আজ শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৯ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ১২ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
৩০°C
সর্বোচ্চ: ৩২°C
সর্বনিম্ন: ২৫°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৯৭%

নদীভাঙনে বসতভিটা হারাচ্ছেন মিয়ারচরের বাসিন্দারা

  • MIT ERP
  • Update Time : 08:30:16 am, Thursday, 24 September 2026
  • 20

নদীভাঙনে বসতভিটা হারাচ্ছেন মিয়ারচরের বাসিন্দারা

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

আড়িয়াল খাঁ নদের তীব্র ভাঙনে বসতভিটা হারাচ্ছেন বরিশালের গৌরনদী উপজেলার সরিকল ইউনিয়নের আড়িয়াল খাঁ নদের তীরবর্তী মিয়ারচর এলাকার বাসিন্দারা। গত দুই বছরে নদের তীব্র ভাঙনে ৪০ পরিবার বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে।

নতুন করে এক মাসের ব্যবধানে পাঁচটি পরিবারের বসতভিটা রাক্ষুসে নদের গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। অপরদিকে আড়িয়াল খাঁ নদের শাখা পালরদী নদের বোরাদী গরঙ্গল, মোল্লার খাল, পালরদী নদের শাখা গৌরনদী বন্দর থেকে ধামুড়া খালের দক্ষিণ বিল্বগ্রাম এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের ফলে দক্ষিণ বিল্বগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাতায়তের একমাত্র ব্রিজ ও রাস্তা ধসে যোগাযোগ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

নদ ভাঙন রোধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মিয়ারচর এলাকার বাসিন্দা বদরুল আলম বলেন, ‘মিয়ারচর লঞ্চঘাট এলাকায় আড়িয়াল খাঁ নদের ভাঙনে দুইবার বসতভিটা হারিয়ে অন্যের জমিতে ঘর উত্তোলন করে বসবাস করতাম। অন্যের দেওয়া সেই বসতভিটাও কয়েক দিন আগে নদ গ্রাস করে নিয়েছে। ফলে এখন স্ত্রী-সন্তান নিয়ে আমি নিঃস্ব।

মাথা গোজার ঠাঁই হারিয়ে বর্তমানে অন্যের জমিতে পলিথিনের ছাউনি দিয়ে বসবাস করে আসছি। ’ মিয়ারচর এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা অলিল ব্যাপারী (৭৫) জানান, আড়িয়াল খাঁ নদের ভাঙনে শত পরিবার তাদের বসতভিটা ও জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে; বিশেষ করে মিয়ারচর লঞ্চঘাট পয়েন্টে কয়েক বছর ধরে ভাঙন দেখা দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘যত সরকার আইছে, সবাই ভাঙন রোধ করার কথা বললেও বাস্তবে ভাঙন রোধে কেউ এগিয়ে আসেনি।

নদ ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের কাছে তিনি জোর দাবি জানিয়েছেন। শিক্ষক জাকির হোসেন বলেন, গৌরনদী-ধামুড়া খালে তীব্র স্রোতের কারণে তীরবর্তী দক্ষিণ বিল্বগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের রাস্তা ইতোমধ্যে খালের মধ্যে ধসে পড়েছে। স্কুলে যাতায়াতের একমাত্র ব্রিজ ধসে পড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ভাঙনরোধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে স্কুলে যাতায়াতের একমাত্র পথ বন্ধ হয়ে যাবে।

বোরাদী গরঙ্গল ও মোল্লারখালের নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা জানান, পালরদী নদীর ভাঙনে ইতোমধ্যে অনেক পরিবার অন্যত্র গিয়ে বসবাস শুরু করছে। নতুন করে নদী তীরবর্তী রাস্তা ভাঙনের মুখে পড়েছে। ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট ঊধ্বর্তন কর্মকর্তাদের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জাবেদ ইকবাল বলেন, ‘মিয়ারচর নদী ভাঙনরোধে একশ মিটার এলাকায় জিও ব্যাগ ডাম্পিং করার জন্য ইতোমধ্যে নির্দেশনা পেয়েছি।

আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সেখানে কাজ শুরু করা হবে। ’ তিনি আরও জানিয়েছেন, বিল্বগ্রাম এলাকায় একটি কাজ চলমান রয়েছে। অপর অংশ পরিদর্শন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব স্থানের ভাঙনরোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

ট্রাম্প প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত: হোয়াইট হাউসে ফিরল সিএনএনসহ ৩ গণমাধ্যম

নদীভাঙনে বসতভিটা হারাচ্ছেন মিয়ারচরের বাসিন্দারা

Update Time : 08:30:16 am, Thursday, 24 September 2026

আড়িয়াল খাঁ নদের তীব্র ভাঙনে বসতভিটা হারাচ্ছেন বরিশালের গৌরনদী উপজেলার সরিকল ইউনিয়নের আড়িয়াল খাঁ নদের তীরবর্তী মিয়ারচর এলাকার বাসিন্দারা। গত দুই বছরে নদের তীব্র ভাঙনে ৪০ পরিবার বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে।

নতুন করে এক মাসের ব্যবধানে পাঁচটি পরিবারের বসতভিটা রাক্ষুসে নদের গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। অপরদিকে আড়িয়াল খাঁ নদের শাখা পালরদী নদের বোরাদী গরঙ্গল, মোল্লার খাল, পালরদী নদের শাখা গৌরনদী বন্দর থেকে ধামুড়া খালের দক্ষিণ বিল্বগ্রাম এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের ফলে দক্ষিণ বিল্বগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাতায়তের একমাত্র ব্রিজ ও রাস্তা ধসে যোগাযোগ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

নদ ভাঙন রোধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মিয়ারচর এলাকার বাসিন্দা বদরুল আলম বলেন, ‘মিয়ারচর লঞ্চঘাট এলাকায় আড়িয়াল খাঁ নদের ভাঙনে দুইবার বসতভিটা হারিয়ে অন্যের জমিতে ঘর উত্তোলন করে বসবাস করতাম। অন্যের দেওয়া সেই বসতভিটাও কয়েক দিন আগে নদ গ্রাস করে নিয়েছে। ফলে এখন স্ত্রী-সন্তান নিয়ে আমি নিঃস্ব।

মাথা গোজার ঠাঁই হারিয়ে বর্তমানে অন্যের জমিতে পলিথিনের ছাউনি দিয়ে বসবাস করে আসছি। ’ মিয়ারচর এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা অলিল ব্যাপারী (৭৫) জানান, আড়িয়াল খাঁ নদের ভাঙনে শত পরিবার তাদের বসতভিটা ও জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে; বিশেষ করে মিয়ারচর লঞ্চঘাট পয়েন্টে কয়েক বছর ধরে ভাঙন দেখা দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘যত সরকার আইছে, সবাই ভাঙন রোধ করার কথা বললেও বাস্তবে ভাঙন রোধে কেউ এগিয়ে আসেনি।

নদ ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের কাছে তিনি জোর দাবি জানিয়েছেন। শিক্ষক জাকির হোসেন বলেন, গৌরনদী-ধামুড়া খালে তীব্র স্রোতের কারণে তীরবর্তী দক্ষিণ বিল্বগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের রাস্তা ইতোমধ্যে খালের মধ্যে ধসে পড়েছে। স্কুলে যাতায়াতের একমাত্র ব্রিজ ধসে পড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ভাঙনরোধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে স্কুলে যাতায়াতের একমাত্র পথ বন্ধ হয়ে যাবে।

বোরাদী গরঙ্গল ও মোল্লারখালের নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা জানান, পালরদী নদীর ভাঙনে ইতোমধ্যে অনেক পরিবার অন্যত্র গিয়ে বসবাস শুরু করছে। নতুন করে নদী তীরবর্তী রাস্তা ভাঙনের মুখে পড়েছে। ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট ঊধ্বর্তন কর্মকর্তাদের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জাবেদ ইকবাল বলেন, ‘মিয়ারচর নদী ভাঙনরোধে একশ মিটার এলাকায় জিও ব্যাগ ডাম্পিং করার জন্য ইতোমধ্যে নির্দেশনা পেয়েছি।

আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সেখানে কাজ শুরু করা হবে। ’ তিনি আরও জানিয়েছেন, বিল্বগ্রাম এলাকায় একটি কাজ চলমান রয়েছে। অপর অংশ পরিদর্শন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব স্থানের ভাঙনরোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।