আজ বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬
১১ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি
৩১°C
সর্বোচ্চ: ৩৩°C
সর্বনিম্ন: ২৬°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৯৭%

পুঠিয়ায় টিএসপি ও ডিএপি সারের সংকট, বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ কৃষকদের

  • MIT ERP
  • Update Time : 04:03:17 pm, Wednesday, 26 August 2026
  • 17

পুঠিয়ায় টিএসপি ও ডিএপি সারের সংকট, বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ কৃষকদের

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

রাজশাহীর পুঠিয়ায় রোপা আমনসহ বিভিন্ন ফসলে সার দেওয়ার ভরা মৌসুমে টিএসপি ও ডিএপি সারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। কৃষকদের অভিযোগ, সরকার নির্ধারিত মূল্যে এসব সার মিলছে না; তবে অতিরিক্ত টাকা দিলে খুচরা বাজারে সহজেই পাওয়া যাচ্ছে।

এতে কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পুঠিয়ার ছয়টি ইউনিয়নে বিসিআইসির আটজন এবং বিএডিসির ১৩ জন সার ডিলার রয়েছেন। এ ছাড়া পাঁচটি ইউনিয়নে ৬৩ জন সাব-ডিলার বা খুচরা বিক্রেতা রয়েছেন। সরকার নির্ধারিত দামে ইউরিয়া ও টিএসপি প্রতি কেজি ২৭ টাকা, ডিএপি ২১ টাকা এবং পটাশ ২০ টাকায় বিক্রির কথা।

কৃষকদের দাবি, বর্তমানে রোপা আমন, কলা, বেগুন, পেয়ারা, পেঁপে, ফুলকপি, বাঁধাকপি, সীম, বরবটি ও লাউয়ের জমিতে সার প্রয়োগের উপযুক্ত সময়। কিন্তু প্রয়োজনীয় টিএসপি ও ডিএপি ডিলারদের কাছে মিলছে না। অথচ খোলা বাজারে টিএসপি প্রায় ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ভালুকগাছি ইউনিয়নের কান্তার বিল এলাকার কৃষক মুনসুর আলী বলেন, চার বিঘা জমিতে রোপা আমন চাষ করেছেন তিনি।

সময়মতো টিএসপি না পেলে ধানের গাছ সবল হবে না এবং ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বেলপুকুর ইউনিয়নের কৃষক মোহাম্মদ আলী বলেন, সারের সংকট নেই বলা হলেও আমরা টিএসপি ও ডিএপি পাচ্ছি না। বেশি দাম দিলে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। বানেশ্বর ইউনিয়নের নামাজগ্রামের কৃষক খৈইমুদ্দিন অভিযোগ করেন, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিয়মিত মাঠে যান না এবং পরিচিত ব্যক্তিদের মধ্যে সার বিতরণ করা হচ্ছে।

তার দাবি, বানেশ্বর হাটের কয়েকজন ডিলারের গুদামে বিপুল পরিমাণ টিএসপি ও ডিএপি মজুত রয়েছে। পুঠিয়া পৌর এলাকায় কৃষিজমি তুলনামূলক কম হওয়ায় সেখানকার বরাদ্দ অন্যত্র বিক্রির অভিযোগও উঠেছে। কয়েকজন কৃষক বরাদ্দে অনিয়ম ও পরিচিত ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়ার অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। কান্দ্রা এলাকার কৃষক আবুল হোসেন অভিযোগ করেন, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবদুর রহমান সাধারণ কৃষকদের সার বরাদ্দ না দিয়ে পরিচিত ও দলীয় নেতাদের সুবিধা দিচ্ছেন।

এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বিসিআইসি সার ডিলার দাবি করেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও বিএডিসি ডিলারদের নিয়মিত অর্থ দিতে হয়। তবে এই অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা স্মৃতি রানী সরকার বলেন, উপজেলায় সারের কোনো সংকট নেই। প্রতি মাসে পর্যাপ্ত বরাদ্দ আসছে এবং বর্তমানে আগের মাসের বরাদ্দ কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে।

লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে কৃষকদের প্রশ্ন, পর্যাপ্ত বরাদ্দ ও মজুত থাকার দাবি করা হলেও সরকারি দামে টিএসপি ও ডিএপি কেন পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের দাবি, মাঠপর্যায়ে কঠোর নজরদারি বাড়িয়ে সরকারি মূল্যে সার বিক্রি নিশ্চিত করতে হবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

ফ্ল্যাট প্রতারণার মামলায় বিদিশার জামিন নাকচ, পাঠানো হলো কারাগারে

পুঠিয়ায় টিএসপি ও ডিএপি সারের সংকট, বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ কৃষকদের

Update Time : 04:03:17 pm, Wednesday, 26 August 2026

রাজশাহীর পুঠিয়ায় রোপা আমনসহ বিভিন্ন ফসলে সার দেওয়ার ভরা মৌসুমে টিএসপি ও ডিএপি সারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। কৃষকদের অভিযোগ, সরকার নির্ধারিত মূল্যে এসব সার মিলছে না; তবে অতিরিক্ত টাকা দিলে খুচরা বাজারে সহজেই পাওয়া যাচ্ছে।

এতে কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পুঠিয়ার ছয়টি ইউনিয়নে বিসিআইসির আটজন এবং বিএডিসির ১৩ জন সার ডিলার রয়েছেন। এ ছাড়া পাঁচটি ইউনিয়নে ৬৩ জন সাব-ডিলার বা খুচরা বিক্রেতা রয়েছেন। সরকার নির্ধারিত দামে ইউরিয়া ও টিএসপি প্রতি কেজি ২৭ টাকা, ডিএপি ২১ টাকা এবং পটাশ ২০ টাকায় বিক্রির কথা।

কৃষকদের দাবি, বর্তমানে রোপা আমন, কলা, বেগুন, পেয়ারা, পেঁপে, ফুলকপি, বাঁধাকপি, সীম, বরবটি ও লাউয়ের জমিতে সার প্রয়োগের উপযুক্ত সময়। কিন্তু প্রয়োজনীয় টিএসপি ও ডিএপি ডিলারদের কাছে মিলছে না। অথচ খোলা বাজারে টিএসপি প্রায় ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ভালুকগাছি ইউনিয়নের কান্তার বিল এলাকার কৃষক মুনসুর আলী বলেন, চার বিঘা জমিতে রোপা আমন চাষ করেছেন তিনি।

সময়মতো টিএসপি না পেলে ধানের গাছ সবল হবে না এবং ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বেলপুকুর ইউনিয়নের কৃষক মোহাম্মদ আলী বলেন, সারের সংকট নেই বলা হলেও আমরা টিএসপি ও ডিএপি পাচ্ছি না। বেশি দাম দিলে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। বানেশ্বর ইউনিয়নের নামাজগ্রামের কৃষক খৈইমুদ্দিন অভিযোগ করেন, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিয়মিত মাঠে যান না এবং পরিচিত ব্যক্তিদের মধ্যে সার বিতরণ করা হচ্ছে।

তার দাবি, বানেশ্বর হাটের কয়েকজন ডিলারের গুদামে বিপুল পরিমাণ টিএসপি ও ডিএপি মজুত রয়েছে। পুঠিয়া পৌর এলাকায় কৃষিজমি তুলনামূলক কম হওয়ায় সেখানকার বরাদ্দ অন্যত্র বিক্রির অভিযোগও উঠেছে। কয়েকজন কৃষক বরাদ্দে অনিয়ম ও পরিচিত ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়ার অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। কান্দ্রা এলাকার কৃষক আবুল হোসেন অভিযোগ করেন, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবদুর রহমান সাধারণ কৃষকদের সার বরাদ্দ না দিয়ে পরিচিত ও দলীয় নেতাদের সুবিধা দিচ্ছেন।

এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বিসিআইসি সার ডিলার দাবি করেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও বিএডিসি ডিলারদের নিয়মিত অর্থ দিতে হয়। তবে এই অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা স্মৃতি রানী সরকার বলেন, উপজেলায় সারের কোনো সংকট নেই। প্রতি মাসে পর্যাপ্ত বরাদ্দ আসছে এবং বর্তমানে আগের মাসের বরাদ্দ কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে।

লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে কৃষকদের প্রশ্ন, পর্যাপ্ত বরাদ্দ ও মজুত থাকার দাবি করা হলেও সরকারি দামে টিএসপি ও ডিএপি কেন পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের দাবি, মাঠপর্যায়ে কঠোর নজরদারি বাড়িয়ে সরকারি মূল্যে সার বিক্রি নিশ্চিত করতে হবে।