আজ সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬
৯ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
বজ্রসহ বৃষ্টি
৩১°C
সর্বোচ্চ: ৩১°C
সর্বনিম্ন: ২৭°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ১০০%

হবু স্ত্রীকে হারিয়ে আবেগঘন পোস্ট জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী অদিতির

  • MIT ERP
  • Update Time : 11:51:03 am, Monday, 24 August 2026
  • 13

হবু স্ত্রীকে হারিয়ে আবেগঘন পোস্ট জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী অদিতির

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

রংপুরে একই পরিবারের চার সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় শোক ও বেদনায় স্তব্ধ হয়ে পড়েছে পুরো দেশ। ওই ঘটনায় নিহত অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর মেয়ে আগামী চক্রবর্তীর সঙ্গে বিয়ের তারিখ চূড়ান্ত হয়েছিল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী অদিত করের।

কিন্তু বিয়ের স্বপ্ন পূরণের আগেই চিরবিদায় নিলেন আগামী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিতে দেখা যায়, গত বুধবার একসঙ্গে তোলা ছিল অদিত ও আগামীর প্রথম ‘কাপল পিক’। সেই ছবিটি পোস্ট করে অদিত লিখেছেন, “আমার জীবনের শেষ সম্বলটুকুও শেষ হয়ে গেল। খুব করে বলেছিল সেদিন, আমরা তো কখনো কাপল পিক তুলি নাই, চলো আজকে তুলি।

চিন্তা করো না আগামী, আমি তোমার সাথে ছিলাম, আছি এবং থাকব। ” অদিতের এক বন্ধু ফেসবুকে জানান, দুই পরিবারের সম্মতিতে তাদের বিয়ে চূড়ান্ত হয়েছিল এবং প্রস্তুতিও চলছিল। তবে এই মর্মান্তিক ঘটনার পর অদিত মানসিকভাবে ভীষণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। তিনি আরও লেখেন, কিছুদিন আগেই অদিতের বাবা মারা গেছেন, আর এখন চিরতরে হারিয়ে গেল তার হবু স্ত্রীও।

শনিবার (২২ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে রংপুর নগরীর কামালকাছনা মাছুয়াপাড়ায় নিজ বাসা থেকে গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বালা (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫) ও ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী (১২)-এর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। রোববার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯) নামে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তরা পাশের একটি ভবনের ছাদ দিয়ে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে উঠে ইয়াবা সেবন করছিলেন। এতে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রথমে গণপতি চক্রবর্তীকে হত্যা করা হয়। পরে পরিচয় ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছোট ছেলেকেও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে দুই অভিযুক্ত হত্যার দায় স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পরে নিহত পরিবারের স্বজনদের করা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। চারটি প্রাণের নিথর দেহের পাশে পড়ে রইল একটি অসমাপ্ত স্বপ্ন—আর অদিতের কাছে স্মৃতি হয়ে রইল সেই শেষ কথাটি, চলো আজকে কাপল পিক তুলি।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

সব ধর্ম-বর্ণ ও মতপথের মানুষকে নিয়ে গড়ে উঠবে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব

হবু স্ত্রীকে হারিয়ে আবেগঘন পোস্ট জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী অদিতির

Update Time : 11:51:03 am, Monday, 24 August 2026

রংপুরে একই পরিবারের চার সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় শোক ও বেদনায় স্তব্ধ হয়ে পড়েছে পুরো দেশ। ওই ঘটনায় নিহত অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর মেয়ে আগামী চক্রবর্তীর সঙ্গে বিয়ের তারিখ চূড়ান্ত হয়েছিল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী অদিত করের।

কিন্তু বিয়ের স্বপ্ন পূরণের আগেই চিরবিদায় নিলেন আগামী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিতে দেখা যায়, গত বুধবার একসঙ্গে তোলা ছিল অদিত ও আগামীর প্রথম ‘কাপল পিক’। সেই ছবিটি পোস্ট করে অদিত লিখেছেন, “আমার জীবনের শেষ সম্বলটুকুও শেষ হয়ে গেল। খুব করে বলেছিল সেদিন, আমরা তো কখনো কাপল পিক তুলি নাই, চলো আজকে তুলি।

চিন্তা করো না আগামী, আমি তোমার সাথে ছিলাম, আছি এবং থাকব। ” অদিতের এক বন্ধু ফেসবুকে জানান, দুই পরিবারের সম্মতিতে তাদের বিয়ে চূড়ান্ত হয়েছিল এবং প্রস্তুতিও চলছিল। তবে এই মর্মান্তিক ঘটনার পর অদিত মানসিকভাবে ভীষণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। তিনি আরও লেখেন, কিছুদিন আগেই অদিতের বাবা মারা গেছেন, আর এখন চিরতরে হারিয়ে গেল তার হবু স্ত্রীও।

শনিবার (২২ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে রংপুর নগরীর কামালকাছনা মাছুয়াপাড়ায় নিজ বাসা থেকে গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বালা (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫) ও ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী (১২)-এর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। রোববার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯) নামে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তরা পাশের একটি ভবনের ছাদ দিয়ে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে উঠে ইয়াবা সেবন করছিলেন। এতে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রথমে গণপতি চক্রবর্তীকে হত্যা করা হয়। পরে পরিচয় ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছোট ছেলেকেও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে দুই অভিযুক্ত হত্যার দায় স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পরে নিহত পরিবারের স্বজনদের করা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। চারটি প্রাণের নিথর দেহের পাশে পড়ে রইল একটি অসমাপ্ত স্বপ্ন—আর অদিতের কাছে স্মৃতি হয়ে রইল সেই শেষ কথাটি, চলো আজকে কাপল পিক তুলি।