আজ বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ০৪ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি
৩৪°C
সর্বোচ্চ: ৩৪°C
সর্বনিম্ন: ২৭°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ১০০%

দক্ষিণ সুদানে স্বর্ণের খনি ধসে নিহত অন্তত ৮২, আহত ৫০

  • MIT ERP
  • Update Time : 10:36:26 am, Thursday, 17 September 2026
  • 12

দক্ষিণ সুদানে স্বর্ণের খনি ধসে নিহত অন্তত ৮২, আহত ৫০

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

দক্ষিণ সুদানে একটি স্বর্ণের খনি ধসের ঘটনায় অন্তত ৮২ জন নিহত এবং ৫০ জন আহত হয়েছেন। গালফ নিউজ জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়াদের মৃত বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এলাকাটি নিয়ন্ত্রণকারী আধাসামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের এক সূত্র এএফপিকে বলেছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো কতজন আটকা পড়ে আছে, তা জানা যায়নি।

খুব সাধারণ সরঞ্জাম ব্যবহার করে উদ্ধারকাজ চলছে। ২০২৩ সাল থেকে সুদানে সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনীর মধ্যে যুদ্ধ চলছে। দুই পক্ষের যুদ্ধের খরচের বড় অংশ আসে দেশটির স্বর্ণ বেচাকেনা থেকে। এই বাণিজ্যের মূল্য কয়েকশ কোটি ডলার। দেশটির বড় একটি অংশের কাজের সুযোগ না থাকায় অনেক তরুণ সুদানি ঝুঁকিপূর্ণভাবে স্বর্ণ খোঁজার কাজে নেমেছেন। তারা বেশির ভাগই পশ্চিম কর্ডোফানের আল জারা খনির মতো অনিয়ন্ত্রিত খনিতে কাজ করেন।

মঙ্গলবার খনিটির সুড়ঙ্গগুলো ধসে পড়তে শুরু করে। তখন সেখানে ছোট পরিসরের কয়েক ডজন খনি শ্রমিক কাজ করছিলেন। বুধবার সকাল পর্যন্ত ৮২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সারা রাত সহকর্মী খনি শ্রমিকদের সঙ্গে উদ্ধারকাজ চালানোর পর এএফপিকে এ কথা বলেন বেঁচে যাওয়া শ্রমিক খাইর আল সাইয়েদ জাবারা। স্বর্ণ তোলার জন্য তারা যেসব সাধারণ সরঞ্জাম ব্যবহার করেন, উদ্ধারকাজেও সেগুলোই ব্যবহার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘ভেতরে আরও কতজন আছে, আমরা জানি না। জীবিত বা মৃতদের উদ্ধারের জন্য সবাই খুব কঠোর পরিশ্রম করছে। কিন্তু কাজটি কঠিন। পাথর ও মাটি সরাতে আমাদের ভারী যন্ত্রপাতি দরকার। ’ সুদানের বেশির ভাগ স্বর্ণ হাতে ও ছোট পরিসরে পরিচালিত খনি থেকে তোলা হয়। এসব খনির কিছু পুরোনো ও বন্ধ হয়ে যাওয়া খনি। আবার আল জারার মতো অনেক খনি সরকারি অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হয়।

খনি শ্রমিকেরা হাত ও সাধারণ সরঞ্জাম দিয়ে কাজ করেন। বিনিময়ে তারা খুব কম দৈনিক মজুরি পান। মাটির সঙ্গে মিশে থাকা স্বর্ণের টুকরা আলাদা করতে তারা সায়ানাইডের মতো বিপজ্জনক রাসায়নিকের সংস্পর্শে আসেন। এসব রাসায়নিকের কারণে আশপাশের এলাকায় প্রায়ই ব্যাপক অসুস্থতা দেখা দেয়। স্বর্ণের এই শোষণমূলক বাণিজ্যে ব্যবহারের জন্য জুলাইয়ে সুদানে পারদ ও সায়ানাইড বিক্রি, হস্তান্তর ও রপ্তানি নিষিদ্ধ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

সুদানজুড়ে খনি ধসে পড়ার ঘটনা সাধারণ। দেশটির সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে পুরোনো ও বন্ধ খনির সুড়ঙ্গে এসব দুর্ঘটনা ঘটে। সেখানে তরুণরা আয় করার আশায় লুকিয়ে প্রবেশ করেন। দক্ষিণের সম্পদসমৃদ্ধ বৃহত্তর কর্ডোফান অঞ্চলেও অনেক অনিবন্ধিত খনি রয়েছে। এসব খনি মূলত মাটিতে তৈরি বড় ও অনিরাপদ গর্তের মতো। প্রতিদিন সেখানে কয়েক ডজন তরুণ কাজ করেন।

মঙ্গলবার আল জারা খনির কিনারায় কাজ করছিলেন আরেক শ্রমিক আল আমিন সুলেইমান। তিনি এএফপিকে বলেন, ‘এখানকার সব সুড়ঙ্গ একে অপরের খুব কাছাকাছি। একটি ধসে পড়লে তার পাশের সব সুড়ঙ্গও ধসে পড়ে। ’ তিনি বলেন, ‘এখানেও সেটাই হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৮২ জনের মরদেহ বের করা হয়েছে। কিন্তু গতকাল থেকে কিছু মানুষ মাটির নিচে আটকা পড়ে আছেন।

আমার মনে হয় না তারা জীবিত আছেন। ’ যুদ্ধের কারণে সুদানের প্রায় দুই কোটি মানুষ তীব্র খাদ্যসংকটে পড়ার আগেও হাতে ও ছোট পরিসরে পরিচালিত খনিগুলোতে ২০ লাখের বেশি মানুষ কাজ করতেন বলে খাতসংশ্লিষ্ট তথ্য বলছে। আফ্রিকার তৃতীয় বৃহত্তম দেশ সুদান মহাদেশের অন্যতম প্রধান সোনা উৎপাদক। দেশটি জানিয়েছে, গত বছর ৭০ টন সোনা উৎপাদন হয়েছে।

গত পাঁচ বছরের মধ্যে এটি ছিল সর্বোচ্চ উৎপাদন। তবে কর্মকর্তারা বলছেন, দেশটির উৎপাদিত স্বর্ণের বেশির ভাগই সীমান্ত দিয়ে পাচার হয়ে যায়। জুলাইয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্য সুদানের স্বর্ণ বাণিজ্যকে লক্ষ্য করে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

ইকাতেরিনবার্গে আন্তর্জাতিক যুব উৎসবে চলছে ‘মস্কো-ভবিষ্যতের শহর’ প্যাভিলিয়ন

দক্ষিণ সুদানে স্বর্ণের খনি ধসে নিহত অন্তত ৮২, আহত ৫০

Update Time : 10:36:26 am, Thursday, 17 September 2026

দক্ষিণ সুদানে একটি স্বর্ণের খনি ধসের ঘটনায় অন্তত ৮২ জন নিহত এবং ৫০ জন আহত হয়েছেন। গালফ নিউজ জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়াদের মৃত বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এলাকাটি নিয়ন্ত্রণকারী আধাসামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের এক সূত্র এএফপিকে বলেছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো কতজন আটকা পড়ে আছে, তা জানা যায়নি।

খুব সাধারণ সরঞ্জাম ব্যবহার করে উদ্ধারকাজ চলছে। ২০২৩ সাল থেকে সুদানে সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনীর মধ্যে যুদ্ধ চলছে। দুই পক্ষের যুদ্ধের খরচের বড় অংশ আসে দেশটির স্বর্ণ বেচাকেনা থেকে। এই বাণিজ্যের মূল্য কয়েকশ কোটি ডলার। দেশটির বড় একটি অংশের কাজের সুযোগ না থাকায় অনেক তরুণ সুদানি ঝুঁকিপূর্ণভাবে স্বর্ণ খোঁজার কাজে নেমেছেন। তারা বেশির ভাগই পশ্চিম কর্ডোফানের আল জারা খনির মতো অনিয়ন্ত্রিত খনিতে কাজ করেন।

মঙ্গলবার খনিটির সুড়ঙ্গগুলো ধসে পড়তে শুরু করে। তখন সেখানে ছোট পরিসরের কয়েক ডজন খনি শ্রমিক কাজ করছিলেন। বুধবার সকাল পর্যন্ত ৮২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সারা রাত সহকর্মী খনি শ্রমিকদের সঙ্গে উদ্ধারকাজ চালানোর পর এএফপিকে এ কথা বলেন বেঁচে যাওয়া শ্রমিক খাইর আল সাইয়েদ জাবারা। স্বর্ণ তোলার জন্য তারা যেসব সাধারণ সরঞ্জাম ব্যবহার করেন, উদ্ধারকাজেও সেগুলোই ব্যবহার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘ভেতরে আরও কতজন আছে, আমরা জানি না। জীবিত বা মৃতদের উদ্ধারের জন্য সবাই খুব কঠোর পরিশ্রম করছে। কিন্তু কাজটি কঠিন। পাথর ও মাটি সরাতে আমাদের ভারী যন্ত্রপাতি দরকার। ’ সুদানের বেশির ভাগ স্বর্ণ হাতে ও ছোট পরিসরে পরিচালিত খনি থেকে তোলা হয়। এসব খনির কিছু পুরোনো ও বন্ধ হয়ে যাওয়া খনি। আবার আল জারার মতো অনেক খনি সরকারি অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হয়।

খনি শ্রমিকেরা হাত ও সাধারণ সরঞ্জাম দিয়ে কাজ করেন। বিনিময়ে তারা খুব কম দৈনিক মজুরি পান। মাটির সঙ্গে মিশে থাকা স্বর্ণের টুকরা আলাদা করতে তারা সায়ানাইডের মতো বিপজ্জনক রাসায়নিকের সংস্পর্শে আসেন। এসব রাসায়নিকের কারণে আশপাশের এলাকায় প্রায়ই ব্যাপক অসুস্থতা দেখা দেয়। স্বর্ণের এই শোষণমূলক বাণিজ্যে ব্যবহারের জন্য জুলাইয়ে সুদানে পারদ ও সায়ানাইড বিক্রি, হস্তান্তর ও রপ্তানি নিষিদ্ধ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

সুদানজুড়ে খনি ধসে পড়ার ঘটনা সাধারণ। দেশটির সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে পুরোনো ও বন্ধ খনির সুড়ঙ্গে এসব দুর্ঘটনা ঘটে। সেখানে তরুণরা আয় করার আশায় লুকিয়ে প্রবেশ করেন। দক্ষিণের সম্পদসমৃদ্ধ বৃহত্তর কর্ডোফান অঞ্চলেও অনেক অনিবন্ধিত খনি রয়েছে। এসব খনি মূলত মাটিতে তৈরি বড় ও অনিরাপদ গর্তের মতো। প্রতিদিন সেখানে কয়েক ডজন তরুণ কাজ করেন।

মঙ্গলবার আল জারা খনির কিনারায় কাজ করছিলেন আরেক শ্রমিক আল আমিন সুলেইমান। তিনি এএফপিকে বলেন, ‘এখানকার সব সুড়ঙ্গ একে অপরের খুব কাছাকাছি। একটি ধসে পড়লে তার পাশের সব সুড়ঙ্গও ধসে পড়ে। ’ তিনি বলেন, ‘এখানেও সেটাই হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৮২ জনের মরদেহ বের করা হয়েছে। কিন্তু গতকাল থেকে কিছু মানুষ মাটির নিচে আটকা পড়ে আছেন।

আমার মনে হয় না তারা জীবিত আছেন। ’ যুদ্ধের কারণে সুদানের প্রায় দুই কোটি মানুষ তীব্র খাদ্যসংকটে পড়ার আগেও হাতে ও ছোট পরিসরে পরিচালিত খনিগুলোতে ২০ লাখের বেশি মানুষ কাজ করতেন বলে খাতসংশ্লিষ্ট তথ্য বলছে। আফ্রিকার তৃতীয় বৃহত্তম দেশ সুদান মহাদেশের অন্যতম প্রধান সোনা উৎপাদক। দেশটি জানিয়েছে, গত বছর ৭০ টন সোনা উৎপাদন হয়েছে।

গত পাঁচ বছরের মধ্যে এটি ছিল সর্বোচ্চ উৎপাদন। তবে কর্মকর্তারা বলছেন, দেশটির উৎপাদিত স্বর্ণের বেশির ভাগই সীমান্ত দিয়ে পাচার হয়ে যায়। জুলাইয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্য সুদানের স্বর্ণ বাণিজ্যকে লক্ষ্য করে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে।