4:48 am, Sunday, 2 August 2026

কুড়িগ্রামে স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত স্বামীকে তাড়িয়ে দেওয়ায় এসআই ৫ ঘণ্টা অবরুদ্ধ

  • MIT ERP
  • Update Time : 03:37:01 am, Sunday, 2 August 2026
  • 3
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় স্ত্রীকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামীকে টাকার বিনিময়ে তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উলিপুর থানার সাব-ইন্সপেক্টরের (এসআই) খাইরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। গতকাল শুক্রবার উলিপুর পৌরসভা নিজাই খামার এলাকার হাজীপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী ওই এসআইকে অবরুদ্ধ করে রাখলে দীর্ঘ ৫ ঘণ্টা পর স্থানীয় মাতব্বরদের মধ্যস্থতায় তিনি মুক্ত হন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক কলহের জেরে মজনু মিয়া নামের এক ব্যক্তি তার স্ত্রী বিথি বেগমকে পিটিয়ে দুই কানের পর্দা ফাটিয়ে দেন এনং গুরুতর জখম করে। মুমূর্ষু অবস্থায় গ্রামবাসী গৃহবধূকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের অভিভাবক ও গ্রামবাসী সালিশে বসেন। বৈঠক চলাকালে মজনুর বাবার ফোন পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর ডিউটিরত উলিপুর থানার এসআই খাইরুল ইসলামসহ একজন পুলিশ সদস্যসহ বিকেল ৪টার দিকে ঘটনাস্থলে আসেন। অভিযোগ উঠেছে, ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই এসআই রক্তাক্ত জখমের মূল অভিযুক্তকে হেফাজতে না নিয়ে উল্টো কৌশলে একটি লাথি মেরে সালিশ থেকে তাড়িয়ে দেন এবং মজনু দৌড়ে পালিয়ে যায়। ভুক্তভোগীর স্বজন ও গ্রামবাসীদের দাবি, মজনুর বাবার কাছ থেকে অবৈধ সুবিধা নিয়ে ওই এসআই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আসামিকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। আসামিকে এভাবে তাড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় উপস্থিত জনতা চরম ক্ষুব্ধ হয়ে ওই এসআইকে অবরুদ্ধ করে ফেলেন। অবস্থা বেগতিক দেখে সঙ্গে থাকা অন্য পুলিশ সদস্য দ্রুত কেটে পড়লেও অবরুদ্ধ এসআই অবমাননাকর পরিস্থিতিতে বিকেল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত টানা ৫ ঘণ্টা আটকে থাকেন। পরবর্তীতে গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এসে পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য আবার সালিশ বৈঠক বসান এবং ওই বৈঠকের অংশ হিসেবে এসআই খাইরুল সালিশের শেষ পর্যন্ত ওখানেই অবস্থান করেন। জরুরি ডিউটিতে গিয়ে ফৌজদারি অপরাধের অভিযুক্তকে নিজ হেফাজতে না নিয়ে সালিশে অংশ নেওয়া এবং আসামিকে তাড়িয়ে দেওয়ার এই ঘটনায় ওই এসআইয়ের পেশাদারিত্ব ও ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে এলাকায়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত এসআই খাইরুল ইসলাম জানান, ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে গিয়ে ছেলেটিকে বের করে আনি। আমি তাকে শাসন করার জন্য একটি লাথি মারি। এরপর কথা বলার সময় সে পাশের দিকে চলে যায়, পরে আর তাকে পাওয়া যায়নি। আমাকে কেউ অবরুদ্ধ করে রাখেনি। স্থানীয় মেম্বার লিটন মিয়া ও রফিকুল ইসলাম মীমাংসার চেষ্টা করবেন বলায় আমি ওখানে ২-৩ ঘণ্টা অপেক্ষা করি। অবৈধ সুবিধা নেওয়ার কথা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তিনি। এ বিষয়ে উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিক জানান, এ ঘটনায় তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

কুড়িগ্রামে স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত স্বামীকে তাড়িয়ে দেওয়ায় এসআই ৫ ঘণ্টা অবরুদ্ধ

Update Time : 03:37:01 am, Sunday, 2 August 2026

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় স্ত্রীকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামীকে টাকার বিনিময়ে তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উলিপুর থানার সাব-ইন্সপেক্টরের (এসআই) খাইরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। গতকাল শুক্রবার উলিপুর পৌরসভা নিজাই খামার এলাকার হাজীপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী ওই এসআইকে অবরুদ্ধ করে রাখলে দীর্ঘ ৫ ঘণ্টা পর স্থানীয় মাতব্বরদের মধ্যস্থতায় তিনি মুক্ত হন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক কলহের জেরে মজনু মিয়া নামের এক ব্যক্তি তার স্ত্রী বিথি বেগমকে পিটিয়ে দুই কানের পর্দা ফাটিয়ে দেন এনং গুরুতর জখম করে। মুমূর্ষু অবস্থায় গ্রামবাসী গৃহবধূকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের অভিভাবক ও গ্রামবাসী সালিশে বসেন। বৈঠক চলাকালে মজনুর বাবার ফোন পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর ডিউটিরত উলিপুর থানার এসআই খাইরুল ইসলামসহ একজন পুলিশ সদস্যসহ বিকেল ৪টার দিকে ঘটনাস্থলে আসেন। অভিযোগ উঠেছে, ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই এসআই রক্তাক্ত জখমের মূল অভিযুক্তকে হেফাজতে না নিয়ে উল্টো কৌশলে একটি লাথি মেরে সালিশ থেকে তাড়িয়ে দেন এবং মজনু দৌড়ে পালিয়ে যায়। ভুক্তভোগীর স্বজন ও গ্রামবাসীদের দাবি, মজনুর বাবার কাছ থেকে অবৈধ সুবিধা নিয়ে ওই এসআই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আসামিকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। আসামিকে এভাবে তাড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় উপস্থিত জনতা চরম ক্ষুব্ধ হয়ে ওই এসআইকে অবরুদ্ধ করে ফেলেন। অবস্থা বেগতিক দেখে সঙ্গে থাকা অন্য পুলিশ সদস্য দ্রুত কেটে পড়লেও অবরুদ্ধ এসআই অবমাননাকর পরিস্থিতিতে বিকেল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত টানা ৫ ঘণ্টা আটকে থাকেন। পরবর্তীতে গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এসে পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য আবার সালিশ বৈঠক বসান এবং ওই বৈঠকের অংশ হিসেবে এসআই খাইরুল সালিশের শেষ পর্যন্ত ওখানেই অবস্থান করেন। জরুরি ডিউটিতে গিয়ে ফৌজদারি অপরাধের অভিযুক্তকে নিজ হেফাজতে না নিয়ে সালিশে অংশ নেওয়া এবং আসামিকে তাড়িয়ে দেওয়ার এই ঘটনায় ওই এসআইয়ের পেশাদারিত্ব ও ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে এলাকায়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত এসআই খাইরুল ইসলাম জানান, ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে গিয়ে ছেলেটিকে বের করে আনি। আমি তাকে শাসন করার জন্য একটি লাথি মারি। এরপর কথা বলার সময় সে পাশের দিকে চলে যায়, পরে আর তাকে পাওয়া যায়নি। আমাকে কেউ অবরুদ্ধ করে রাখেনি। স্থানীয় মেম্বার লিটন মিয়া ও রফিকুল ইসলাম মীমাংসার চেষ্টা করবেন বলায় আমি ওখানে ২-৩ ঘণ্টা অপেক্ষা করি। অবৈধ সুবিধা নেওয়ার কথা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তিনি। এ বিষয়ে উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিক জানান, এ ঘটনায় তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।