মাদারীপুরের কালকিনিতে পূর্বশত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের অতর্কিত হামলায় আহত সেই বৃদ্ধ মো. এছাহাক সরদারের (৭৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে বসে তার মৃত্যু হয়।
অপরদিকে বৃদ্ধ এছাহাক সরদারের মৃত্যুতে পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া। হামলাকারীদের অবিলম্বে দৃষ্টান্ত মূলক বিচারের দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজনরা। মামলা ও নিহতের পরিবার জানায়, পৌরসভার উত্তর জনারদন্দী গ্রামের নসাই সরদারের ছেলে এছাহাকের সঙ্গে একই এলাকার জালু মোল্লার দীর্ঘদিন পূর্বশত্রুতা চলে আসছিল। গত ২২ আগস্ট রাতে এছাহাক মোল্লা একা পাশের দোকান থেকে বাড়ি ফিরছিলেন।
এসময় পথে ওৎপেতে থাকা জালু মোল্লার নেতৃত্বে তুহিন মোল্লা, পারভেজ মোল্লা, রবিউল মোল্লা, লিমন মোল্লাসহ বেশ কয়েকজন মিলে এছাহাকের পথরোধ করে। এরপর তারা অতর্কিতভাবে এছাহাক সরদারকে কুপিয়ে জখম করে দুই পায়ের রগ কেটে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে গুরুতর অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়।
সেখানে মঙ্গলবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহতের ভাতিজা রাসেল সরদার জানান, আমার চাচা এছাহাক সরদারকে একা পেয়ে ঝালু মোল্লা ও তার লোকজন কুপিয় জখম শেষে দুই পায়ের রগ কেটে দেয়। এতে করে হাসপাতাকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনার পরের দিন ২৩ আগস্ট পুনরায় জালু মোল্লার নেতৃত্বে দেলোয়ার হাওলাদারসহ বেশ কয়েজন বৃদ্ধ এছাহাকের বাড়ির সামনে দফায় দফায় বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দুটি বসতঘর ভাঙচুর করে।
তাদের বাঁধা দিলে জাহিদ খান, রাজিব সরদার, নাজমুল বেপারী আহত হন। আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে খবর পেয়ে কালকিনি থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ওই সকল ঘটনায় থানায় মামলাও হয়েছিল। এ বিষয় জানতে চাইলে অভিযুক্ত জালু মোল্লাকে এলাকায় বা ফোনে পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে কালকিনি থানার ওসি মো.জহিরুল আলম জানান, আগে থানায় মারামারির মামলা হয়েছিল।
এখন নতুন করে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যা মামলার প্রক্রিয়াধীন।



















