পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের কোহাটে পুলিশ সদর দপ্তরে বিস্ফোরণ ও বন্দুক হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৩১ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১৬ জন পুলিশ সদস্য।
হামলায় আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) এক পুলিশ কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার মানুষের শহর কোহাটের ওল্ড পুলিশ লাইনস কমপ্লেক্সে হামলা চালায় সশস্ত্র হামলাকারীরা। এটি জেলার গুরুত্বপূর্ণ পুলিশ সদর দপ্তর। সেখানে সন্ত্রাসবিরোধী বিভাগ, স্পেশাল ব্রাঞ্চসহ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের কার্যালয় রয়েছে।
পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, কমপ্লেক্সের স্পেশাল ব্রাঞ্চ অংশে কয়েকজন হামলাকারী এখনো অবস্থান করছে। গতরাত থেকে তাদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর গোলাগুলি চলছে। সেখানে ঠিক কতজন হামলাকারী রয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কোহাটের জেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হামলায় শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। আহতদের বেশিরভাগই পুলিশ সদস্য এবং কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
হামলার দায় স্বীকার করেছে স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠী ইত্তেহাদ-উল-মুজাহিদিন পাকিস্তান। গোষ্ঠীটি পাকিস্তান তালেবান বা তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি পক্ষ। হামলার পর ঘটনাস্থলে ধ্বংসস্তূপ ও ক্ষতিগ্রস্ত দেয়ালের পাশে সেনা সদস্যদের অবস্থান করতে দেখা গেছে। এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী এবং ঘটনাস্থলের কাছে সারিবদ্ধভাবে দেখা গেছে বেশ কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্স।
পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে খাইবার পাখতুনখোয়া ও বেলুচিস্তানে হামলার জন্য আফগানিস্তান থেকে পরিচালিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করে আসছে। তবে কাবুলের তালেবান সরকার পাকিস্তানের এসব অভিযোগ অস্বীকার করে। এ নিয়ে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে উত্তেজনা ও সশস্ত্র সংঘাতও বেড়েছে। হামলার ঘটনায় গভীর শোক জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।
আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি ঘটনার তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলেছেন তিনি। প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারিও হতাহতের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে টিটিপিসহ বিদেশি সহায়তায় পরিচালিত সন্ত্রাসীদের পুরোপুরি নির্মূল করা জরুরি বলেও মন্তব্য করেছেন জারদারি।



















