বিশ্বের ১৯১টি দেশের ১০ হাজার যুব প্রতিনিধিকে নিয়ে রাশিয়ার ইকাতেরিনবার্গে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে ‘ইন্টারন্যাশনাল ফেস্টিভ্যাল অব ইয়ুথ-২০২৬’ বা ‘আন্তর্জাতিক যুব উৎসব-২০২৬’।
আজ রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দেশটির কেন্দ্রীয় শহর ইকাতেরিনবার্গে এবারের আসরের মূল পর্ব শুরু হয়েছে। যুব প্রতিনিধিদের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আমন্ত্রিত খাতভিত্তিক বিশেষজ্ঞ পেশাজীবী, মেন্টর এবং গণমাধ্যমকর্মীরাও এই আয়োজনে অংশ নিচ্ছেন। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশে যুব বিষয়ক দেশটির কেন্দ্রীয় সংস্থা রজমলোদেজ এর উদ্যোগে এবং ওয়ার্ল্ড ইয়ুথ ফেস্টিভ্যাল ডিরেক্টরেট এর সহযোগিতায় ২০২৪ সাল থেকে এই ফেস্টিভ্যাল আয়োজিত হচ্ছে।
১০ হাজার যুব প্রতিনিধিদের মাঝে পাঁচ হাজার প্রতিনিধি রাশিয়া থেকে নির্বাচিত হন। আর বাকি পাঁচ হাজার প্রতিনিধি বিশ্বের ১৯১টি দেশ থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। আজ থেকে আগামী বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) চার দিনে যুব প্রতিনিধিরা দুই শতাধিক অধিবেশন ও কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করবেন। প্রতিনিধিরা তাদের পছন্দের খাতভিত্তিক আয়োজনগুলোতে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ তৈরি ও সমন্বয় বৃদ্ধি করবেন।
অংশগ্রহণকারীদের স্বাগত জানিয়ে ‘রজমলোদেজ’ এর প্রধান গ্রিগরি গুরভ বলেন, “আমরা সারা বিশ্ব থেকে চিন্তাশীল মানুষদের একত্রিত করছি। এমন তরুণ প্রজন্ম যারা তাদের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবছে, এবং তারা কেমন পৃথিবী গড়ে তুলছে তা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করছে। এখানে আমাদের। অংশগ্রহণকারীরা নতুন প্রকল্প চালু করছে, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ তৈরি করছে এবং দল গঠন করছে।
আমাদের কাজ হলো যোগাযোগের জন্য সঠিক পরিবেশ তৈরি করা এবং নিশ্চিত করা যেন তারা এটিকে সত্যিই আকর্ষণীয় ও ফলপ্রসূ মনে করে। আমরা সারা বিশ্ব থেকে সৃজনশীল মানুষ, বিজ্ঞানী, তরুণ সরকারি কর্মকর্তা, ব্লগার, গণমাধ্যম প্রতিনিধি এবং শিল্পীদের স্বাগত জানাচ্ছি। এই উৎসব চলাকালীন ইকাতেরিনবার্গ সত্যিকার অর্থেই বিশ্বের তরুণদের রাজধানীতে পরিণত হবে।
উৎসবের আয়োজক সংস্থা ওয়ার্ল্ড ইয়ুথ ফেস্টিভ্যাল ডিরেক্টরেট এর মহাপরিচালক দিমিত্রি ইভানভ বলেন, এই প্রদর্শনীতে সাতটি বিষয়ভিত্তিক এলাকা বা জীবনের সাতটি ক্ষেত্র তুলে ধরা হয়েছে, যা একত্রে সার্বভৌম উন্নয়নের একটি সুদৃঢ় ভিত্তি তৈরি করে। এটা এমন একটি মডেল যা ব্যক্তি, সমাজ এবং রাষ্ট্রকে একটি একক ও পারস্পরিকভাবে সংযুক্ত স্থান হিসেবে বিবেচনা করে।
এই প্রদর্শনী ক্ষেত্রটি তৈরিতে প্রায় ১৪৭টি সংস্থা অংশ নিয়েছে। এই আয়োজনের মাধ্যমে বিশ্বকে দেখাতে চাই যে, দেশ এবং মানুষের মাঝে কোন বাঁধা থাকতে পারে না।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, এবারের আয়োজনে অস্ট্রেলিয়া, আলজেরিয়া, ব্রাজিল, ইন্দোনেশিয়া, মঙ্গোলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, সিসিলিস, সার্বিয়া, হাঙ্গেরি, ইটালি, লুক্সেমবার্গ, স্লোভাকিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, কানাডা, মিশর, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, তুরস্ক, উজবেকিস্তান, তাজিকিস্তান, বেলারুশ সহ ১৯১টি দেশ থেকে যুব প্রতিনিধিরা এবারের আসরে অংশ নিচ্ছেন।
এক লাখ ১৩ হাজারের বেশি যুব প্রতিনিধি এবারের আসরে অংশ নিতে আবেদন করেছিলেন। এদের মাঝে রাশিয়া থেকে প্রায় ৩২ হাজার আবেদন জমা পড়ে। আমন্ত্রিত অতিধিদের যাবতীয় খরচ আয়োজকদের পক্ষ থেকে বহন করা হচ্ছে। এবারের আসরে বাংলাদেশ থেকে ৭০ জন যুব প্রতিনিধি এবং চার জন গণমাধ্যমকর্মীও অংশ নিচ্ছেন।



















