ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে কর্মরত সুমন বাদশা নামে এক ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী সামান্য বেতনে চাকরি করা সত্ত্বেও তার বিরুদ্ধে নীরব চাঁদাবাজি, বদলি বাণিজ্য ও অবৈধ প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে। তার এসব কর্মকাণ্ডের কারণে সহকর্মী থেকে শুরু করে প্রশাসনিক কর্মকর্তা পর্যন্ত সবাই আতঙ্কে রয়েছেন।
আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছে অবৈধ সুবিধা নিয়ে আঙুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছেন। হয়েছেন অবৈধভাবে কোটি টাকার সম্পদের মালিক। ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগন্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পিয়ন সুমন বাদশা ২০১৪ সালের জুলাই মাসে চাকুরিতে যোগদান করেন। যোগদান করার পর তিনি ওই হাসপাতালের প্রাক্তন প্রধান সহকারী মাইজুল হকের প্রধান সিপাহ সালা বনে যান।
তিনি হাসপাতালের কর্মচারী হয়ে মাইজুলের ব্যক্তিগত কর্মচারী হিসেবে সারা হাসপাতালে প্রভাব বিস্তার করেন। তিনি চাকরিতে ফাঁকি দিয়ে নামকাওয়াস্তে দায়িত্ব পালন করে মাসে মাসে বেতনভাতা উত্তোলন করে সুবিধা ভোগ করেন। তিনি হাসপাতালে তার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন না করে স্বাস্থ্য বিভাগের একটি সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওই সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িয়ে হাসপাতাল এলাকায় নীরব চাঁদাবাজি শুরু করেন।
তার দাবি অনুযায়ী, কোনো কর্মকর্তা ও কর্মচারী মোটা অংকের চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার ওপর নেমে আসে বদলির খড়গ। কোনো প্রশাসনিক কর্মকর্তা বা কর্মচারী তার ওপর নাখোশ হলে তিনি উল্টো তাদের পীরগন্জ হাসপাতাল থেকে বদলি করে হয়রানি করেন।
ইতোমধ্যে পীরগন্জ হাসপাতালের সাবেক উপজেলা স্বাস্থ্য প.প. কর্মকর্তা) ডা. মো. আব্দুল জব্বার, ভোমরাদহ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য উপকেন্দ্র ফার্মাসিস্ট মোছা. জান্নাতি খাতুন, পরিসংখ্যানবিদ মোছা. আরমিনা আক্তার, হাসপাতালের স্যাকমো রিপন রায়, সারা হেমরণ, স্টোর কিপার মোছা. জান্নাতুল ফেরদৌস, জাবরহাট ইউনিয়ন স্বাস্থ্য উপকেন্দ্রের ফার্মাসিস্ট তরিকুল ইসলাম, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ল্যাব মো. মাহাবুব আলম, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ল্যাব মো. মিজানুর রহমান, হাসপাতালের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মোছা. দুলালী খাতুন মেডিকেল টেকনিশিয়ান ইসিজি মো. আনছারুল ইসলাম , মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ল্যাব মো. সুমন আলী, রানীশংকৈল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্টোর কিপার মো. আসাদুজ্জামান আশা কর্মক্ষেত্রে চরম হয়রানির শিকার হন ।
তাদের বদলির সুযোগ নিয়ে প্রতিস্থাপনের আদেশ নিয়ে দেওয়ার কথা বলে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নেন। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বদলীর কারণে হাসপাতালের স্বাস্থ্য সেবা বিঘ্নিত হয় এবং হাসপাতালের চিকিৎসা নিয়ে জনমনে প্রশ্নের উদ্রেক হয়। সুমন বাদশা উচ্চতর পদে পদোন্নতি পাওয়ার মতো কোনো যোগ্যতা না থাকলেও তিনি ডাটা এন্টি অপারেটর পদে প্রমোশন দেখিয়ে কর্মক্ষেত্রে অবৈধ সুযোগ সুবিধা ভোগ করে আসছেন।
তিনি বিভিন্ন সময়ে বদলি বাণিজের তদবিরে ঢাকায় যাতায়াত করে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২৫ হাজার টাকা ভ্রমণ ভাতা উত্তোলন করে আত্বসাৎ করেন। তিনি সামান্য বেতনে চাকরি করলেও চাঁদাবাজি ও বদলি বাণিজ্য এবং চাকরি দেওয়ার নাম করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আঙুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছেন। সেই অর্থে পীরগন্জ উপজেলার পুরাতন পাভেল সিনেমা হল সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ৭০ লাখ টাকায় ১০ শতক জমি ক্রয় করেন।
একইভাবে তার নিজ গ্রাম কাঠালবাড়িতে ৬৫ লাখ টাকা দিয়ে ২ একর জমি ক্রয় করে সেখানে একটি আমের বাগান স্থাপন করেন। সুমন বাদশা কর্তপক্ষের অনুমতি ব্যতিরেকে তার গ্রামের বাড়ি নতুন বাজার এলাকায় একটি ফার্মেমির দোকান চালিয়ে আসছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ওই ফার্মেসিতে বেশির ভাগ রোগীকে সরকারি ওষুধ সরবরাহ করেন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত কর্মচারী সুমন বাদশা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, একটি মহল আমাকে হয়রানির উদ্দেশ্যে আমার বিরুদ্ধে বানোয়াট অভিযোগ উত্থাপন করেছে যার কোনো সত্যতা নেই।
আমি এ যাবতকালে কোনো সহকর্মীকে হয়রানি করিনি। যতটুকু পেরেছি উপকার করেছি। আমার বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ কেউ প্রমাণ করতে পারলে আমি চাকরি ছেড়ে দেব। এ বিষয়ে পীরগন্জ হাসপাতালের উপজেলা স্বাস্থ্য ও প: পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামাল আহম্মেদ বলেন, পীরগন্জ হাসপাতালের ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী সুমন বাদশার বিরুদ্ধে সরকারি চাকরিতে অবহেলা, কর্মক্ষেত্রে নীরব চাঁদাবাজি, অবৈধ সম্পদের মালিক হওয়া, কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতিরেকে ফার্মাসিস্ট ব্যবসায় জড়িত থাকার গুরুতর অভিযোগ মিলেছে।
তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


















