ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় নদীভাঙনের গুজবে এক জামায়াত নেতার নেতৃত্বে রাতের আঁধারে গ্রামীণ সড়কের অন্তত ৩০০ মিটার অংশের ইট উপড়ে চুরির অভিযোগ উঠেছে। এতে চলাচলের একমাত্র পথটি হারিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন দুই গ্রামের কয়েক শতাধিক মানুষ।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে উপজেলার বুড়াইচ ইউনিয়নের চর খোলাবাড়িয়া গ্রামে আলহেরা দাখিল মাদ্রাসা সংলগ্ন রাস্তায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার প্রতিকার ও জড়িতদের বিচার দাবিতে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে স্থানীয় বাসিন্দাদের পক্ষে বাবুল শেখ নামে এক ব্যক্তি আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।
অভিযোগ পত্রে এলাকার একাধিক ব্যক্তি স্বাক্ষর করেছেন। এ ঘটনায় উপজেলার বেলবানা গ্রামের গোলাম কুদ্দুস নামে এক ব্যক্তির নেতৃত্বে একদল লোক জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। গোলাম কুদ্দুস এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর নেতা হিসেবে পরিচিত। তবে দলটির উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ জানিয়েছে, তিনি কেবলই একজন সমর্থক। তিনি কোনো পদে নেই। স্থানীয়দের লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মধুমতি নদীকূল ঘেঁষে নির্মিত চর খোলাবাড়িয়া এলাকার ইটের রাস্তাটি স্থানীয় জনসাধারণের যাতায়াতের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
প্রতিদিন শত শত মানুষ এবং হালকা ও মাঝারি যানবাহন এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে। অভিযোগ উঠেছে, গত শুক্রবার রাতে গোলাম কুদ্দুসের নেতৃত্বে চর খোলাবাড়িয়া গ্রামের মামুন শিকদার, আহাদ মোল্যা, বাচ্চু, আনোয়ার, কাওছার, ভুলু, বুলবুল, আরিফুল, শরিফুল, শামীম, আলমগীর ও হাবি সহ একদল অসাধু চক্র রাস্তায় নেমে পড়ে। মধুমতি নদীতে রাস্তাটি বিলীন হয়ে যাবে; এমন গুজব ছড়িয়ে চক্রটি প্রায় ৩০০ মিটার দীর্ঘ ডাবল ইটের সলিং রাস্তার সব ইট উপড়ে নিয়ে যায়।
স্থানীয়দের দাবি, সড়ক থেকে অন্তত এক লাখ ইট উপড়ে বিভিন্ন বাড়িতে নিয়ে রাখা হয়েছে। শনিবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ইট তুলে নেওয়ার ফলে রাস্তাটি পুরোপুরি কাদামাটি ও খানাখন্দে পরিণত হয়েছে। হাঁটারও কোনো উপায় নেই, বাইসাইকেল বা ভ্যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। অভিযোগের সূত্র ধরে অভিযুক্তদের কয়েকজনের বাড়িতে গিয়ে চুরিকৃত ইট গচ্ছিত রাখার প্রাথমিক সত্যতাও পাওয়া গেছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত গোলাম কুদ্দুস সরাসরি জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। তবে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তারা আমার লোক। কিন্তু তাদের সাথে আমার কয়েকবছর ধরে কোন যোগাযোগ নেই। ‘ এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী এস এম হাফিজুর রহমান বলেন, ‘গোলাম কুদ্দুস আমাদের দলের একজন সমর্থক মাত্র।
তবে দলে তার কোনো পদ-পদবী নেই। ‘ ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী আলফাডাঙ্গা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রতন কুমার মন্ডল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ‘অভিযোগ পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। যাদের কাছে সড়কের ইট পাওয়া গেছে, তাদের আগামী তিন দিনের মধ্যে তা স্বস্থানে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


















