আজ শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬
৬ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ০৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৮°C
সর্বোচ্চ: ৩৪°C
সর্বনিম্ন: ২৭°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৭৮%

সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রধান বাধা বন্যপ্রাণী শিকার

  • MIT ERP
  • Update Time : 09:54:14 pm, Friday, 21 August 2026
  • 6

সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রধান বাধা বন্যপ্রাণী শিকার

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বড় বাধা বন্যপ্রাণী শিকার। উপকূলীয় অঞ্চলে সক্রিয় এই অপরাধী চক্রের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা এরইমধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। যেখানে বণ্যপ্রাণী শিকারে সরাসরি জড়িত ১৫০ জনকে চিহ্নিত করেছে বন বিভাগ।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপূর্ব লীলাভূমি সুন্দরবন। জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধিশালী হওয়ায় এরই মধ্যে পেয়েছে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। এই বনের অন্যতম আকর্ষণ বাঘ, হরিণ, লোনা জলের কুমিরসহ নানা প্রজাতির বন্যপ্রাণী। তবে শিকারিদের কারণে হুমকির মুখে এসব প্রাণী।

বনের ভেতরে ফাঁদ পাতা, বিষটোপ কিংবা গুলি করে বন্যপ্রাণী নিধনে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় এই চক্রটি। বন বিভাগের নিয়মিত টহলে অপরাধের হার কিছুটা কমেলেও শিকারিদের নেটওয়ার্ক পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া সম্ভব হয়নি।

বন্যপ্রাণী রক্ষায় অবৈধ শিকার বন্ধে শিকারিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে বন বিভাগ। নেওয়া হয়েছে বিশেষ উদ্যোগ।

পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘সুন্দরবনের প্রাকৃতিক ভারসাম্য এবং বিপন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণী রক্ষায় আমরা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। চিহ্নিত ১৫০ জন শিকারির তালিকা গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে দেওয়া হয়েছে। তাদের আইনের আওতায় আনতে আমাদের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও বন দস্যুমুক্ত করতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে সরকার বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।

সব বাহিনী ও বনবিভাগের সমন্বয়ে দ্রুতই অভিযান পরিচালনা হবে।

প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘কোনো প্রকার দুর্বৃত্তায়ন বরদাস্ত করা হবে না। সুন্দরবনকে রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদেরই।’

পরিবেশবাদীরা বলছেন, বন্যপ্রাণী শিকার ও পাচার চক্রকে আইনের আওতায় না আনা গেলে সুন্দরবনের সম্পদ রক্ষা করা কঠিন হবে।

সুন্দরবন রক্ষায় আমরা–এর আহ্বায়ক মো. নুর আলম শেখ বলেন, ‘শুধু মাঠপর্যায়ের শিকারি নয়, বন্যপ্রাণী শিকার ও পাচার চক্রের মূল হোতা বা গডফাদারদের আইনের আওতায় আনা না গেলে সুন্দরবনের অমূল্য সম্পদ রক্ষা করা কঠিন হবে।’

সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় শিকারিদের বিরুদ্ধে এই কঠোর পদক্ষেপ কতটা সফল হয়, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষা।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রধান বাধা বন্যপ্রাণী শিকার

Update Time : 09:54:14 pm, Friday, 21 August 2026

সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বড় বাধা বন্যপ্রাণী শিকার। উপকূলীয় অঞ্চলে সক্রিয় এই অপরাধী চক্রের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা এরইমধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। যেখানে বণ্যপ্রাণী শিকারে সরাসরি জড়িত ১৫০ জনকে চিহ্নিত করেছে বন বিভাগ।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপূর্ব লীলাভূমি সুন্দরবন। জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধিশালী হওয়ায় এরই মধ্যে পেয়েছে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। এই বনের অন্যতম আকর্ষণ বাঘ, হরিণ, লোনা জলের কুমিরসহ নানা প্রজাতির বন্যপ্রাণী। তবে শিকারিদের কারণে হুমকির মুখে এসব প্রাণী।

বনের ভেতরে ফাঁদ পাতা, বিষটোপ কিংবা গুলি করে বন্যপ্রাণী নিধনে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় এই চক্রটি। বন বিভাগের নিয়মিত টহলে অপরাধের হার কিছুটা কমেলেও শিকারিদের নেটওয়ার্ক পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া সম্ভব হয়নি।

বন্যপ্রাণী রক্ষায় অবৈধ শিকার বন্ধে শিকারিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে বন বিভাগ। নেওয়া হয়েছে বিশেষ উদ্যোগ।

পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘সুন্দরবনের প্রাকৃতিক ভারসাম্য এবং বিপন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণী রক্ষায় আমরা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। চিহ্নিত ১৫০ জন শিকারির তালিকা গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে দেওয়া হয়েছে। তাদের আইনের আওতায় আনতে আমাদের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও বন দস্যুমুক্ত করতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে সরকার বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।

সব বাহিনী ও বনবিভাগের সমন্বয়ে দ্রুতই অভিযান পরিচালনা হবে।

প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘কোনো প্রকার দুর্বৃত্তায়ন বরদাস্ত করা হবে না। সুন্দরবনকে রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদেরই।’

পরিবেশবাদীরা বলছেন, বন্যপ্রাণী শিকার ও পাচার চক্রকে আইনের আওতায় না আনা গেলে সুন্দরবনের সম্পদ রক্ষা করা কঠিন হবে।

সুন্দরবন রক্ষায় আমরা–এর আহ্বায়ক মো. নুর আলম শেখ বলেন, ‘শুধু মাঠপর্যায়ের শিকারি নয়, বন্যপ্রাণী শিকার ও পাচার চক্রের মূল হোতা বা গডফাদারদের আইনের আওতায় আনা না গেলে সুন্দরবনের অমূল্য সম্পদ রক্ষা করা কঠিন হবে।’

সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় শিকারিদের বিরুদ্ধে এই কঠোর পদক্ষেপ কতটা সফল হয়, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষা।