আজ সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২৯ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ০১ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৭°C
সর্বোচ্চ: ৩৩°C
সর্বনিম্ন: ২৬°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৭৪%

কূলগাঁও-বালুছড়ায় উদ্বোধনের অপেক্ষায় চসিকের অত্যাধুনিক বাস টার্মিনাল

  • MIT ERP
  • Update Time : 11:15:46 pm, Sunday, 13 September 2026
  • 9

কূলগাঁও-বালুছড়ায় উদ্বোধনের অপেক্ষায় চসিকের অত্যাধুনিক বাস টার্মিনাল

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

তিন দশকের ভোগান্তি পেছনে ফেলে উত্তর চট্টগ্রামের কূলগাঁও-বালুছড়ায় উদ্বোধনের প্রহর গুনছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) অত্যাধুনিক বাস টার্মিনাল। দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্ভোগ পেরিয়ে এই টার্মিনাল চালুর মাধ্যমে শুরু হতে যাচ্ছে সুশৃঙ্খল ও স্বস্তিদায়ক যাতায়াতের নতুন অধ্যায়।

এর মধ্য দিয়ে আগামীতে নগরের গণপরিবহন ব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে— এমনটাই প্রত্যাশা নগর পরিকল্পনাবিদ ও সাধারণ যাত্রীদের। প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা : চসিকের তথ্যমতে, ১৯৯৩ সালে বহদ্দারহাটে দ্বিতীয় টার্মিনাল চালুর পর পেরিয়ে গেছে দীর্ঘ তিন দশক। এই ৩৩ বছরে নগরীতে গাড়ি ও মানুষের সংখ্যা বাড়লেও বাড়েনি টার্মিনালের সংখ্যা।

চট্টগ্রামের উত্তরাঞ্চল এবং দুই পার্বত্য জেলা রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িসহ উত্তর চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি, হাটহাজারী ভূজপুর, রাউজান ও রাঙ্গুনিয়াসহ সমগ্র উত্তর চট্টগ্রামের জন্য এই টার্মিনালটি ব্যবহার হবে। এই রোডে প্রতিদিন ১৫ হাজারের অধিক যানবাহন চলাচল করে বলে জানা গেছে। চসিক বলছে, নগরের জিইসি, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, ২নং গেট, অক্সিজেন ও চৌধুরীহাটসহ একাধিক স্থানে যে যানজট হয় তার অন্যতম কারণ এই এলাকায় নেই কোনো বাস-ট্রাক টার্মিনাল।

এখানে বাসগুলো দাঁড়ায় রাস্তার ওপর এবং যাত্রীও তোলা হয় রাস্তায় দাঁড়িয়েই। ফলে ব্যস্ততম সময়ে স্বাভাবিকভাবেই রাস্তায় সৃষ্টি হয় যানজট। এ সমস্যা নিরসনের লক্ষ্যে এখানে গড়ে তোলা হয়েছে বাস টার্মিনালটি। এই টার্মিনাল চালু হলে হাটহাজারী, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, ফটিকছড়ি ও পার্বত্য চট্টগ্রামের যানবাহন নগরের মূল অংশে প্রবেশ না করেই যাত্রী ওঠানামা করাতে পারবে।

যেভাবে গড়ে উঠে প্রকল্পটি : ২০১৮ সালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদে (একনেক) অনুমোদন পাওয়া ৮.১০ একর জমির এই মেগা প্রকল্পে ব্যয়ের বড় অংশই গেছে জমি অধিগ্রহণে। ৮.১০ একর ভূমির জন্য ১০৩.১৫ কোটি টাকা। ২৫ হাজার বর্গমিটারের ইয়ার্ড ও ড্রেন নির্মাণে ২৫ কোটি টাকা, অবকাঠামোর ৩ হাজার বর্গমিটারের মূল ভবনে ৭.৫০ কোটি এবং ভূমি উন্নয়নে ৩.৩৭ কোটি টাকা এবং নির্মাণ খাতে মোট ব্যয় ৩৫.৮৭ কোটি টাকা।

ভূমি জটিলতাই ছিল প্রতিবন্ধকতা : চসিকের তথ্যমতে, প্রকল্পের কাজ শুরু হলেও এক পাশের ভূমি নিয়ে ছিল একাধিক জটিলতা। পূর্ববর্তী সরকারের আমলে প্রকল্পের কাজ শুরু হলেও ভূমি জটিলতা নিয়ে স্থবির হয়ে পড়ে ছিল প্রকল্পের কাজ। এ জন্য আওয়ামী লীগ আমল এবং পরে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে কাজের দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। এদিকে ডা. শাহাদাত হোসেন চসিকের মেয়রের দায়িত্ব নেওয়ার পর বারে বারে ঢাকাসহ বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে আইনিসহ একাধিক জটিলতা নিরসন করেন।

এরপরেই মূলত প্রকল্পের কাজে গতি আসে। যাত্রী-শ্রমিকদের জন্য যে সুবিধা থাকবে : শুধু গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখার জায়গা নয়, নতুন এই টার্মিনালটি সাজানো হচ্ছে এক ছাদের নিচে উন্নতমানের যাত্রীসেবার নিশ্চয়তা নিয়ে। একসঙ্গে ২০০টি বাস ও ট্রাক পার্কিংয়ের সুব্যবস্থা থাকবে এই টার্মিনালে। মূল টার্মিনাল ভবনের ৩ হাজার বর্গমিটারের ভবনের নিচতলায় থাকছে আটটি ডিজিটাল টিকিট কাউন্টার, বিশাল ওয়েটিং জোন ও স্টোর রুম।

প্রথম তলায় থাকবে আধুনিক ভিআইপি লাউঞ্জ ও পরিবহন মালিকদের অফিস। ৩০০ বর্গমিটারের বিশাল রেস্টুরেন্ট এলাকা, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ওয়েটিং রুম ও ওয়াই-ফাই সুবিধা। দেশের কোনো বাস-ট্রাক টার্মিনালে বিভিন্ন যানবাহনের চালক ও তাদের সহকারীদের বিশ্রামের ব্যবস্থা না থাকলেও এই টার্মিনালে সে সুবিধা রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে রাখা হয়েছে একাধিক খাবারের দোকান ও ক্যান্টিন।

যানবাহনের নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের জন্য স্থাপন করা হচ্ছে পেট্রোল পাম্প। একইসঙ্গে প্রতিটি বাসের জন্যও রয়েছে আলাদা কাউন্টার। দেশের কোনো টার্মিনালে মহিলাদের জন্য আলাদা ব্রেস্ট ফিডিংয়ের ব্যবস্থা না থাকলেও এই টার্মিনালে মায়েদের জন্য রাখা হয়েছে সুরক্ষিত ‘ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার’। এ ছাড়া একইসঙ্গে বয়স্ক যাত্রীদের জন্য বসার স্থানসহ আলাদা সুবিধা রাখা হয়েছে।

বিশেষ নাগরিক সুবিধার অংশ হিসেবে সাধারণ শৌচাগারের পাশাপাশি নারী ও পুরুষদের জন্য পৃথক নয়টি টয়লেট ও প্রতিবন্ধীবান্ধব বিশেষ টয়লেট রয়েছে। কমবে যাত্রী হয়রানি-যানজট : চট্টগ্রাম-ফটিকছড়ি-নাজিরহাট-খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন ছোট-বড় অন্তত ১১০০ থেকে ১২০০টি বাস-ট্রাক আসা-যাওয়া করে। স্থায়ী টার্মিনাল না থাকায় বাসগুলোকে অক্সিজেন ও আশপাশের প্রধান সড়কের ওপর ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রাখা হতো।

এতে যেমন নগরে সৃষ্টি হতো যানজট, তেমনই বাড়ত দুর্ঘটনা ও জ্বালানি চুরির ঝুঁকি। পরিবহন খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বালুছড়া টার্মিনাল চালু হলে হাটহাজারী, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, ফটিকছড়ি ও পার্বত্য চট্টগ্রামের যানবাহন নগরের মূল অংশে প্রবেশ না করেই যাত্রী ওঠানামা করাতে পারবে। এতে যাত্রীরা অনাকাঙ্ক্ষিত হয়রানি-বিড়ম্বনা থেকে রক্ষা পাবেন।

ফলে নগরীর মধ্যম ও উত্তরাংশের দীর্ঘদিনের যানজট দ্রুত কমে আসবে। কবে নাগাদ চালু : প্রকল্প সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের কারণে টানা পাঁচ-ছয় মাস নির্মাণকাজ বন্ধ ছিল। তা না হলে চলতি বছরই এর উদ্বোধন সম্ভব হতো। চসিকের প্রধান প্রকৌশলী মো. আনিসুর রহমান সোহেল বলেন, ‘মাঝখানে ৫-৬ মাস কাজ থমকে না থাকলে অনেক আগেই এটি উদ্বোধন হতো।

তবে চসিকের তদারকিতে এখন কাজ চলছে দ্বিগুণ গতিতে। ভারী যানবাহনের চাপ ও বর্ষার পানি সামলাতে আমরা যুগোপযোগী ড্রেনেজ ও শক্তিশালী স্ট্রাকচার ব্যবহার করেছি। আগামী এক মাসের মধ্যেই শতভাগ কাজ বুঝিয়ে দিয়ে চট্টগ্রামবাসীকে নতুন টার্মিনাল উপহার দিতে আমরা প্রস্তুত। ’ এ বিষয়ে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘মানুষের সন্তুষ্টির জন্যই আমি কাজ করি।

আমরা অনেক কাজ করি, তার অনেকটা নগরবাসী জানেন না। তিন দশকের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে এই টার্মিনাল চট্টগ্রামের গণপরিবহনে নতুন স্বস্তির দুয়ার খুলছে। প্রকল্পের অগ্রগতিতে আমরা সন্তুষ্ট; নাগরিকদের কাছে এর সুফল পৌঁছে দেওয়াই এখন আমাদের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা। এই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারাটাই আমার জন্য সবচেয়ে বড় সন্তুষ্টির জায়গা। ’ তিনি আরও বলেন, ‘টার্মিনাল হবে অবকাঠামোর দৃষ্টান্ত, আর এর পরিচালনা হবে শৃঙ্খলা ও নাগরিক সেবার দৃষ্টান্ত।

বিষয়টি মাথায় রেখে একটি টিম কাজ করছে। আমরা শুধু টার্মিনাল নির্মাণ করতে চাই না, চট্টগ্রামের গণপরিবহনের সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনতে চাই। এখানে বাস-ট্রাক চলবে নিয়মে, যাত্রীসেবা হবে শৃঙ্খলায় আর ব্যবস্থাপনায় থাকবে জবাবদিহিতা। ’ মেয়র বলেন, ‘এই টার্মিনাল যানজট কমানোর পাশাপাশি চট্টগ্রামকে আরও পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও সবুজ নগর হিসেবে গড়ে তোলার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

যানজটমুক্ত সড়ক আর দূষণমুক্ত বাতাস— একটি বাস টার্মিনাল সেই বড় স্বপ্নেরই অংশ। এই প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা শুধু বাস-ট্রাকের জন্য জায়গা তৈরি করছি না, বরং চট্টগ্রামকে আরও বাসযোগ্য, স্বাস্থ্যকর ও সবুজ নগর হিসেবে গড়ে তোলার ভিত্তি তৈরি করছি।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

মোদি-শি বৈঠকে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ও সীমান্ত শান্তিতে জোর

কূলগাঁও-বালুছড়ায় উদ্বোধনের অপেক্ষায় চসিকের অত্যাধুনিক বাস টার্মিনাল

Update Time : 11:15:46 pm, Sunday, 13 September 2026

তিন দশকের ভোগান্তি পেছনে ফেলে উত্তর চট্টগ্রামের কূলগাঁও-বালুছড়ায় উদ্বোধনের প্রহর গুনছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) অত্যাধুনিক বাস টার্মিনাল। দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্ভোগ পেরিয়ে এই টার্মিনাল চালুর মাধ্যমে শুরু হতে যাচ্ছে সুশৃঙ্খল ও স্বস্তিদায়ক যাতায়াতের নতুন অধ্যায়।

এর মধ্য দিয়ে আগামীতে নগরের গণপরিবহন ব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে— এমনটাই প্রত্যাশা নগর পরিকল্পনাবিদ ও সাধারণ যাত্রীদের। প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা : চসিকের তথ্যমতে, ১৯৯৩ সালে বহদ্দারহাটে দ্বিতীয় টার্মিনাল চালুর পর পেরিয়ে গেছে দীর্ঘ তিন দশক। এই ৩৩ বছরে নগরীতে গাড়ি ও মানুষের সংখ্যা বাড়লেও বাড়েনি টার্মিনালের সংখ্যা।

চট্টগ্রামের উত্তরাঞ্চল এবং দুই পার্বত্য জেলা রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িসহ উত্তর চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি, হাটহাজারী ভূজপুর, রাউজান ও রাঙ্গুনিয়াসহ সমগ্র উত্তর চট্টগ্রামের জন্য এই টার্মিনালটি ব্যবহার হবে। এই রোডে প্রতিদিন ১৫ হাজারের অধিক যানবাহন চলাচল করে বলে জানা গেছে। চসিক বলছে, নগরের জিইসি, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, ২নং গেট, অক্সিজেন ও চৌধুরীহাটসহ একাধিক স্থানে যে যানজট হয় তার অন্যতম কারণ এই এলাকায় নেই কোনো বাস-ট্রাক টার্মিনাল।

এখানে বাসগুলো দাঁড়ায় রাস্তার ওপর এবং যাত্রীও তোলা হয় রাস্তায় দাঁড়িয়েই। ফলে ব্যস্ততম সময়ে স্বাভাবিকভাবেই রাস্তায় সৃষ্টি হয় যানজট। এ সমস্যা নিরসনের লক্ষ্যে এখানে গড়ে তোলা হয়েছে বাস টার্মিনালটি। এই টার্মিনাল চালু হলে হাটহাজারী, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, ফটিকছড়ি ও পার্বত্য চট্টগ্রামের যানবাহন নগরের মূল অংশে প্রবেশ না করেই যাত্রী ওঠানামা করাতে পারবে।

যেভাবে গড়ে উঠে প্রকল্পটি : ২০১৮ সালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদে (একনেক) অনুমোদন পাওয়া ৮.১০ একর জমির এই মেগা প্রকল্পে ব্যয়ের বড় অংশই গেছে জমি অধিগ্রহণে। ৮.১০ একর ভূমির জন্য ১০৩.১৫ কোটি টাকা। ২৫ হাজার বর্গমিটারের ইয়ার্ড ও ড্রেন নির্মাণে ২৫ কোটি টাকা, অবকাঠামোর ৩ হাজার বর্গমিটারের মূল ভবনে ৭.৫০ কোটি এবং ভূমি উন্নয়নে ৩.৩৭ কোটি টাকা এবং নির্মাণ খাতে মোট ব্যয় ৩৫.৮৭ কোটি টাকা।

ভূমি জটিলতাই ছিল প্রতিবন্ধকতা : চসিকের তথ্যমতে, প্রকল্পের কাজ শুরু হলেও এক পাশের ভূমি নিয়ে ছিল একাধিক জটিলতা। পূর্ববর্তী সরকারের আমলে প্রকল্পের কাজ শুরু হলেও ভূমি জটিলতা নিয়ে স্থবির হয়ে পড়ে ছিল প্রকল্পের কাজ। এ জন্য আওয়ামী লীগ আমল এবং পরে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে কাজের দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। এদিকে ডা. শাহাদাত হোসেন চসিকের মেয়রের দায়িত্ব নেওয়ার পর বারে বারে ঢাকাসহ বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে আইনিসহ একাধিক জটিলতা নিরসন করেন।

এরপরেই মূলত প্রকল্পের কাজে গতি আসে। যাত্রী-শ্রমিকদের জন্য যে সুবিধা থাকবে : শুধু গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখার জায়গা নয়, নতুন এই টার্মিনালটি সাজানো হচ্ছে এক ছাদের নিচে উন্নতমানের যাত্রীসেবার নিশ্চয়তা নিয়ে। একসঙ্গে ২০০টি বাস ও ট্রাক পার্কিংয়ের সুব্যবস্থা থাকবে এই টার্মিনালে। মূল টার্মিনাল ভবনের ৩ হাজার বর্গমিটারের ভবনের নিচতলায় থাকছে আটটি ডিজিটাল টিকিট কাউন্টার, বিশাল ওয়েটিং জোন ও স্টোর রুম।

প্রথম তলায় থাকবে আধুনিক ভিআইপি লাউঞ্জ ও পরিবহন মালিকদের অফিস। ৩০০ বর্গমিটারের বিশাল রেস্টুরেন্ট এলাকা, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ওয়েটিং রুম ও ওয়াই-ফাই সুবিধা। দেশের কোনো বাস-ট্রাক টার্মিনালে বিভিন্ন যানবাহনের চালক ও তাদের সহকারীদের বিশ্রামের ব্যবস্থা না থাকলেও এই টার্মিনালে সে সুবিধা রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে রাখা হয়েছে একাধিক খাবারের দোকান ও ক্যান্টিন।

যানবাহনের নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের জন্য স্থাপন করা হচ্ছে পেট্রোল পাম্প। একইসঙ্গে প্রতিটি বাসের জন্যও রয়েছে আলাদা কাউন্টার। দেশের কোনো টার্মিনালে মহিলাদের জন্য আলাদা ব্রেস্ট ফিডিংয়ের ব্যবস্থা না থাকলেও এই টার্মিনালে মায়েদের জন্য রাখা হয়েছে সুরক্ষিত ‘ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার’। এ ছাড়া একইসঙ্গে বয়স্ক যাত্রীদের জন্য বসার স্থানসহ আলাদা সুবিধা রাখা হয়েছে।

বিশেষ নাগরিক সুবিধার অংশ হিসেবে সাধারণ শৌচাগারের পাশাপাশি নারী ও পুরুষদের জন্য পৃথক নয়টি টয়লেট ও প্রতিবন্ধীবান্ধব বিশেষ টয়লেট রয়েছে। কমবে যাত্রী হয়রানি-যানজট : চট্টগ্রাম-ফটিকছড়ি-নাজিরহাট-খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন ছোট-বড় অন্তত ১১০০ থেকে ১২০০টি বাস-ট্রাক আসা-যাওয়া করে। স্থায়ী টার্মিনাল না থাকায় বাসগুলোকে অক্সিজেন ও আশপাশের প্রধান সড়কের ওপর ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রাখা হতো।

এতে যেমন নগরে সৃষ্টি হতো যানজট, তেমনই বাড়ত দুর্ঘটনা ও জ্বালানি চুরির ঝুঁকি। পরিবহন খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বালুছড়া টার্মিনাল চালু হলে হাটহাজারী, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, ফটিকছড়ি ও পার্বত্য চট্টগ্রামের যানবাহন নগরের মূল অংশে প্রবেশ না করেই যাত্রী ওঠানামা করাতে পারবে। এতে যাত্রীরা অনাকাঙ্ক্ষিত হয়রানি-বিড়ম্বনা থেকে রক্ষা পাবেন।

ফলে নগরীর মধ্যম ও উত্তরাংশের দীর্ঘদিনের যানজট দ্রুত কমে আসবে। কবে নাগাদ চালু : প্রকল্প সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের কারণে টানা পাঁচ-ছয় মাস নির্মাণকাজ বন্ধ ছিল। তা না হলে চলতি বছরই এর উদ্বোধন সম্ভব হতো। চসিকের প্রধান প্রকৌশলী মো. আনিসুর রহমান সোহেল বলেন, ‘মাঝখানে ৫-৬ মাস কাজ থমকে না থাকলে অনেক আগেই এটি উদ্বোধন হতো।

তবে চসিকের তদারকিতে এখন কাজ চলছে দ্বিগুণ গতিতে। ভারী যানবাহনের চাপ ও বর্ষার পানি সামলাতে আমরা যুগোপযোগী ড্রেনেজ ও শক্তিশালী স্ট্রাকচার ব্যবহার করেছি। আগামী এক মাসের মধ্যেই শতভাগ কাজ বুঝিয়ে দিয়ে চট্টগ্রামবাসীকে নতুন টার্মিনাল উপহার দিতে আমরা প্রস্তুত। ’ এ বিষয়ে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘মানুষের সন্তুষ্টির জন্যই আমি কাজ করি।

আমরা অনেক কাজ করি, তার অনেকটা নগরবাসী জানেন না। তিন দশকের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে এই টার্মিনাল চট্টগ্রামের গণপরিবহনে নতুন স্বস্তির দুয়ার খুলছে। প্রকল্পের অগ্রগতিতে আমরা সন্তুষ্ট; নাগরিকদের কাছে এর সুফল পৌঁছে দেওয়াই এখন আমাদের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা। এই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারাটাই আমার জন্য সবচেয়ে বড় সন্তুষ্টির জায়গা। ’ তিনি আরও বলেন, ‘টার্মিনাল হবে অবকাঠামোর দৃষ্টান্ত, আর এর পরিচালনা হবে শৃঙ্খলা ও নাগরিক সেবার দৃষ্টান্ত।

বিষয়টি মাথায় রেখে একটি টিম কাজ করছে। আমরা শুধু টার্মিনাল নির্মাণ করতে চাই না, চট্টগ্রামের গণপরিবহনের সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনতে চাই। এখানে বাস-ট্রাক চলবে নিয়মে, যাত্রীসেবা হবে শৃঙ্খলায় আর ব্যবস্থাপনায় থাকবে জবাবদিহিতা। ’ মেয়র বলেন, ‘এই টার্মিনাল যানজট কমানোর পাশাপাশি চট্টগ্রামকে আরও পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও সবুজ নগর হিসেবে গড়ে তোলার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

যানজটমুক্ত সড়ক আর দূষণমুক্ত বাতাস— একটি বাস টার্মিনাল সেই বড় স্বপ্নেরই অংশ। এই প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা শুধু বাস-ট্রাকের জন্য জায়গা তৈরি করছি না, বরং চট্টগ্রামকে আরও বাসযোগ্য, স্বাস্থ্যকর ও সবুজ নগর হিসেবে গড়ে তোলার ভিত্তি তৈরি করছি।