ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ শুধু সিটি করপোরেশনের একার দায়িত্ব নয়। রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে জনগণকে সচেতন করতে মাঠে কাজ করতে হবে।
সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেই ডেঙ্গু মোকাবিলা করা সম্ভব। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের উদ্যোগে কল্পলোক আবাসিক এলাকায় আয়োজিত ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মেয়র বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে চসিকের ৪১টি ওয়ার্ডে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে জোনভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
যেসব এলাকায় ডেঙ্গু আক্রান্তের হার বেশি, সেসব এলাকাকে গুরুত্ব দিয়ে মশক নিধন, এডিস মশার লার্ভা ধ্বংস, পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কল্পলোক আবাসিক এলাকার রাস্তার সমস্যা প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, আবাসিক এলাকার বিভিন্ন রাস্তার কাজ এখনো সম্পূর্ণ হয়নি। রাস্তার খানাখন্দে বৃষ্টির পানি জমে থাকায় সেখানে এডিস মশার প্রজননের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত এসব রাস্তার কাজ সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়ে মেয়র বলেন, প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করে সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হলে চসিক সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নেবে। মেয়র বলেন, বৃষ্টির পর তিন-চার দিন পানি জমে থাকলে সেখানে এডিস মশার লার্ভা জন্ম নিতে পারে। তাই বাসাবাড়ি ও আশপাশের এলাকায় পানি জমতে দেওয়া যাবে না।
ডাবের খোসা, প্লাস্টিক, পলিথিন, পরিত্যক্ত পাত্র, টায়ারসহ যেসব বস্তুতে পানি জমতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। কোথাও এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান চসিক মেয়র। ডেঙ্গু আক্রান্তদের আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ডা. শাহাদাত বলেন, জ্বরের প্রথম কয়েক দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জ্বর, মাথাব্যথা, শরীরে র‌্যাশসহ ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষা করাতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। চসিকের মেমন হাসপাতালসহ সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে। ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে পর্যাপ্ত পানি, খাবার স্যালাইন, ডাবের পানি ও ফলের জুসসহ তরল জাতীয় খাবার গ্রহণ করা প্রয়োজন।
গুরুতর কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে হাসপাতালে যেতে হবে। চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক এমদাদুল হক বাদশা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু প্রশাসন বা সিটি করপোরেশনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; জনগণকে সচেতন ও সম্পৃক্ত করতে রাজনৈতিক সংগঠনগুলোকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আমরা চট্টগ্রাম মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছি।
সাধারণ মানুষের হাতে লিফলেট তুলে দেওয়ার পাশাপাশি কোথায় পানি জমছে, কীভাবে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা যায় এবং ডেঙ্গু থেকে কীভাবে নিরাপদ থাকা যায়—এসব বিষয়ে জনগণকে সচেতন করছি। এমদাদুল হক বাদশা বলেন, কল্পলোক আবাসিক এলাকার মতো যেসব রাস্তার খানাখন্দ বা অন্যান্য কারণে পানি জমে থাকে, সেসব সমস্যা দ্রুত সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে উদ্যোগ নিতে হবে।
পাশাপাশি নাগরিকদেরও নিজেদের বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে হবে। ডেঙ্গু একটি জনস্বাস্থ্যগত সমস্যা। তাই দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে এ প্রতিরোধ কার্যক্রমে এগিয়ে আসতে হবে। যুবদলের নেতাকর্মীরা জনগণের পাশে থেকে সচেতনতা তৈরির এ কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে। মেয়র বলেন, ডেঙ্গুতে একটি মৃত্যুও আমরা চাই না। যারা মারা গেছেন, তাদের পরিবার ও স্বজনদের কষ্ট সবচেয়ে বেশি।
তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর—এই তিন মাস থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে এডিস মশার প্রজননের ঝুঁকি থাকে। এ সময়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলো মাঠে থেকে জনসচেতনতা তৈরি করলে ডেঙ্গু প্রতিরোধের কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হবে। কর্মসূচিতে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে কল্পলোক আবাসিক এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়।


















