আজ রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
৮ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ০৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৮°C
সর্বোচ্চ: ৩৩°C
সর্বনিম্ন: ২৬°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৯৮%

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ৭২ প্রকল্পে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থতা

  • MIT ERP
  • Update Time : 10:23:03 pm, Sunday, 23 August 2026
  • 6

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ৭২ প্রকল্পে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থতা

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

২০২৫-২৬ অর্থবছরে সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (আরএডিপি) বাস্তবায়নে কাঙ্ক্ষিত শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের আওতাধীন ৭২টি প্রকল্প।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে আরএডিপিতে ৭২টি চলমান প্রকল্পের বিপরীতে মোট বরাদ্দ ছিল ৬১৯০ দশমিক ১৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের অর্থায়ন ৫৩১৪ দশমিক ৪৯ কোটি ও প্রকল্প সহায়তা (বিদেশি সাহায্য) ৮৭৫ দশমিক ৬৪ কোটি টাকা। প্রকল্পে আরএডিপি বরাদ্দের বিপরীতে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ৪৬৫২ দশমিক ৮২ কোটি টাকা; যা মোট বরাদ্দের ৭৫ দশমিক ১৭ শতাংশ।

অথচ আগের অর্থবছরে (২০২৪-২৫) একই সময় আর্থিক অগ্রগতি ছিল ৮০ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ। অন্যদিকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুন পর্যন্ত জাতীয় অগ্রগতির হারও শতভাগ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩৩ শতাংশ কম। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা সভার কার্যবিবরণী থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলতি অর্থবছরে আরএডিপি কাক্সিক্ষত অগ্রগতি অর্জন করতে না পারায় প্রকল্প বাস্তবায়নে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এতে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, জাতীয় পর্যায়ের তুলনায় শিক্ষার প্রকল্পগুলো ভালো করেছে। জানা গেছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের আওতাধীন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তর, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর (ইইডি), বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি), বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস) এবং বাংলাদেশ স্কাউটসের আওতায় বাস্তবায়নাধীন উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর গত এক বছরের (জুলাই ২০২৫ থেকে জুন ২০২৬) বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিয়ে গত ৩০ জুলাই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক। পরে গত ২০ আগস্ট ওই সভার অনুমোদিত কার্যবিবরণী সংশ্লিষ্টদের পাঠানো হয়। কার্যবিবরণী থেকে জানা যায়, সভায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আরএডিপি বাস্তবায়ন অগ্রগতির হার ‘খুবই কম’ মন্তব্য করে হতাশা প্রকাশ করা হয়। কম অগ্রগতির পক্ষে অনেক যুক্তিই থাকতে পারে মন্তব্য করে সভায় বলা হয়, ‘বছর শেষ হওয়ার তিন-চার মাস আগে বাজেট নিয়ে তা ৫০ শতাংশ ব্যয় করতে না পারা খুবই দুঃখজনক।

’ সভায় ৫০ শতাংশের নিচে যেসব প্রকল্পের অর্থ অব্যয়িত রয়েছে, তাদের ২০ আগস্টের মধ্যে ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি আগামীতে যথাযথভাবে হিসাব করে ব্যয়যোগ্য বরাদ্দ প্রস্তাব চাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে প্রকল্পের অব্যয়িত অর্থের বিষয়ে গতকাল রোববার পর্যন্ত ব্যাখ্যা পায়নি বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখা।

সভায় আরও বলা হয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সব কাজের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীসহ সবাই সব সময় অবহিত থাকেন। তাই এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক ও সংস্থা প্রধানদের বছরের শুরু থেকে প্রকল্প কার্যক্রমে আরও আন্তরিক হয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বরাদ্দ শতভাগ ব্যয়ের অনুরোধ করা হয়। সরেজমিন পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে ‘সরকারি কলেজগুলোর বিজ্ঞান শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ’ প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজে সরবরাহ করা আসবাব খুবই নিম্নমানের বলে সভায় জানানো হয়।

ইতিপূর্বে অনুষ্ঠিত সভায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এডিপি বরাদ্দের আলোকে বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা ও বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পাঠানোর কথা বলা হলেও কোনো সংস্থা থেকেই তা পাওয়া যায়নি বলে সভাকে অবহিত করা হয়। সভায় প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রকল্প পরিচালককে আরও বেশি সচেতন থাকার কথা বলা হয়। পাশাপাশি এ বিষয়ে কারও মনোযোগ কম থাকলে অন্য কোনো দপ্তরে বদলি বা পদায়ন নেওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়।

সভায় বিস্তারিত আলোচনা শেষে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সিদ্ধান্তগুলো হলো- শতভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়ন; ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এডিপি বরাদ্দ অনুযায়ী সব প্রকল্পের কর্ম ও ক্রয় পরিকল্পনা প্রেরণ; ২০ আগস্টের মধ্যে প্রকল্পের সমাপ্তি প্রতিবেদন বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ মূল্যায়ন বিভাগে প্রেরণ; প্রকল্পের অব্যয়িত অর্থের বিষয়ে ব্যাখ্যা ও ব্যয়যোগ্য বরাদ্দ প্রস্তাব এবং ‘সরকারি কলেজগুলোর বিজ্ঞান শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ’ প্রকল্পের বিষয়ে পরিদর্শন প্রতিবেদনের আলোকে ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরেজমিন পরিদর্শন করে সরবরাহ করা আসবাবের মান যাচাই করা।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের আওতাধীন মাউশি, ইইডি, ব্যানবেইস এবং বাংলাদেশ স্কাউটসের আওতায় বর্তমানে শিক্ষার ৭২টি প্রকল্প চলমান। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের গবেষণা শাখার ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই ২০২৫ থেকে জুন ২০২৬ পর্যন্ত। বাস্তবায়ন অগ্রগতির ছক থেকে জানা যায়, আলোচ্য অর্থবছরে ৭২টি প্রকল্পে আরএডিপি মোট বরাদ্দ ছিল ৬১৯০ দশমিক ১৩ কোটি।

উল্লিখিত সময়ে বরাদ্দ হয়েছে ৪৬৫২৮২ দশমিক ১৫ কোটি। বরাদ্দের বিপরীতে ৭২ প্রকল্পে বাস্তবায়নের হার ৭৫ দশমিক ১৭ শতাংশ। উল্লেখ্য, ৭২ প্রকল্পে মোট বরাদ্দের মধ্যে সরকারি বরাদ্দ ৪৩৪০০০ দশমিক শূন্য ২-এর বিপরীতে বাস্তবায়নের হার ৮১ দশমিক ৬৬ শতাংশ হলেও প্রকল্প সাহায্য (বিদেশি) ৩১২৮২ দশমিক ১৩ বরাদ্দের বিপরীতে বাস্তবায়নের হার ৩৫ দশমিক ৭২ শতাংশ।

৭২টি প্রকল্পের মধ্যে মাউশির অধিনে ৯টি, ইইডির অধীনে ১৬টি, ইউজিসির অধীনে সর্বোচ্চ ৪৬টি, ব্যানবেইসের অধীনে ১টি এবং বাংলাদেশ স্কাউটসের অধীনে ২টি বাস্তবায়িত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অনেক প্রকল্প বাস্তবায়নে একাধিক সংস্থার সম্পৃক্ততা থাকায় একটির দুর্বলতায় পুরো প্রকল্পের মূল্যায়নেই নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। প্রকল্প বাস্তবায়নকারী পাঁচ সংস্থা বা অধিদপ্তরের মধ্যে ইইডির বাস্তবায়ন অগ্রগতি সবচেয়ে ভালো।

ইইডির ১৬ প্রকল্পে মোট ৭২৮২৫ দশমিক ৯৭ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে পুরোটাই ব্যয়িত হয়েছে। বরাদ্দের বিপরীতে বাস্তবায়নের অগ্রগতি ৯৭ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ। ৭২টি প্রকল্পের মধ্যে সর্বোচ্চ ৪৪টি প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা ইউজিসি। ইউজিসির এসব প্রকল্পে ২৩৮৯৬২ দশমিক ২৯ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে বাস্তবায়ন অগ্রগতি ৭৯ দশমিক ১৩ শতাংশ। মাউশির ৯ প্রকল্পে ১৪৬২২৭ দশমিক ২৮ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে বাস্তবায়ন অগ্রগতি ৬৫ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ।

বাংলাদেশ স্কাউটসের ২টি প্রকল্পে ১৩৬৭ দশমিক ৪০ টাকার বিপরীতে বাস্তবায়ন অগ্রগতি ৫৪ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। ব্যানবেইসের ১টি প্রকল্পে ৫৮৯৯ দশমিক ২১ টাকার বিপরীতে বাস্তবায়ন অগ্রগতি সর্ব্বনিম্ন ৪০ দশমিক ৬৮ শতাংশ। ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে দেশের ১৬০টি উপজেলায় ‘এস্টাব্লিশমেন্ট অব ১৬০ উপজেলা আইসিটি ট্রেনিং অ্যান্ড রিসোর্স সেন্টার ফর এডুকেশন প্রকল্প (দ্বিতীয় পর্যায়)’ শুরু হয়।

ব্যানবেইস এই প্রকল্পের বাস্তবায়নকারী সংস্থা। প্রায় নয় বছর ধরে চলা এই প্রকল্পের মেয়াদ নানা কারণে একাধিকবার বাড়াতে হয়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরেও বরাদ্দের বিপরীতে এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি ৪০ দশমিক ৬৮ শতাংশ। তবে ২০২৭ সালের মধ্যেই প্রকল্প শেষ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন প্রকল্প পরিচালক প্রফেসর ড. মো. নাসির উদ্দিন গনি। রূপালী বাংলাদেশকে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর আমি দায়িত্বে এসেছি।

এই হিসেবে আমার কর্মকাল মাত্র ছয় মাস। গত নয় বছরে প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি ছিল মাত্র ১৭ শতাংশ। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৪ শতাংশে। ’ তিনি আরও বলেন, ‘আশা করি ২০২৭ সালের মধ্যেই প্রকল্প শেষ করে ফেলব। ’ মাউশির অধীনে বাস্তবায়ন হচ্ছে ৯টি প্রকল্প।

মাউশির পরিকল্পনা ও উন্নয়ন উইংয়ের পরিচালক প্রফেসর ড. মীর জাহীদা নাজনীন পদাধিকারবলে এসব প্রকল্পের তত্ত্বাবধানের পাশপাশি ‘ঢাকা শহর সন্নিকটবর্তী এলাকায় ১০টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্প’-এর প্রকল্প পরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। ১০ স্কুল ও মাউশির প্রকল্প লক্ষ্য পূরণ করতে না পারা বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের নির্মাণসংক্রান্ত অনেক প্রকল্প ইইডির মাধ্যমেও বাস্তবায়ন হয়।

কিন্তু সেটি আলোচনায় আসে না। আমাদের প্রকল্পগুলোর মধ্যে শ্রেণিকক্ষে মাল্টিমিডিয়া স্থাপনের একটি বিষয় ছিল। এ ক্ষেত্রে শ্রেণিকক্ষে ইন্টারঅ্যাকটিভ প্যানেল বসবে না স্মার্ট টিভি বসবে- তা নিয়ে অনেক সময় নষ্ট হওয়ায় বাস্তবায়ন অগ্রগতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ’ শিক্ষার ৭২ প্রকল্পে বাস্তবায়ন অগ্রগতি ৭৫ দশমিক ১৭ শতাংশ হলেও তা জাতীয় অগ্রগতির তুলনায় ভালো বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের গবেষণা শাখার গবেষণা কর্মকর্তা গোলাম মোহাম্মদ ফারুক।

তিনি বলেন, ‘জাতীয় অগ্রগতির তুলনায় শিক্ষার প্রকল্পে অগ্রগতি প্রায় ৮ শতাংশ বেশি। ’ এ বিষয়ে বিভিন্ন প্রকল্পের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে তিনি জানান। ২০ আগস্টের মধ্যে অব্যয়িত অর্থের বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক বা সংস্থাপ্রধানদের ব্যাখ্যা দেওয়ার কথা থাকলেও সেটি পাওয়া যায়নি বলে তিনি জানান।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ২৯ অঙ্গরাজ্যে মামলার শুনানি চলছে

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ৭২ প্রকল্পে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থতা

Update Time : 10:23:03 pm, Sunday, 23 August 2026

২০২৫-২৬ অর্থবছরে সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (আরএডিপি) বাস্তবায়নে কাঙ্ক্ষিত শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের আওতাধীন ৭২টি প্রকল্প।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে আরএডিপিতে ৭২টি চলমান প্রকল্পের বিপরীতে মোট বরাদ্দ ছিল ৬১৯০ দশমিক ১৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের অর্থায়ন ৫৩১৪ দশমিক ৪৯ কোটি ও প্রকল্প সহায়তা (বিদেশি সাহায্য) ৮৭৫ দশমিক ৬৪ কোটি টাকা। প্রকল্পে আরএডিপি বরাদ্দের বিপরীতে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ৪৬৫২ দশমিক ৮২ কোটি টাকা; যা মোট বরাদ্দের ৭৫ দশমিক ১৭ শতাংশ।

অথচ আগের অর্থবছরে (২০২৪-২৫) একই সময় আর্থিক অগ্রগতি ছিল ৮০ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ। অন্যদিকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুন পর্যন্ত জাতীয় অগ্রগতির হারও শতভাগ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩৩ শতাংশ কম। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা সভার কার্যবিবরণী থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলতি অর্থবছরে আরএডিপি কাক্সিক্ষত অগ্রগতি অর্জন করতে না পারায় প্রকল্প বাস্তবায়নে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এতে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, জাতীয় পর্যায়ের তুলনায় শিক্ষার প্রকল্পগুলো ভালো করেছে। জানা গেছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের আওতাধীন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তর, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর (ইইডি), বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি), বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস) এবং বাংলাদেশ স্কাউটসের আওতায় বাস্তবায়নাধীন উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর গত এক বছরের (জুলাই ২০২৫ থেকে জুন ২০২৬) বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিয়ে গত ৩০ জুলাই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক। পরে গত ২০ আগস্ট ওই সভার অনুমোদিত কার্যবিবরণী সংশ্লিষ্টদের পাঠানো হয়। কার্যবিবরণী থেকে জানা যায়, সভায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আরএডিপি বাস্তবায়ন অগ্রগতির হার ‘খুবই কম’ মন্তব্য করে হতাশা প্রকাশ করা হয়। কম অগ্রগতির পক্ষে অনেক যুক্তিই থাকতে পারে মন্তব্য করে সভায় বলা হয়, ‘বছর শেষ হওয়ার তিন-চার মাস আগে বাজেট নিয়ে তা ৫০ শতাংশ ব্যয় করতে না পারা খুবই দুঃখজনক।

’ সভায় ৫০ শতাংশের নিচে যেসব প্রকল্পের অর্থ অব্যয়িত রয়েছে, তাদের ২০ আগস্টের মধ্যে ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি আগামীতে যথাযথভাবে হিসাব করে ব্যয়যোগ্য বরাদ্দ প্রস্তাব চাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে প্রকল্পের অব্যয়িত অর্থের বিষয়ে গতকাল রোববার পর্যন্ত ব্যাখ্যা পায়নি বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখা।

সভায় আরও বলা হয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সব কাজের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীসহ সবাই সব সময় অবহিত থাকেন। তাই এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক ও সংস্থা প্রধানদের বছরের শুরু থেকে প্রকল্প কার্যক্রমে আরও আন্তরিক হয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বরাদ্দ শতভাগ ব্যয়ের অনুরোধ করা হয়। সরেজমিন পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে ‘সরকারি কলেজগুলোর বিজ্ঞান শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ’ প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজে সরবরাহ করা আসবাব খুবই নিম্নমানের বলে সভায় জানানো হয়।

ইতিপূর্বে অনুষ্ঠিত সভায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এডিপি বরাদ্দের আলোকে বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা ও বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পাঠানোর কথা বলা হলেও কোনো সংস্থা থেকেই তা পাওয়া যায়নি বলে সভাকে অবহিত করা হয়। সভায় প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রকল্প পরিচালককে আরও বেশি সচেতন থাকার কথা বলা হয়। পাশাপাশি এ বিষয়ে কারও মনোযোগ কম থাকলে অন্য কোনো দপ্তরে বদলি বা পদায়ন নেওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়।

সভায় বিস্তারিত আলোচনা শেষে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সিদ্ধান্তগুলো হলো- শতভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়ন; ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এডিপি বরাদ্দ অনুযায়ী সব প্রকল্পের কর্ম ও ক্রয় পরিকল্পনা প্রেরণ; ২০ আগস্টের মধ্যে প্রকল্পের সমাপ্তি প্রতিবেদন বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ মূল্যায়ন বিভাগে প্রেরণ; প্রকল্পের অব্যয়িত অর্থের বিষয়ে ব্যাখ্যা ও ব্যয়যোগ্য বরাদ্দ প্রস্তাব এবং ‘সরকারি কলেজগুলোর বিজ্ঞান শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ’ প্রকল্পের বিষয়ে পরিদর্শন প্রতিবেদনের আলোকে ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরেজমিন পরিদর্শন করে সরবরাহ করা আসবাবের মান যাচাই করা।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের আওতাধীন মাউশি, ইইডি, ব্যানবেইস এবং বাংলাদেশ স্কাউটসের আওতায় বর্তমানে শিক্ষার ৭২টি প্রকল্প চলমান। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের গবেষণা শাখার ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই ২০২৫ থেকে জুন ২০২৬ পর্যন্ত। বাস্তবায়ন অগ্রগতির ছক থেকে জানা যায়, আলোচ্য অর্থবছরে ৭২টি প্রকল্পে আরএডিপি মোট বরাদ্দ ছিল ৬১৯০ দশমিক ১৩ কোটি।

উল্লিখিত সময়ে বরাদ্দ হয়েছে ৪৬৫২৮২ দশমিক ১৫ কোটি। বরাদ্দের বিপরীতে ৭২ প্রকল্পে বাস্তবায়নের হার ৭৫ দশমিক ১৭ শতাংশ। উল্লেখ্য, ৭২ প্রকল্পে মোট বরাদ্দের মধ্যে সরকারি বরাদ্দ ৪৩৪০০০ দশমিক শূন্য ২-এর বিপরীতে বাস্তবায়নের হার ৮১ দশমিক ৬৬ শতাংশ হলেও প্রকল্প সাহায্য (বিদেশি) ৩১২৮২ দশমিক ১৩ বরাদ্দের বিপরীতে বাস্তবায়নের হার ৩৫ দশমিক ৭২ শতাংশ।

৭২টি প্রকল্পের মধ্যে মাউশির অধিনে ৯টি, ইইডির অধীনে ১৬টি, ইউজিসির অধীনে সর্বোচ্চ ৪৬টি, ব্যানবেইসের অধীনে ১টি এবং বাংলাদেশ স্কাউটসের অধীনে ২টি বাস্তবায়িত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অনেক প্রকল্প বাস্তবায়নে একাধিক সংস্থার সম্পৃক্ততা থাকায় একটির দুর্বলতায় পুরো প্রকল্পের মূল্যায়নেই নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। প্রকল্প বাস্তবায়নকারী পাঁচ সংস্থা বা অধিদপ্তরের মধ্যে ইইডির বাস্তবায়ন অগ্রগতি সবচেয়ে ভালো।

ইইডির ১৬ প্রকল্পে মোট ৭২৮২৫ দশমিক ৯৭ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে পুরোটাই ব্যয়িত হয়েছে। বরাদ্দের বিপরীতে বাস্তবায়নের অগ্রগতি ৯৭ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ। ৭২টি প্রকল্পের মধ্যে সর্বোচ্চ ৪৪টি প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা ইউজিসি। ইউজিসির এসব প্রকল্পে ২৩৮৯৬২ দশমিক ২৯ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে বাস্তবায়ন অগ্রগতি ৭৯ দশমিক ১৩ শতাংশ। মাউশির ৯ প্রকল্পে ১৪৬২২৭ দশমিক ২৮ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে বাস্তবায়ন অগ্রগতি ৬৫ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ।

বাংলাদেশ স্কাউটসের ২টি প্রকল্পে ১৩৬৭ দশমিক ৪০ টাকার বিপরীতে বাস্তবায়ন অগ্রগতি ৫৪ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। ব্যানবেইসের ১টি প্রকল্পে ৫৮৯৯ দশমিক ২১ টাকার বিপরীতে বাস্তবায়ন অগ্রগতি সর্ব্বনিম্ন ৪০ দশমিক ৬৮ শতাংশ। ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে দেশের ১৬০টি উপজেলায় ‘এস্টাব্লিশমেন্ট অব ১৬০ উপজেলা আইসিটি ট্রেনিং অ্যান্ড রিসোর্স সেন্টার ফর এডুকেশন প্রকল্প (দ্বিতীয় পর্যায়)’ শুরু হয়।

ব্যানবেইস এই প্রকল্পের বাস্তবায়নকারী সংস্থা। প্রায় নয় বছর ধরে চলা এই প্রকল্পের মেয়াদ নানা কারণে একাধিকবার বাড়াতে হয়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরেও বরাদ্দের বিপরীতে এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি ৪০ দশমিক ৬৮ শতাংশ। তবে ২০২৭ সালের মধ্যেই প্রকল্প শেষ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন প্রকল্প পরিচালক প্রফেসর ড. মো. নাসির উদ্দিন গনি। রূপালী বাংলাদেশকে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর আমি দায়িত্বে এসেছি।

এই হিসেবে আমার কর্মকাল মাত্র ছয় মাস। গত নয় বছরে প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি ছিল মাত্র ১৭ শতাংশ। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৪ শতাংশে। ’ তিনি আরও বলেন, ‘আশা করি ২০২৭ সালের মধ্যেই প্রকল্প শেষ করে ফেলব। ’ মাউশির অধীনে বাস্তবায়ন হচ্ছে ৯টি প্রকল্প।

মাউশির পরিকল্পনা ও উন্নয়ন উইংয়ের পরিচালক প্রফেসর ড. মীর জাহীদা নাজনীন পদাধিকারবলে এসব প্রকল্পের তত্ত্বাবধানের পাশপাশি ‘ঢাকা শহর সন্নিকটবর্তী এলাকায় ১০টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্প’-এর প্রকল্প পরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। ১০ স্কুল ও মাউশির প্রকল্প লক্ষ্য পূরণ করতে না পারা বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের নির্মাণসংক্রান্ত অনেক প্রকল্প ইইডির মাধ্যমেও বাস্তবায়ন হয়।

কিন্তু সেটি আলোচনায় আসে না। আমাদের প্রকল্পগুলোর মধ্যে শ্রেণিকক্ষে মাল্টিমিডিয়া স্থাপনের একটি বিষয় ছিল। এ ক্ষেত্রে শ্রেণিকক্ষে ইন্টারঅ্যাকটিভ প্যানেল বসবে না স্মার্ট টিভি বসবে- তা নিয়ে অনেক সময় নষ্ট হওয়ায় বাস্তবায়ন অগ্রগতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ’ শিক্ষার ৭২ প্রকল্পে বাস্তবায়ন অগ্রগতি ৭৫ দশমিক ১৭ শতাংশ হলেও তা জাতীয় অগ্রগতির তুলনায় ভালো বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের গবেষণা শাখার গবেষণা কর্মকর্তা গোলাম মোহাম্মদ ফারুক।

তিনি বলেন, ‘জাতীয় অগ্রগতির তুলনায় শিক্ষার প্রকল্পে অগ্রগতি প্রায় ৮ শতাংশ বেশি। ’ এ বিষয়ে বিভিন্ন প্রকল্পের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে তিনি জানান। ২০ আগস্টের মধ্যে অব্যয়িত অর্থের বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক বা সংস্থাপ্রধানদের ব্যাখ্যা দেওয়ার কথা থাকলেও সেটি পাওয়া যায়নি বলে তিনি জানান।