দুপচাঁচিয়ায় শরতের স্নিগ্ধ আলো আর শিউলিঝরা সকাল জানান দিচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার আগমনী বার্তা। দেবী দুর্গার মর্ত্যে আগমনকে কেন্দ্র করে মন্দির ও মৃৎপল্লিতে এখন বইছে উৎসবের আমেজ, দিনরাত বাড়ছে ব্যস্ততা।
এবার উপজেলাজুড়ে সম্ভাব্য ৪৭টি ম-পে উদযাপিত হতে যাচ্ছে এই আনন্দ উৎসব। পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ১০ অক্টোবর শুভ মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবীকে আবাহন করা হবে। এরপর ১৬ অক্টোবর মহাপঞ্চমী ও ১৭ অক্টোবর ষষ্ঠীপূজার আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে সূচনা হবে মূল দুর্গোৎসবের। চার দিনব্যাপী ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান শেষে ২১ অক্টোবর প্রতিমা বিসর্জন ও বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটবে এই সার্বজনীন আয়োজনের।
পঞ্জিকার ক্ষণ গণনা শুরু হতেই মৃৎশিল্পীদের নিপুণ আঙুলের ছোঁয়ায় প্রাণ পাচ্ছে মা দুর্গার মৃন্ময়ী রূপ। বাঁশ-কাঠের কাঠামো তৈরি, খড় বাঁধা এবং তুষ ও এঁটেল মাটির নিখুঁত মিশ্রণে প্রতিমার অবয়ব গড়ে তুলতে দিনরাত ঘাম ঝরাচ্ছেন কারিগরেরা। নিথর খড়-মাটির কাঠামো থেকে ধীরে ধীরে ফুটে উঠছে সিংহবাহিনী দেবীর রুদ্র অথচ করুণাময় রূপ। সঙ্গে অত্যন্ত নিপুণভাবে গড়ে তোলা হচ্ছে লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশের প্রতিমা।
মাটির প্রলেপ শুকানোর পর শুরু হবে আল্পনা ও অতি সূক্ষ্ম ‘চক্ষুদান’ পর্ব, যা দেবীর প্রাণপ্রতিষ্ঠার রূপক হিসেবে বিবেচিত। ঐতিহ্যবাহী ‘দুপচাঁচিয়া মহাশ্মশান কালীবাড়ি কেন্দ্রীয় মন্দিরসহ বেশ কিছু ম-পে এবার আধুনিক থিমভিত্তিক শিল্পভাবনা ফুটিয়ে তোলার কাজ চলছে। স্থানীয় প্রতিমাশিল্পী গোপাল চন্দ্র সরকার জানান, ম-পে নতুনত্ব আনতে এবং দর্শনার্থীদের মন জয় করতে তারা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অসিম কুমার দাস জানান, শান্তিময় ও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপনের লক্ষ্যে প্রশাসনিক ও সামাজিক সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। সময়মতো ম-পগুলোতে প্রতিমা পৌঁছে দেওয়ার মধ্য দিয়েই পূর্ণতা পাবে কারিগরদের শ্রম ও ভক্তদের ধর্মীয় আবেগ। নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয় রেখে কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।
















