জাতীয় রাজনীতিতে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখা এবং দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির নীতিনির্ধারক ও শীর্ষ নেতারা মনে করছেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও তাদের সমমনা জোটের বর্তমান রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড কেবল সাধারণ রাজনৈতিক বিরোধিতা নয়; বরং এটি দেশের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা এবং গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করার একটি সুদূরপ্রসারী দেশবিরোধী চক্রান্ত।
সম্প্রতি লংমার্চের নামে রাজপথে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি এবং বিভিন্ন ইস্যুতে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র দেখছে দলটি। এসব বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রধান দলগুলোর এই দূরত্ব ও আদর্শিক সংঘাত আগামী দিনে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি করতে পারে। তবে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও শান্তি বজায় রাখতে এ ধরনের রাজনৈতিক চক্রান্ত মোকাবিলা করা বর্তমান সরকারের জন্য একটি বড় পরীক্ষা।
ষড়যন্ত্র দেখছে বিএনপি : সংসদীয় রাজনীতিকে পাশ কাটিয়ে বা খর্ব করে রাজপথে কৃত্রিম সংকট তৈরির মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপতৎপরতা চলছে। বিগত গণঅভ্যুত্থান ও পরিবর্তনের পর দেশের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কারের গতি মন্থর করতে নানামুখী অপপ্রচার চালাচ্ছে একটি মহল। সহিংসতা ও উসকানিকে প্রশ্রয় : সরকারের বিরুদ্ধে গঠনমূলক সমালোচনার বদলে সমাজে ঘৃণা, বিভাজন ও অসভ্য রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে উসকে দিচ্ছে বিরোধীরা।
এসব বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী জামায়াত ও তাদের মিত্রদের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, সংসদকে কার্যকর না করে এবং সুনির্দিষ্ট কোনো বিকল্প প্রস্তাব না দিয়ে বিরোধী দল বা জামায়াত চক্র লংমার্চের মতো কর্মসূচির নামে রাজপথে চক্রান্তের পথ বেছে নিয়েছে। তিনি বলেন, ‘সরকার যখন দেশের অর্থনীতি ও রিজার্ভ শক্তিশালী করার পাশাপাশি বহুমুখী সংস্কার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখন একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে।
বিদ্যুৎ বা অন্যান্য খাতের যৌক্তিক সমাধানের পথ বাদ দিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য ও বিশৃঙ্খলাকে যারা প্রশ্রয় দেয়, তারা কখনোই দেশের মঙ্গল চায় না। গণতন্ত্রের যে নতুন চারাগাছ রোপিত হয়েছে, তা বিনষ্ট করার যেকোনো চক্রান্ত কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে। ’ বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রবীণ সদস্য, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান এ প্রসঙ্গে জানান, জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক ডিএনএতেই রয়েছে গণতন্ত্রের বিরোধিতাসহ গোপন চক্রান্তের সংস্কৃতি।
মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী এই শক্তি অতীতেও দেশের অগ্রযাত্রাকে বারবার পেছনের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের সময়েও তারা দেশের ভেতরে ও বাইরে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার আদলে লবিং এবং নাশকতামূলক পরিকল্পনা চালিয়ে যাচ্ছে। রাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গনকে অকার্যকর করে দেওয়াই তাদের মূল উদ্দেশ্য। স্থায়ী কমিটির আরেক জ্যেষ্ঠ সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আমরা জনগণের রায়ের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছি এবং দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর।
কিন্তু জামায়াত জোট রাজনৈতিক শিষ্টাচার বিসর্জন দিয়ে ধর্মের কার্ড ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার পুরোনো খেলায় মেতে উঠেছে। তাদের এই দেশবিরোধী ও সমাজবিচ্ছিন্ন চক্রান্ত সম্পর্কে দল ও দেশের জনগণ আজ পুরোপুরি সজাগ রয়েছে। ’ এ বিষয়ে জানতে চাইলে গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক মো. সেলিমুজ্জামান মোল্যা (সেলিমুজ্জামান সেলিম) মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে জামায়াত ও তাদের সহযোগীরা সুকৌশলে অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং জনদুর্ভোগ বাড়াতে নানা ফন্দি আঁটছে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের সাংগঠনিক ইউনিটগুলোকে ইতোমধ্যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন জামায়াতের যেকোনো ধরনের গোপন বৈঠক, উসকানি ও নাশকতামূলক অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়। দেশের মানুষ রক্ত দিয়ে যে স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার অর্জন করেছে, তা কোনোভাবেই জামায়াতের ধ্বংসাত্মক রাজনীতির কাছে জিম্মি হতে দেওয়া হবে না।



















