সিলেটের গোয়াইনঘাটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ করায় মো. ইয়াকুব আলী নামে এক যুবককে রড দিয়ে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হালিম (৬৯) বাদী হয়ে সিলেটের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৩য় ও আমলী আদালত নং-১০ (গোয়াইনঘাট)-এ একটি সি.আর মামলা দায়ের করেছেন। আদালতের বিজ্ঞ বিচারক সুদীপ্ত তালুকদার মামলাটি আমলে নিয়ে গোয়াইনঘাট থানার ওসিকে সরেজমিনে তদন্তপূর্বক আগামী ১ নভেম্বর ২০২৬ তারিখের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার বিবরণী ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বাউঁরভাগ হাওর (মুখতলা) এলাকার প্রভাবশালী ও সন্ত্রাসপ্রকৃতির একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় নিরীহ মানুষের জমিসহ নদীর তীর থেকে জোরপূর্বক বালু লুটপাট করে আসছিল। স্থানীয় যুবক ইয়াকুব আলী এই অবৈধ বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ করায় চক্রটি তার ওপর মারাত্মক ক্ষিপ্ত হয়। ‎এরই জের ধরে গত ২৩ আগস্ট রাত আনুমানিক ৮টার দিকে বাউঁরভাগ হাওর নদীর পূর্ব পাড়ে ওত পেতে থাকা আসামিরা ইয়াকুব আলীর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
তাকে লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাতের চেষ্টা করা হলে তিনি হাত দিয়ে তা ফেরানোর চেষ্টা করেন। এতে তার বাম হাতের কবজি ও আঙুলের হাড় ভেঙে যায়। আসামিদের নির্মম নির্যাতনের হাত থেকে প্রাণ বাঁচাতে ইয়াকুব নদীতে ঝাঁপ দেন। পরবর্তীতে রাত সাড়ে ১১টার দিকে লোকমান হোসেন সিকদার চেয়ারম্যানের বাড়ির উঠানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা।
‎পরে স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার করে তাকে প্রথমে গোয়াইনঘাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে সিলেট এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ইয়াকুব বর্তমানে হাসপাতালের ৩য় তলার ৯নং ওয়ার্ডে মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসাধীন। মামলায় অভিযুক্ত প্রধান আসামিরা হলেন— ১. মনোয়ার (৫২), ২. সুমন (২৩), ৩. স্বপন (২৬), ৪. নাজিম (২৫), ৫. সুমন (২৭) এবং ৬. হালিম (৩৫)।
এ ছাড়া আরও ৪-৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। তারা সবাই বাউঁরভাগ হাওর (মুখতলা) গ্রামের বাসিন্দা। ‎বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ শেষে ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬১ ধারায় আশপাশের সাক্ষীদের বক্তব্য রেকর্ড করে নিরপেক্ষ তদন্তের আদেশ প্রদান করেন (মামলা স্মারক নং-৬১৬)। ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন উল্লেখ করে ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট থানার ওসি ওমর ফারুক জানান, আদালতের নির্দেশনামা অনুযায়ী ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



















