কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বড় ভাইয়ের ধারালো হাসুয়ার কোপে ছোট ভাই ইমদাদুল হক বাদাল (৫৫) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নিহতের ছেলেসহ ২জন গুরুতর আহত হয়েছেন। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের শেহালা গ্রামে হত্যাকাণ্ডের এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ইমদাদুল হক বাদাল একই গ্রামের মৃত ফুলচাঁদ বাদালের ছেলে এবং আহতরা নিহত ইমদাদুল হক বাদালের ছেলে তপন (১৯) এবং তার চাচাতো ভাই মৃত আলেক উদ্দিনের ছেলে বাবুল হোসেন (৩৫)। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ঘাতক বজলুর রহমান বাদাল ও তার স্ত্রীকে আটক করে হেফাজতে পুলিশ নিয়োছে পুলিশ। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বড় ভাই বজলু রহমান বাদালের সঙ্গে ছোট ভাই ইমদাদুল হক বাদালের বাড়ির জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল।
এরই জের ধরে রোববার রাতে দুই ভাইয়ের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে বজলু রহমান ক্ষিপ্ত হয়ে ধারালো হাসুয়া দিয়ে ইমদাদুলকে এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে জখম করে। এ সময় ছেলে তপন বাবাকে বাঁচাতে গেলে তাকেও শরীরে বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। পরে তপনের চাচাতো ভাই বাবুল হোসেন বাধা দিতে গেলে তাকেও হাসুয়া দিয়ে আঘাত করে পেটের নাড়ী-ভুড়ি বের করে দেওয়া হয়।
এতে তিনিও গুরুতর আহত হন। এসময় ইমদাদুল হক ঘটনাস্থলেই নিহত হলে আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। সেখানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের ঘটনার এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে খবর পেয়ে দৌলতপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করলেও ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ বিষয়ে বোয়ালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. খোয়াজ আলী জানান, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বড়ভাইয়ের হাতে ছোটভাই খুন হয়েছে। আহত হয়েছে নিহতের ছেলে ও ভাতিজা। আহতরা কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে।
পুলিশ উপস্থিত থাকায় বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। দৌলতপুর থানার ওসি খালেদুর রহমান বলেন, পারিবারিক ও জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। হামলায় ঘটনাস্থলেই একজন নিহত এবং দুজন গুরুতর আহত হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করেছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
ঘটনায় জড়িত বজলুর রহমান বাদাল ও তার স্ত্রীকে আটক করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



















