আজ শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৩ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ০৬ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
৩০°C
সর্বোচ্চ: ৩৬°C
সর্বনিম্ন: ২৭°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৩১%

দাম বৃদ্ধির পরও ঢাকার বাজারে সয়াবিন তেলের সংকট কাটেনি

  • MIT ERP
  • Update Time : 11:33:47 pm, Friday, 18 September 2026
  • 14

দাম বৃদ্ধির পরও ঢাকার বাজারে সয়াবিন তেলের সংকট কাটেনি

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

ঢাকার বাজারে সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমেছে, যার কারণে সংকট কাটেনি। আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলসহ আমদানিযোগ্য বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়েছে। সম্প্রতি সরকার প্রতি লিটারে ৫ টাকা দাম বাড়িয়েছে।

তবু ঢাকায় কয়েকটি খুচরা দোকান ঘুরে মিলছে না আধা ও এক লিটারের বোতল। নিরুপায় হয়ে ১৮৫ টাকা লিটার দরে ভোক্তারা কিনছেন পাম তেল। ক্রেতা ধরতে অনেক বিক্রেতা এখন খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি শুরু করেছেন। একই সঙ্গে বাজারে বেড়েছে আটা-ময়দার দাম। চালের দাম আগের মতোই রয়েছে। অন্যদিকে, বাজারে সবজির দাম চড়া। তবে গত সপ্তাহের তুলনায় ডিম ও মুরগির দাম কিছুটা কমেছে।

মাছের বাজার প্রায় স্থিতিশীল রয়েছে। তেলের পর বাজারে বাড়তি চাপ তৈরি করেছে আটা ও ময়দার দাম। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) দৈনন্দিন বাজারদরের তালিকায়ও আটা ও ময়দার মূল্যবৃদ্ধির তথ্য রয়েছে। টিসিবির হিসাবে, গত এক মাসে খোলা আটার দাম কেজিতে ৩ টাকা এবং খোলা ও মোড়কজাত ময়দার দাম কেজিতে ৫ টাকা বেড়েছে। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

রাজধানীর বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট এখনো কাটেনি। বিশেষ করে আধা লিটার ও এক লিটার তেলের বোতল নেই বললেই চলে। দু-একটি দোকানে শুধু দুই বা পাঁচ লিটারের বোতল পাওয়া যাচ্ছে। এসব দোকানে প্রতি লিটার সয়াবিন এখন ২০৫-২০৮ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা যায়। এ ছাড়া খুচরা পাম ওয়েল ১৮০ থেকে ১৮৫ টাকা দরে কিনছেন ভোক্তারা। খুচরা বিক্রেতা ও তেলের পাইকারি সরবরাহকারীরা বলছেন, সর্বশেষ গত ২ সেপ্টেম্বর ভোজ্যতেলের দাম বাড়িয়েছে কোম্পানিগুলো।

তার পরও তারা সরবরাহ স্বাভাবিক করেনি। মূলত ভোজ্যতেল পরিশোধনকারী কোম্পানিগুলো বোতলজাত সয়াবিন তেল বাজারে কম ছাড়ছে। খুচরা বিক্রেতারা জানান, পরিবেশকদের কাছে বারবার তাগাদা দিয়েও তেল পাচ্ছেন না তারা। এখন শুধু দু-তিনটি কোম্পানি বোতলজাত সয়াবিন তেল বাজারে ছাড়ছে; যা চাহিদার তুলনায় সামান্য। গৃহিণী নিগার হানিফ নামে কারওয়ান বাজারে আসা এক ক্রেতা বলেন, ‘পাঁচ লিটারের সয়াবিন তেল পাওয়া যায় কিন্তু এক লিটারের তেল নেই।

কয়েক দোকান ঘুরে একটি এক লিটারের বোতল পেয়েছি। ’ মগবাজারে রাজ্জাক স্টোরের মালিক মেহেদী হাসান বলেন, এক লিটারের বোতল তারা (পেিরবশক) কম দিচ্ছে। পাঁচ কার্টনের অর্ডার করলে মিলছে এক কার্টন। বোতলজাত তেলের এমন সংকটে খোলা তেলের দাম হুহু করে বাড়ছে। প্রতি লিটার সয়াবিন এখন ২০৫-২০৮ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা যাচ্ছে। এ ছাড়া, পাম তেল বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৮৫ টাকা দরে।

রাজধানীর খুচরা বাজারগুলোয় ডিমের দামও আগের মতো ১৫০ টাকা ডজন দরে বিক্রি হচ্ছে। সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারভেদে প্রতি ডজন ফার্মের মুরগির ডিম ৫ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রি করতে দেখা গেছে। তবে স্থিতিশীল রয়েছে ব্রয়লার মুরগির ডিমের দাম। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি আগের মতোই ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সোনালি মুরগির কেজি ৩৩০ থেকে ৩৪০ টাকা।

ঢাকার বাজারে খানিকটা চড়া দামে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে বিভিন্ন সবজির দাম। এর মধ্যে ঢ্যাঁড়স ও পটোলের দাম কমে সপ্তাহ দু-এক আগে ৪০ থেকে ৫০ টাকায় গেলেও এখন আবার সবজিটি বিক্রি হচ্ছে বাজারভেদে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। শসা প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। দেশি লাউ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে। লম্বা আকারের বেগুনের দামও বেড়েছে।

মোটামুটি ভালো মানের এই জাতের বেগুন কিনতে হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে। কচুর মুখি ৫৫ থেকে ৭০ টাকা, করলা ৭০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মুদিদোকানগুলোয় প্রতি কেজি খোলা আটা ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আগে এর দাম ছিল ৪৫ টাকা। খোলা ময়দা বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭০ টাকা কেজি। মাসখানেক আগে এর দাম ছিল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা।

বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোড়কজাত আটা ও ময়দাও বিক্রি হচ্ছে বাড়তি দামে। নিউমার্কেটের সবজি বিক্রেতা তারেক বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পাইকারি বাজারে সরবরাহ কমেছে। এ কারণে সবজির দাম কিছুটা বাড়তি যাচ্ছে। বৃষ্টি শেষে আবহাওয়া ভালো হলে আবার সবজির দাম কমে আসবে। ’ তিনি আরও বলেন, ‘বাজারে সবচেয়ে দামি সবজি শিম, প্রতি কেজি ২৪০ টাকা।

শিমের মৌসুম এখনো ভালোভাবে শুরু হয়নি, এ কারণে দাম বাড়তি। এ ছাড়া গোল বেগুনের দামও বেশি। বাকি সবজি ৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং কিছু সবজি ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ’ মাছের বাজারে দামে বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। তবে কোনো কোনো মাছের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে, আবার কিছু মাছের দাম ১০ থেকে ২০ টাকা কমেছে। পুকুরে চাষ করা পাঙাশ প্রতি কেজি ২৩০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

মানভেদে চিংড়ি ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, বড় আকারের রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা এবং ট্যাংরা ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

দাম বৃদ্ধির পরও ঢাকার বাজারে সয়াবিন তেলের সংকট কাটেনি

দাম বৃদ্ধির পরও ঢাকার বাজারে সয়াবিন তেলের সংকট কাটেনি

Update Time : 11:33:47 pm, Friday, 18 September 2026

ঢাকার বাজারে সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমেছে, যার কারণে সংকট কাটেনি। আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলসহ আমদানিযোগ্য বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়েছে। সম্প্রতি সরকার প্রতি লিটারে ৫ টাকা দাম বাড়িয়েছে।

তবু ঢাকায় কয়েকটি খুচরা দোকান ঘুরে মিলছে না আধা ও এক লিটারের বোতল। নিরুপায় হয়ে ১৮৫ টাকা লিটার দরে ভোক্তারা কিনছেন পাম তেল। ক্রেতা ধরতে অনেক বিক্রেতা এখন খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি শুরু করেছেন। একই সঙ্গে বাজারে বেড়েছে আটা-ময়দার দাম। চালের দাম আগের মতোই রয়েছে। অন্যদিকে, বাজারে সবজির দাম চড়া। তবে গত সপ্তাহের তুলনায় ডিম ও মুরগির দাম কিছুটা কমেছে।

মাছের বাজার প্রায় স্থিতিশীল রয়েছে। তেলের পর বাজারে বাড়তি চাপ তৈরি করেছে আটা ও ময়দার দাম। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) দৈনন্দিন বাজারদরের তালিকায়ও আটা ও ময়দার মূল্যবৃদ্ধির তথ্য রয়েছে। টিসিবির হিসাবে, গত এক মাসে খোলা আটার দাম কেজিতে ৩ টাকা এবং খোলা ও মোড়কজাত ময়দার দাম কেজিতে ৫ টাকা বেড়েছে। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

রাজধানীর বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট এখনো কাটেনি। বিশেষ করে আধা লিটার ও এক লিটার তেলের বোতল নেই বললেই চলে। দু-একটি দোকানে শুধু দুই বা পাঁচ লিটারের বোতল পাওয়া যাচ্ছে। এসব দোকানে প্রতি লিটার সয়াবিন এখন ২০৫-২০৮ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা যায়। এ ছাড়া খুচরা পাম ওয়েল ১৮০ থেকে ১৮৫ টাকা দরে কিনছেন ভোক্তারা। খুচরা বিক্রেতা ও তেলের পাইকারি সরবরাহকারীরা বলছেন, সর্বশেষ গত ২ সেপ্টেম্বর ভোজ্যতেলের দাম বাড়িয়েছে কোম্পানিগুলো।

তার পরও তারা সরবরাহ স্বাভাবিক করেনি। মূলত ভোজ্যতেল পরিশোধনকারী কোম্পানিগুলো বোতলজাত সয়াবিন তেল বাজারে কম ছাড়ছে। খুচরা বিক্রেতারা জানান, পরিবেশকদের কাছে বারবার তাগাদা দিয়েও তেল পাচ্ছেন না তারা। এখন শুধু দু-তিনটি কোম্পানি বোতলজাত সয়াবিন তেল বাজারে ছাড়ছে; যা চাহিদার তুলনায় সামান্য। গৃহিণী নিগার হানিফ নামে কারওয়ান বাজারে আসা এক ক্রেতা বলেন, ‘পাঁচ লিটারের সয়াবিন তেল পাওয়া যায় কিন্তু এক লিটারের তেল নেই।

কয়েক দোকান ঘুরে একটি এক লিটারের বোতল পেয়েছি। ’ মগবাজারে রাজ্জাক স্টোরের মালিক মেহেদী হাসান বলেন, এক লিটারের বোতল তারা (পেিরবশক) কম দিচ্ছে। পাঁচ কার্টনের অর্ডার করলে মিলছে এক কার্টন। বোতলজাত তেলের এমন সংকটে খোলা তেলের দাম হুহু করে বাড়ছে। প্রতি লিটার সয়াবিন এখন ২০৫-২০৮ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা যাচ্ছে। এ ছাড়া, পাম তেল বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৮৫ টাকা দরে।

রাজধানীর খুচরা বাজারগুলোয় ডিমের দামও আগের মতো ১৫০ টাকা ডজন দরে বিক্রি হচ্ছে। সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারভেদে প্রতি ডজন ফার্মের মুরগির ডিম ৫ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রি করতে দেখা গেছে। তবে স্থিতিশীল রয়েছে ব্রয়লার মুরগির ডিমের দাম। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি আগের মতোই ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সোনালি মুরগির কেজি ৩৩০ থেকে ৩৪০ টাকা।

ঢাকার বাজারে খানিকটা চড়া দামে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে বিভিন্ন সবজির দাম। এর মধ্যে ঢ্যাঁড়স ও পটোলের দাম কমে সপ্তাহ দু-এক আগে ৪০ থেকে ৫০ টাকায় গেলেও এখন আবার সবজিটি বিক্রি হচ্ছে বাজারভেদে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। শসা প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। দেশি লাউ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে। লম্বা আকারের বেগুনের দামও বেড়েছে।

মোটামুটি ভালো মানের এই জাতের বেগুন কিনতে হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে। কচুর মুখি ৫৫ থেকে ৭০ টাকা, করলা ৭০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মুদিদোকানগুলোয় প্রতি কেজি খোলা আটা ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আগে এর দাম ছিল ৪৫ টাকা। খোলা ময়দা বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭০ টাকা কেজি। মাসখানেক আগে এর দাম ছিল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা।

বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোড়কজাত আটা ও ময়দাও বিক্রি হচ্ছে বাড়তি দামে। নিউমার্কেটের সবজি বিক্রেতা তারেক বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পাইকারি বাজারে সরবরাহ কমেছে। এ কারণে সবজির দাম কিছুটা বাড়তি যাচ্ছে। বৃষ্টি শেষে আবহাওয়া ভালো হলে আবার সবজির দাম কমে আসবে। ’ তিনি আরও বলেন, ‘বাজারে সবচেয়ে দামি সবজি শিম, প্রতি কেজি ২৪০ টাকা।

শিমের মৌসুম এখনো ভালোভাবে শুরু হয়নি, এ কারণে দাম বাড়তি। এ ছাড়া গোল বেগুনের দামও বেশি। বাকি সবজি ৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং কিছু সবজি ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ’ মাছের বাজারে দামে বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। তবে কোনো কোনো মাছের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে, আবার কিছু মাছের দাম ১০ থেকে ২০ টাকা কমেছে। পুকুরে চাষ করা পাঙাশ প্রতি কেজি ২৩০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

মানভেদে চিংড়ি ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, বড় আকারের রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা এবং ট্যাংরা ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।