আজ শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১১ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ১৩ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
২৯°C
সর্বোচ্চ: ৩৩°C
সর্বনিম্ন: ২৬°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৭৫%

এক হাজার টনের বেশি সোনা কিনল চীন, বিশ্ব অর্থনীতিতে চাঞ্চল্য

  • MIT ERP
  • Update Time : 08:20:06 pm, Saturday, 26 September 2026
  • 10

এক হাজার টনের বেশি সোনা কিনল চীন, বিশ্ব অর্থনীতিতে চাঞ্চল্য

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

একটি দেশ মাত্র কয়েক মাসে কিনে ফেলেছে এক হাজার টনেরও বেশি সোনা! যেন সোনার পাহাড় গড়ে তোলা হচ্ছে। দেশটি কি তবে বদলে দিতে চাইছে বিশ্ব অর্থনীতির হিসাব-নিকাশ?

আরও ভাববার মতো বিষয় হলো—এটা কি শুধুই বিনিয়োগ? নাকি এর পেছনে রয়েছে আরও বড় কোনো পরিকল্পনা। বড় অঙ্কের ডলার খরচ করে এত সোনা কেনার পেছনে আসলে রহস্যটা কী?

কী মনে হচ্ছে—আমেরিকা, রাশিয়া, সৌদি আরব কিংবা প্রতিবেশী দেশ ভারতের কথা বলছি? না, এগুলোর একটিও নয়। আজ বলব সোনার ভাণ্ডার গড়া সেই দেশটি নিয়েই।

সোনা পৃথিবীর সবচেয়ে পুরোনো নিরাপদ সম্পদগুলোর একটি। যখন যুদ্ধ হয়, অর্থনীতি অস্থির হয়, মুদ্রার ওপর আস্থা কমে আসে—তখন বিনিয়োগকারীরা প্রায়শই সোনার দিকে ঝোঁকেন। এ কারণেই সোনাকে বলা হয় ‘সেফ হেভেন’ বা নিরাপদ আশ্রয়।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বে একের পর এক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উত্তেজনা, বাণিজ্যযুদ্ধ—সব মিলিয়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা বেড়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকও সোনার মজুত বাড়াচ্ছে। প্রচুর সোনা কিনছে চীন। অবশ্য শুধু কেন্দ্রীয় ব্যাংকই নয়, চীনের সাধারণ মানুষও সোনা কিনছেন। কেউ কিনছেন গয়না, কেউ গোল্ড বার, আবার কেউ ছোট ছোট সোনার দানা। এমনকি চীনের অনলাইন প্ল্যাটফর্মে লাইভ স্ট্রিম করে সোনা বিক্রির ঘটনাও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এ ক্ষেত্রে ক্রেতাদের খুব সহজ যুক্তি—সোনা কিনছি মানে শুধু খরচ করছি না, ভবিষ্যতের জন্য সম্পদও রাখছি।

এখানে চীনের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। চীনের মধ্যবিত্তদের বড় বিনিয়োগের জায়গাগুলোর একটি ছিল আবাসন খাত। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের আবাসন খাত বড় চাপের মুখে পড়েছে। ঋণ, সম্পত্তির দাম এবং বিভিন্ন আবাসন প্রকল্প নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। শেয়ারবাজারেও বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বেড়েছে। ফলে কিছু বিনিয়োগকারী বিকল্প সম্পদের দিকে তাকাচ্ছেন।

আর সেখানেই সোনা হয়ে উঠছে আকর্ষণীয়। কারণ সোনার ক্ষেত্রে কোনো কোম্পানির মুনাফা, কোনো বাড়ির প্রকল্প বা কোনো ব্যাংকের ঋণের ওপর সরাসরি নির্ভর করতে হয় না। তবে এর মানে এই নয় যে সোনা সব সময় লাভ দেবে। সোনার দামও ওঠানামা করে। কিন্তু অনিশ্চয়তার সময়ে এর প্রতি মানুষের আগ্রহ সাধারণত বাড়ে।

এখন আসি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গায়। চীনের সোনা কেনার গল্পের সঙ্গে মার্কিন ডলারের সম্পর্ক আসলে কী? বিশ্ব বাণিজ্যের বড় একটি অংশ এখনো মার্কিন ডলারে পরিচালিত হয়। তেলসহ বহু আন্তর্জাতিক পণ্যের দামও ডলারে নির্ধারিত হয়। চীনের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের বড় অংশও দীর্ঘদিন ধরে ডলারভিত্তিক সম্পদে ছিল।

কিন্তু চীন গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে মার্কিন ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগের পরিমাণ কমিয়েছে। এর পাশাপাশি তারা সোনার মজুত বাড়াচ্ছে। কারণ সোনা কোনো দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ বা কোনো সরকারের প্রতিশ্রুতির ওপর নির্ভরশীল নয়। তাই অনেক কেন্দ্রীয় ব্যাংকই তাদের রিজার্ভে সোনার অংশ বাড়ানোর চেষ্টা করছে। চীনের ক্ষেত্রেও বিষয়টিকে শুধু বিনিয়োগ নয়, বরং দেশের রিজার্ভকে বিভিন্ন সম্পদে ছড়িয়ে দেওয়ার বা বৈচিত্র্যময় (ডাইভারসিফাই) করার কৌশল হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

অর্থাৎ, পুরো বিষয়টিকে সহজ করে বললে দাঁড়ায়—চীন ডলারের বিকল্প হিসেবে এখনই সোনা বসিয়ে দিচ্ছে, এমন নয়; বরং ডলারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজের রিজার্ভকে আরও বৈচিত্র্যময় করার চেষ্টা করছে।

চলতি বছরের আগস্টের মধ্যেই ১ হাজার টনের বেশি সোনা কিনেছে চীন, যা দেশটির আগের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। এর পেছনে চীনের ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৬ হাজার কোটি মার্কিন ডলার।

চীনের এই প্রবণতা কিন্তু একেবারে বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সোনা কিনেছে। কারণ ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়লে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায় ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে ভাবতে হয়। অর্থাৎ শুধু চীন-ই নয়—বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর মধ্যেই সোনাকে নিয়ে নতুন করে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হচ্ছে, চীন যদি এভাবে সোনা কিনতেই থাকে, তাহলে কী হবে? প্রথমত, চীনের মতো বিশাল অর্থনীতির দেশ বিপুল পরিমাণ সোনা কিনলে আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদার ওপর প্রভাব পড়তে পারে।

দ্বিতীয়ত, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো যদি ডলারভিত্তিক সম্পদের পাশাপাশি সোনার মজুত বাড়াতে থাকে, তাহলে বৈশ্বিক রিজার্ভ ব্যবস্থায় ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসতে পারে। আর তৃতীয়ত, সোনার চাহিদা বাড়লে এর দামেও চাপ তৈরি হতে পারে।

তবে এখানে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—চীন সোনা কিনছে মানেই ডলারের যুগ শেষ হয়ে যাচ্ছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর কোনো কারণ নেই। ডলার এখনো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুদ্রা। তবে চীনের সোনা কেনার প্রবণতা স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে বিশ্ব অর্থনীতিতে অনেক দেশই এখন নিজেদের ঝুঁকি কমাতে এবং রিজার্ভকে বৈচিত্র্যময় করতে চাইছে।

আর সেই পরিবর্তনের কেন্দ্রে আবারও ফিরে এসেছে হাজার বছরের পুরোনো একটি সম্পদ—সোনা। তাই প্রশ্নটা শুধু—‘চীন কত টাকার সোনা কিনছে?’ তা নয়, প্রশ্নটা আরও বড়—‘চীন ভবিষ্যতের বিশ্ব অর্থনীতির জন্য কী প্রস্তুতি নিচ্ছে?’ এবার আপনিই বলুন তো, চীনের এই সোনা কেনা কি শুধুই নিরাপদ বিনিয়োগ, নাকি ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানোর দীর্ঘমেয়াদি কৌশল? কী মনে হচ্ছে?

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

আওয়ামী লীগ হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

এক হাজার টনের বেশি সোনা কিনল চীন, বিশ্ব অর্থনীতিতে চাঞ্চল্য

Update Time : 08:20:06 pm, Saturday, 26 September 2026

একটি দেশ মাত্র কয়েক মাসে কিনে ফেলেছে এক হাজার টনেরও বেশি সোনা! যেন সোনার পাহাড় গড়ে তোলা হচ্ছে। দেশটি কি তবে বদলে দিতে চাইছে বিশ্ব অর্থনীতির হিসাব-নিকাশ?

আরও ভাববার মতো বিষয় হলো—এটা কি শুধুই বিনিয়োগ? নাকি এর পেছনে রয়েছে আরও বড় কোনো পরিকল্পনা। বড় অঙ্কের ডলার খরচ করে এত সোনা কেনার পেছনে আসলে রহস্যটা কী?

কী মনে হচ্ছে—আমেরিকা, রাশিয়া, সৌদি আরব কিংবা প্রতিবেশী দেশ ভারতের কথা বলছি? না, এগুলোর একটিও নয়। আজ বলব সোনার ভাণ্ডার গড়া সেই দেশটি নিয়েই।

সোনা পৃথিবীর সবচেয়ে পুরোনো নিরাপদ সম্পদগুলোর একটি। যখন যুদ্ধ হয়, অর্থনীতি অস্থির হয়, মুদ্রার ওপর আস্থা কমে আসে—তখন বিনিয়োগকারীরা প্রায়শই সোনার দিকে ঝোঁকেন। এ কারণেই সোনাকে বলা হয় ‘সেফ হেভেন’ বা নিরাপদ আশ্রয়।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বে একের পর এক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উত্তেজনা, বাণিজ্যযুদ্ধ—সব মিলিয়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা বেড়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকও সোনার মজুত বাড়াচ্ছে। প্রচুর সোনা কিনছে চীন। অবশ্য শুধু কেন্দ্রীয় ব্যাংকই নয়, চীনের সাধারণ মানুষও সোনা কিনছেন। কেউ কিনছেন গয়না, কেউ গোল্ড বার, আবার কেউ ছোট ছোট সোনার দানা। এমনকি চীনের অনলাইন প্ল্যাটফর্মে লাইভ স্ট্রিম করে সোনা বিক্রির ঘটনাও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এ ক্ষেত্রে ক্রেতাদের খুব সহজ যুক্তি—সোনা কিনছি মানে শুধু খরচ করছি না, ভবিষ্যতের জন্য সম্পদও রাখছি।

এখানে চীনের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। চীনের মধ্যবিত্তদের বড় বিনিয়োগের জায়গাগুলোর একটি ছিল আবাসন খাত। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের আবাসন খাত বড় চাপের মুখে পড়েছে। ঋণ, সম্পত্তির দাম এবং বিভিন্ন আবাসন প্রকল্প নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। শেয়ারবাজারেও বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বেড়েছে। ফলে কিছু বিনিয়োগকারী বিকল্প সম্পদের দিকে তাকাচ্ছেন।

আর সেখানেই সোনা হয়ে উঠছে আকর্ষণীয়। কারণ সোনার ক্ষেত্রে কোনো কোম্পানির মুনাফা, কোনো বাড়ির প্রকল্প বা কোনো ব্যাংকের ঋণের ওপর সরাসরি নির্ভর করতে হয় না। তবে এর মানে এই নয় যে সোনা সব সময় লাভ দেবে। সোনার দামও ওঠানামা করে। কিন্তু অনিশ্চয়তার সময়ে এর প্রতি মানুষের আগ্রহ সাধারণত বাড়ে।

এখন আসি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গায়। চীনের সোনা কেনার গল্পের সঙ্গে মার্কিন ডলারের সম্পর্ক আসলে কী? বিশ্ব বাণিজ্যের বড় একটি অংশ এখনো মার্কিন ডলারে পরিচালিত হয়। তেলসহ বহু আন্তর্জাতিক পণ্যের দামও ডলারে নির্ধারিত হয়। চীনের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের বড় অংশও দীর্ঘদিন ধরে ডলারভিত্তিক সম্পদে ছিল।

কিন্তু চীন গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে মার্কিন ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগের পরিমাণ কমিয়েছে। এর পাশাপাশি তারা সোনার মজুত বাড়াচ্ছে। কারণ সোনা কোনো দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ বা কোনো সরকারের প্রতিশ্রুতির ওপর নির্ভরশীল নয়। তাই অনেক কেন্দ্রীয় ব্যাংকই তাদের রিজার্ভে সোনার অংশ বাড়ানোর চেষ্টা করছে। চীনের ক্ষেত্রেও বিষয়টিকে শুধু বিনিয়োগ নয়, বরং দেশের রিজার্ভকে বিভিন্ন সম্পদে ছড়িয়ে দেওয়ার বা বৈচিত্র্যময় (ডাইভারসিফাই) করার কৌশল হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

অর্থাৎ, পুরো বিষয়টিকে সহজ করে বললে দাঁড়ায়—চীন ডলারের বিকল্প হিসেবে এখনই সোনা বসিয়ে দিচ্ছে, এমন নয়; বরং ডলারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজের রিজার্ভকে আরও বৈচিত্র্যময় করার চেষ্টা করছে।

চলতি বছরের আগস্টের মধ্যেই ১ হাজার টনের বেশি সোনা কিনেছে চীন, যা দেশটির আগের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। এর পেছনে চীনের ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৬ হাজার কোটি মার্কিন ডলার।

চীনের এই প্রবণতা কিন্তু একেবারে বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সোনা কিনেছে। কারণ ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়লে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায় ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে ভাবতে হয়। অর্থাৎ শুধু চীন-ই নয়—বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর মধ্যেই সোনাকে নিয়ে নতুন করে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হচ্ছে, চীন যদি এভাবে সোনা কিনতেই থাকে, তাহলে কী হবে? প্রথমত, চীনের মতো বিশাল অর্থনীতির দেশ বিপুল পরিমাণ সোনা কিনলে আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদার ওপর প্রভাব পড়তে পারে।

দ্বিতীয়ত, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো যদি ডলারভিত্তিক সম্পদের পাশাপাশি সোনার মজুত বাড়াতে থাকে, তাহলে বৈশ্বিক রিজার্ভ ব্যবস্থায় ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসতে পারে। আর তৃতীয়ত, সোনার চাহিদা বাড়লে এর দামেও চাপ তৈরি হতে পারে।

তবে এখানে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—চীন সোনা কিনছে মানেই ডলারের যুগ শেষ হয়ে যাচ্ছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর কোনো কারণ নেই। ডলার এখনো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুদ্রা। তবে চীনের সোনা কেনার প্রবণতা স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে বিশ্ব অর্থনীতিতে অনেক দেশই এখন নিজেদের ঝুঁকি কমাতে এবং রিজার্ভকে বৈচিত্র্যময় করতে চাইছে।

আর সেই পরিবর্তনের কেন্দ্রে আবারও ফিরে এসেছে হাজার বছরের পুরোনো একটি সম্পদ—সোনা। তাই প্রশ্নটা শুধু—‘চীন কত টাকার সোনা কিনছে?’ তা নয়, প্রশ্নটা আরও বড়—‘চীন ভবিষ্যতের বিশ্ব অর্থনীতির জন্য কী প্রস্তুতি নিচ্ছে?’ এবার আপনিই বলুন তো, চীনের এই সোনা কেনা কি শুধুই নিরাপদ বিনিয়োগ, নাকি ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানোর দীর্ঘমেয়াদি কৌশল? কী মনে হচ্ছে?