বিরোধী দলকে কোনো বিভ্রান্তি না ছড়িয়ে এই কমিটিতে এসে নিজস্ব প্রস্তাব ও মতামত তুলে ধরার আহ্বান জানান। বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরকারি ও বিরোধী উভয় পক্ষের সংসদ সদস্যদের প্রতি জাতীয় সংসদকে প্রাণবন্ত ও কার্যকর রাখার আকুল আবেদন জানান।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার বিপ্লব ও শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সবাই সংসদকে আলোচনার মূল কেন্দ্রে পরিণত করবেন এবং দেশ পরিচালনায় গণতান্ত্রিক ধারাকে সংহত রাখবেন।