একটি প্রতারণামূলক ফেসবুক পেজ বন্ধ, একজন এজেন্ট গ্রেপ্তার, একটি ব্যাংক হিসাব জব্দ মনে হতে পারে, প্রতারণার গল্প এখানেই শেষ। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। একটি পেজ বন্ধ হলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তৈরি হচ্ছে নতুন পেজ; নম্বর বন্ধ হলে আসছে নতুন নম্বর; ভুয়া অ্যাপ সরিয়ে দিলে ফিরছে অন্য নামে; মিউল অ্যাকাউন্ট জব্দ হলে সামনে আসছে নতুন হিসাব।
নাম বদলায়, নম্বর বদলায়, মানুষ বদলায়— কিন্তু প্রতারণার কৌশল বদলায় না। একজন এজেন্ট গ্রেপ্তার হলেও তার পেছনের নেটওয়ার্ক থেকে যায় আড়ালে। একটি অ্যাপ বন্ধ হলেও প্রযুক্তিগত অবকাঠামো ফিরে আসে নতুন পরিচয়ে। ফলে একটি চক্র ধরা পড়ার আগেই তৈরি হয়ে যায় আরেকটি চক্র। রূপালী বাংলাদেশের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, প্রতারণা এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনো অপরাধ নয়; এর পেছনে গড়ে উঠেছে প্রচার, প্রযুক্তি, অর্থ সংগ্রহ, মিউল অ্যাকাউন্ট ও ডিজিটাল লেনদেননির্ভর একটি অপরাধ-অর্থনীতি।
তাই প্রতারণার অর্থনীতি ভাঙার সবচেয়ে কার্যকর জায়গা হতে পারে টাকার পথ। প্রতারককে ধরার আগে যদি টাকা থামানো যায়, তাহলে ভেঙে দেওয়া যায় পুরো নেটওয়ার্কের অর্থনৈতিক ভিত্তি। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এর পেছনে ধাপে ধাপে তৈরি হয়েছে একটি পূর্ণাঙ্গ কাঠামো প্রযুক্তি তৈরি ও পরিচালনা, ভুয়া পরিচয় ও কনটেন্ট তৈরি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার, সম্ভাব্য ভুক্তভোগী খোঁজা, স্থানীয় এজেন্ট নিয়োগ, অর্থ সংগ্রহ, মিউল অ্যাকাউন্টে টাকা সরানো এবং শেষ পর্যন্ত সেই অর্থের উৎস ও গন্তব্য আড়াল করা।
কোথাও কাজ করছে একজন প্রযুক্তিবিদ, কোথাও প্রচারের লোক, কোথাও স্থানীয় এজেন্ট; আবার অর্থ সরানোর জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে আলাদা নেটওয়ার্ক। ফলে সামনে যে প্রতারণাটি কয়েক মিনিটের একটি ফোনকল বা একটি বিজ্ঞাপন বলে মনে হয়, তার পেছনে থাকতে পারে বহু স্তরের একটি অপরাধচক্র। এই কাঠামোর সবচেয়ে ভয়ংকর দিক হলো, প্রতিটি স্তর আলাদা হলেও তাদের লক্ষ্য এক।
একজন প্রযুক্তি সরবরাহ করে, আরেকজন মানুষকে ফাঁদে ফেলে, তৃতীয়জন টাকা সংগ্রহ করে, অন্য কেউ সেই অর্থ সরিয়ে দেয়। ফলে কোনো একটি স্তরে অভিযান চালিয়ে একজন বা কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করলেও পুরো ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে না; বরং বাকি স্তরগুলো নতুন পরিচয়, নতুন নম্বর, নতুন পেজ কিংবা নতুন অ্যাপ নিয়ে আবার সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পায়। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রতারণার এই ব্যবসায় খরচ কম, বাজার বড়, লাভ দ্রুত।
একটি ভুয়া পেজ, ওয়েবসাইট বা অ্যাপ তৈরি করতে বড় বিনিয়োগ লাগে না। বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে একসঙ্গে হাজারো মানুষের কাছে পৌঁছানো যায়। কয়েকজন ভুক্তভোগী বড় অঙ্কের টাকা দিলেই উঠে আসতে পারে পুরো খরচ, বাকি অর্থই মুনাফা। আর ঝুঁকিও ভাগ করা। একজন ফোন করে, অন্যজন প্রযুক্তি চালায়, কেউ টাকা সংগ্রহ করে, আবার আলাদা নেটওয়ার্ক সেই অর্থ সরিয়ে দেয়।
ফলে একজন ধরা পড়লেও পুরো চক্র বন্ধ হয় না। নতুন পেজ, নম্বর বা অ্যাপ দিয়ে ব্যবসা আবার শুরু করা যায়। এই বাজারের সবচেয়ে বড় সুবিধা সীমাহীন পরিসর। একটি বিজ্ঞাপন বা অ্যাপ একই সময়ে হাজারো মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারে, কিন্তু ভুক্তভোগী বাড়ার সঙ্গে পরিচালন ব্যয় একই হারে বাড়ে না। তার ওপর পরিচিত মানুষের ছবি, ডিপফেক ভিডিও, কৃত্রিম কণ্ঠ, ভুয়া রিভিউ ও মুনাফার স্ক্রিনশট দিয়ে বিশ্বাস তৈরি করাও এখন সহজ; অর্থাৎ প্রতারণায় পণ্য নেই, দোকান নেই, বড় অবকাঠামো নেই— আছে প্রযুক্তি, মানুষের বিশ্বাস এবং দ্রুত টাকা সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা।
তাই প্রশ্ন এখন, প্রতারকেরা কীভাবে মানুষের ভয়, লোভ ও বিশ্বাসকে টাকায় পরিণত করছে? সেখানেই সামনে আসে প্রতারণার সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র মানুষের মনস্তত্ত্ব। কেন মানুষ বারবার এই ফাঁদে পড়ছে : প্রতারণার শিকারকে শুধু ‘লোভী’ বা ‘অসচেতন’ বললে আসল চিত্রটি আড়ালে থেকে যায়। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রতারকেরা এখন মানুষের দুর্বলতা বুঝেই ফাঁদ সাজাচ্ছে— কোথাও দ্রুত লাভের প্রলোভন, কোথাও ঋণের চাপ, কোথাও চাকরির প্রয়োজন, আবার কোথাও স্বজনের বিপদের ভয়।
এই ফাঁদের সবচেয়ে কার্যকর কৌশল সময় না দেওয়া। ‘এখনই টাকা পাঠান’, ‘অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাবে’ কিংবা ‘আজই বিনিয়োগ করলে দ্বিগুণ লাভ’— এ ধরনের বার্তা মানুষকে যাচাইয়ের সুযোগ না দিয়েই সিদ্ধান্তে ঠেলে দেয়। ভয় ও লোভের সেই কয়েক মিনিটই প্রতারকদের মূল অস্ত্র। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রযুক্তি। পরিচিত মানুষের কণ্ঠ নকল, কর্মকর্তার পরিচয়ে ফোন, ভুয়া ওয়েবসাইট, নকল নথি কিংবা ডিপফেক ভিডিও— সব মিলিয়ে এখন বিশ্বাসেরও কৃত্রিম সংস্করণ তৈরি করা যাচ্ছে।
আর প্রতিটি সফল প্রতারণা পরের ফাঁদকে আরও নিখুঁত করছে। কোন বয়সের মানুষ সাড়া দেয়, কোন বার্তায় ক্লিক বাড়ে, কখন ভয় দেখালে টাকা পাওয়া যায়— এসব অভিজ্ঞতা জমছে প্রতারকদের কাছে; অর্থাৎ প্রত্যেক ভুক্তভোগী শুধু ক্ষতির শিকার হচ্ছেন না; তার আচরণই পরবর্তী প্রতারণার জন্য নতুন তথ্য হয়ে উঠছে। তাই মানুষ বারবার ভুল করছে— শুধু অসচেতনতার কারণে নয়।
প্রতারকেরা মানুষের ভয়, প্রয়োজন, বিশ্বাস ও লোভকে পদ্ধতিগতভাবে অর্থে পরিণত করছে। আর এখানেই প্রতারণা ব্যক্তিগত অপরাধ থেকে রূপ নিচ্ছে একটি ডেটানির্ভর, মনস্তাত্ত্বিক ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসায়। প্রতারণার প্রথম দরজাটি খুলছে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম : প্রতারণার প্রথম দরজাটি অনেক সময় খুলে যায় ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ভুয়া বিনিয়োগ, চাকরি, লোন কিংবা ডিপফেক বিজ্ঞাপন কয়েক মিনিটেই পৌঁছে যেতে পারে হাজারো মানুষের কাছে।
তাই প্রশ্ন, প্রতারণার প্রচার যে প্ল্যাটফর্মে ছড়াচ্ছে, দায় কি শুধু প্রতারকের? একটি ভুয়া বিজ্ঞাপন শনাক্ত হওয়ার পর সেটি সরাতে কত সময় লাগে? অভিযোগ পাওয়ার পর কে যাচাই করে? বন্ধ করা পেজ বা অ্যাকাউন্ট একই নেটওয়ার্ক নতুন পরিচয়ে খুললে সেটি শনাক্ত হয় কীভাবে? এসব প্রশ্নের উত্তরই বলে দেবে প্ল্যাটফর্মের প্রতিরোধব্যবস্থা কতটা কার্যকর।
কারণ একটি প্রতারণামূলক কনটেন্ট অনলাইনে থাকার প্রতিটি মুহূর্তেই নতুন ভুক্তভোগী তৈরির সুযোগ থাকে। বিজ্ঞাপন, শেয়ার, কমেন্ট ও অ্যালগরিদমিক প্রচারের মাধ্যমে একটি পেজ থেকে তৈরি হতে পারে পুরো প্রতারণার ফানেল। শুধু অ্যাকাউন্ট বন্ধ করলেই তাই সমাধান হয় না; একই ওয়েবসাইট, ফোন নম্বর, পেমেন্ট হিসাব, ডোমেইন বা কনটেন্টের সূত্র ধরে পুরো নেটওয়ার্ক শনাক্ত করা জরুরি।
আরও বড় প্রশ্ন, বিজ্ঞাপন যাচাই নিয়ে। দ্রুত মুনাফা, বিনিয়োগের নিশ্চয়তা কিংবা পরিচিত ব্যক্তির মুখ-কণ্ঠ ব্যবহার করা বিজ্ঞাপন সাধারণ কনটেন্টের মতোই প্রচারিত হলে প্ল্যাটফর্মের যাচাই কোথায়? বাংলাদেশেও তাই শুধু ‘ভুয়া পেজ বন্ধ’ করার হিসাব যথেষ্ট নয়। জানতে হবে, কত অভিযোগ আসে, কত দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়, কতগুলো অ্যাকাউন্ট পুনরায় ফিরে আসে এবং কর্তৃপক্ষের তথ্য চাওয়ার পর প্ল্যাটফর্মগুলো কত দ্রুত সাড়া দেয়।
প্রশ্নটি তাই টেকডাউন নয়, প্রতিরোধের। একটি প্রতারণার বিজ্ঞাপন ভুক্তভোগীর কাছে পৌঁছানোর আগেই যদি থামানো যায়, তাহলে পরের ফোনকল, ভুয়া অ্যাপ ও অর্থ লুটের পুরো চক্রটিই শুরু হওয়ার আগেই আটকে দেওয়া সম্ভব। ব্যাংক ও এমএফএস ব্যবস্থার ফাঁক কোথায়? প্রতারণার টাকা শেষ পর্যন্ত ঢোকে ব্যাংক, এমএফএস কিংবা মিউল অ্যাকাউন্টে। সেখান থেকেই শুরু হয় অর্থ সরানোর দৌড়।
প্রশ্ন হলো, ব্যাংক ও এমএফএস কি সেই টাকা সরানোর আগেই থামাতে পারছে? মিউল অ্যাকাউন্টই এখানে বড় দুর্বলতা। অন্যের নামে খোলা বা নিয়ন্ত্রিত হিসাব দিয়ে টাকা গ্রহণ করে দ্রুত অন্য হিসাবে পাঠানো, ক্যাশ-আউট বা অন্য চ্যানেলে সরিয়ে দেওয়া হলে প্রকৃত নিয়ন্ত্রককে শনাক্ত করা কঠিন হয়। একটি হিসাব বন্ধ করলেও তাই একই নেটওয়ার্কের অন্য হিসাব সক্রিয় থাকতে পারে।
নিয়ম অনুযায়ী ব্যাংক ও এমএফএস প্রতিষ্ঠানকে অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত করে রিপোর্ট করার ব্যবস্থা রাখতে হয়। কিন্তু বাস্তব প্রশ্ন হলো, সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত হওয়ার পর ব্যবস্থা নিতে কত সময় লাগে? সেই সময়ের মধ্যেই যদি টাকা কয়েকটি হিসাবে ঘুরে যায়, তাহলে নিয়ম থাকা সত্ত্বেও প্রতিরোধ কতটা কার্যকর? প্রতারণার ক্ষেত্রে কয়েক মিনিটই গুরুত্বপূর্ণ।
টাকা পাঠানোর পর তা দ্রুত অন্য হিসাব বা ক্যাশ-আউট চ্যানেলে চলে গেলে উদ্ধার কঠিন হয়ে পড়ে। তাই শুধু একটি হিসাব ফ্রিজ করাই যথেষ্ট নয়; অর্থের পুরো পথ কোথা থেকে এসেছে, কোন কোন হিসাবে গেছে, কোথায় ক্যাশ-আউট হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত কার নিয়ন্ত্রণে গেছে— তা অনুসরণ করতে হয়। এখানেই অনুসন্ধানের মূল প্রশ্ন— মিউল অ্যাকাউন্ট শনাক্তের সূচক কী?
সন্দেহজনক লেনদেনে কত দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়? একটি হিসাব বন্ধ হওয়ার পর একই চক্রের অন্য হিসাব কীভাবে শনাক্ত করা হয়? কারণ প্রতারণার অর্থনীতি ভাঙার সবচেয়ে কার্যকর জায়গা হতে পারে টাকার পথ। প্রতারককে ধরার আগে যদি টাকা থামানো যায়, তাহলে ভেঙে দেওয়া যায় পুরো নেটওয়ার্কের অর্থনৈতিক ভিত্তি। আইন আছে, কিন্তু মূল হোতারা কোথায় : প্রতারণার ঘটনায় মামলা হয়, তদন্ত শুরু হয়, ডিভাইস ও হিসাব শনাক্ত করা হয়, ডিজিটাল প্রমাণও সংগ্রহ করা হয়।
কাগজে-কলমে পুরো ব্যবস্থাই আছে। কিন্তু আইন থেকে সাজা পর্যন্ত কোথায় আটকে যাচ্ছে বিচার? ডিজিটাল প্রতারণার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ থাকে মোবাইল, চ্যাট, কলের তথ্য, ওয়েবসাইট ও লেনদেনের রেকর্ডে। এসব তথ্য সংগ্রহ করাই শেষ নয়; সঠিকভাবে সংরক্ষণ, ফরেনসিক বিশ্লেষণ এবং আদালতে এর নির্ভরযোগ্যতা প্রমাণ করাও জরুরি। প্রশ্ন হলো, তদন্তের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কি অপরাধীদের গতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলছে?
অভিযানে সাধারণত সবার আগে ধরা পড়ে ভুক্তভোগীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগকারী কল সেন্টারের কর্মী, স্থানীয় এজেন্ট কিংবা মিউল অ্যাকাউন্টধারী। কিন্তু তারাই কি মূলহোতা, নাকি বড় নেটওয়ার্কের শুধু ফ্রন্টলাইন? একটি চক্র কাজ ভাগ করে, কেউ মানুষ সংগ্রহ করে, কেউ প্রযুক্তি দেয়, কেউ টাকা নেয়, আবার কেউ অর্থ ও পুরো কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে একজনকে গ্রেপ্তার করলেই নেটওয়ার্ক ভেঙে পড়ে না; বরং তার ফোন, ডিভাইস, যোগাযোগ, হিসাব ও লেনদেনের সূত্র ধরে তদন্তকে আরও ওপরে নিতে হয়।
তদন্তের প্রশ্ন হওয়া উচিত কে নির্দেশ দিত, কার সঙ্গে যোগাযোগ ছিল, টাকা কোথা থেকে আসত এবং কোথায় যেত? একই নম্বর, ডিভাইস, ওয়েবসাইট, ডোমেইন বা পেমেন্ট হিসাবের সঙ্গে আর কারা যুক্ত, সেটিও খুঁজে বের করতে হবে। চ্যালেঞ্জ আরও বাড়ে, যখন অপরাধের সূত্র বিদেশে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ই-মেইল, সার্ভার বা ক্লাউডের তথ্য পেতে বিদেশি প্রতিষ্ঠান বা কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন হতে পারে।
সেই তথ্য পেতে দেরি হলে অপরাধী এর মধ্যেই নম্বর, অ্যাকাউন্ট বা ডিজিটাল পরিচয় বদলে ফেলতে পারে। তাই মামলার সাফল্য শুধু মামলা, গ্রেপ্তার বা চার্জশিটের সংখ্যায় নয়। দেখতে হবে ডিজিটাল প্রমাণ কত দ্রুত উদ্ধার হচ্ছে, অর্থের শেষ গন্তব্য শনাক্ত হচ্ছে কি না এবং মাঠপর্যায়ের সহযোগীর সূত্র ধরে তদন্ত সমন্বয়কারী, প্রযুক্তি সরবরাহকারী ও অর্থের মূল নিয়ন্ত্রক পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে কি না।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, একজন মাঠপর্যায়ের এজেন্ট গ্রেপ্তার হলেই পুরো প্রতারণা চক্র ভাঙে না। এসব নেটওয়ার্ক সাধারণত বহু স্তরে বিভক্ত থাকে। তাই এজেন্টের মোবাইল, ল্যাপটপ, চ্যাট, যোগাযোগ ও লেনদেনের তথ্য বিশ্লেষণ করে ওপরের স্তরের সমন্বয়কারীদের কাছে পৌঁছাতে হবে। তিনি বলেন, পুরোনো পেজ বন্ধ হওয়ার পর নতুন পেজ চালু হলে ডিজিটাল ফিঙ্গারপ্রিন্ট অনুসরণ করা জরুরি।
একই ডিভাইস, নম্বর, ডোমেইন, পেমেন্ট হিসাব, বিজ্ঞাপনের কনটেন্ট বা প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর মিল থাকলে পুরোনো নেটওয়ার্কের সঙ্গে নতুন পেজের যোগসূত্র বের করা সম্ভব। জোহা আরও বলেন, প্রতারণা বন্ধে শুধু পেজ টেকডাউন বা গ্রেপ্তার যথেষ্ট নয়। তদন্তকে অর্থের পথ, প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রক এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগ পর্যন্ত নিতে হবে; বিশেষ করে মিউল অ্যাকাউন্ট, ডিজিটাল লেনদেন ও ক্রিপ্টোকারেন্সির অর্থপ্রবাহ অনুসরণ করে মূল নিয়ন্ত্রকদের শনাক্ত করা জরুরি।


















