আজ রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
৮ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ০৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি
৩২°C
সর্বোচ্চ: ৩৪°C
সর্বনিম্ন: ২৬°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৯৮%

টেকনাফে নাফ নদীতে ৩ কেজি আইসসহ মিয়ানমারের নাগরিক আটক

  • MIT ERP
  • Update Time : 02:12:05 pm, Sunday, 23 August 2026
  • 12

টেকনাফে নাফ নদীতে ৩ কেজি আইসসহ মিয়ানমারের নাগরিক আটক

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

কক্সবাজারের টেকনাফে নাফ নদীতে অভিযান চালিয়ে ৩ কেজি ক্রিস্টাল মেথ বা আইস উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মিয়ানমারের এক নাগরিককে আটক করা হয়।

অভিযানের সময় নৌকায় থাকা আরও তিনজন মাদক পাচারকারী নাফ নদীতে ঝাঁপ দিয়ে পালিয়ে যায়। শনিবার (২২ আগস্ট) ভোরে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি)-এর অধীনস্থ সাবরাং বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। বিজিবি সূত্রে জানা যায়, নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবি জানতে পারে, মিয়ানমার থেকে নাফ নদী অতিক্রম করে সাবরাং এলাকা দিয়ে মাদকের একটি বড় চালান বাংলাদেশে প্রবেশ করানো হবে।

এ তথ্যের ভিত্তিতে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি)-এর অধিনায়কের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় নাফ নদীতে বিশেষ অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি নেওয়া হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী বিজিবির একটি বিশেষ আভিযানিক দল অত্যাধুনিক ফ্যান্টম বোট নিয়ে রাত আনুমানিক ১টার দিকে সাবরাং বিওপির নিকটবর্তী নাফ নদীতে কৌশলগত অবস্থান নেয়। পরে সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে প্রযুক্তিগত নজরদারির মাধ্যমে মিয়ানমার জলসীমা থেকে একটি কাঠের নৌকা বাংলাদেশের জলসীমার দিকে প্রবেশ করতে দেখা যায়।

বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর বিজিবির নৌ-টহলদল দ্রুত নৌকাটির দিকে এগিয়ে গিয়ে সেটিকে চ্যালেঞ্জ করে। বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে নৌকায় থাকা মাদক পাচারকারীদের মধ্যে তিনজন নাফ নদীতে ঝাঁপ দিয়ে সাঁতরে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পালিয়ে যায়। তবে অভিযানে মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত এক মিয়ানমার নাগরিককে আটক করতে সক্ষম হয় বিজিবি। আটক ব্যক্তির নাম মো. শাহ আলম (৫০)।

তিনি মিয়ানমারের মংডু থানার পুইমালি গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম ফজল করিম এবং মায়ের নাম মরিয়ম খাতুন। পরে নৌকাটিতে তল্লাশি চালিয়ে একটি গোপন কুঠুরিতে কৌশলে লুকিয়ে রাখা তিনটি প্যাকেট থেকে মোট ৩ কেজি ক্রিস্টাল মেথ (আইস) উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি হস্তচালিত কাঠের নৌকা ও দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।

বিজিবি জানিয়েছে, সদস্যদের প্রযুক্তিগত নজরদারি, তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং আভিযানিক দক্ষতার কারণে মাদকের বড় এই চালান বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা নস্যাৎ করা সম্ভব হয়েছে। টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক বলেন, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি মাদক চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশসহ সীমান্ত এলাকায় সংঘটিত সব ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও তৎপর রয়েছে।

বিশেষ করে ভয়াবহ মাদক ক্রিস্টাল মেথ (আইস) পাচার প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি, প্রযুক্তিগত পর্যবেক্ষণ, নৌ-টহল ও বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদার করা হবে। আটক ব্যক্তি, উদ্ধারকৃত ক্রিস্টাল মেথ (আইস) এবং অন্যান্য জব্দ আলামত নিয়মিত মামলার মাধ্যমে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনায় হোটেল মালিক বীরেশ্বর মিত্র গ্রেপ্তার

টেকনাফে নাফ নদীতে ৩ কেজি আইসসহ মিয়ানমারের নাগরিক আটক

Update Time : 02:12:05 pm, Sunday, 23 August 2026

কক্সবাজারের টেকনাফে নাফ নদীতে অভিযান চালিয়ে ৩ কেজি ক্রিস্টাল মেথ বা আইস উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মিয়ানমারের এক নাগরিককে আটক করা হয়।

অভিযানের সময় নৌকায় থাকা আরও তিনজন মাদক পাচারকারী নাফ নদীতে ঝাঁপ দিয়ে পালিয়ে যায়। শনিবার (২২ আগস্ট) ভোরে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি)-এর অধীনস্থ সাবরাং বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। বিজিবি সূত্রে জানা যায়, নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবি জানতে পারে, মিয়ানমার থেকে নাফ নদী অতিক্রম করে সাবরাং এলাকা দিয়ে মাদকের একটি বড় চালান বাংলাদেশে প্রবেশ করানো হবে।

এ তথ্যের ভিত্তিতে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি)-এর অধিনায়কের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় নাফ নদীতে বিশেষ অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি নেওয়া হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী বিজিবির একটি বিশেষ আভিযানিক দল অত্যাধুনিক ফ্যান্টম বোট নিয়ে রাত আনুমানিক ১টার দিকে সাবরাং বিওপির নিকটবর্তী নাফ নদীতে কৌশলগত অবস্থান নেয়। পরে সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে প্রযুক্তিগত নজরদারির মাধ্যমে মিয়ানমার জলসীমা থেকে একটি কাঠের নৌকা বাংলাদেশের জলসীমার দিকে প্রবেশ করতে দেখা যায়।

বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর বিজিবির নৌ-টহলদল দ্রুত নৌকাটির দিকে এগিয়ে গিয়ে সেটিকে চ্যালেঞ্জ করে। বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে নৌকায় থাকা মাদক পাচারকারীদের মধ্যে তিনজন নাফ নদীতে ঝাঁপ দিয়ে সাঁতরে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পালিয়ে যায়। তবে অভিযানে মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত এক মিয়ানমার নাগরিককে আটক করতে সক্ষম হয় বিজিবি। আটক ব্যক্তির নাম মো. শাহ আলম (৫০)।

তিনি মিয়ানমারের মংডু থানার পুইমালি গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম ফজল করিম এবং মায়ের নাম মরিয়ম খাতুন। পরে নৌকাটিতে তল্লাশি চালিয়ে একটি গোপন কুঠুরিতে কৌশলে লুকিয়ে রাখা তিনটি প্যাকেট থেকে মোট ৩ কেজি ক্রিস্টাল মেথ (আইস) উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি হস্তচালিত কাঠের নৌকা ও দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।

বিজিবি জানিয়েছে, সদস্যদের প্রযুক্তিগত নজরদারি, তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং আভিযানিক দক্ষতার কারণে মাদকের বড় এই চালান বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা নস্যাৎ করা সম্ভব হয়েছে। টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক বলেন, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি মাদক চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশসহ সীমান্ত এলাকায় সংঘটিত সব ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও তৎপর রয়েছে।

বিশেষ করে ভয়াবহ মাদক ক্রিস্টাল মেথ (আইস) পাচার প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি, প্রযুক্তিগত পর্যবেক্ষণ, নৌ-টহল ও বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদার করা হবে। আটক ব্যক্তি, উদ্ধারকৃত ক্রিস্টাল মেথ (আইস) এবং অন্যান্য জব্দ আলামত নিয়মিত মামলার মাধ্যমে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।