আজ বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১৫ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ১৭ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
৩২°C
সর্বোচ্চ: ৩৪°C
সর্বনিম্ন: ২৮°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৪১%

ধর্মপাশায় দায়ের কোপে আহত শিক্ষক লিটন চন্দ্র বর্মন, ঘটনার ৩ দিনেও মামলা হয়নি

  • MIT ERP
  • Update Time : 05:43:37 pm, Wednesday, 30 September 2026
  • 9

ধর্মপাশায় দায়ের কোপে আহত শিক্ষক লিটন চন্দ্র বর্মন, ঘটনার ৩ দিনেও মামলা হয়নি

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার পাথারিয়াকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের ধারালো দায়ের কোপে আহত হয়েছেন বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লিটন চন্দ্র বর্মন (৩১)।

এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও সেটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। গত রোববার সকাল ১০টার দিকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহত শিক্ষক লিটন চন্দ্র বর্মন সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নের পাথারিয়াকান্দা গ্রামের বাসিন্দা। এ ঘটনায় চারজনকে আসামি করে গত সোমবার দুপুরে ধর্মপাশা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন তিনি।

থানায় দেওয়া অভিযোগ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পাথারিয়াকান্দা গ্রামের দক্ষিণ পাশে লিটন চন্দ্র বর্মনের বাবা রবি বর্মন (৫৮) ও তাঁর তিন কাকার রেকর্ডীয় ও দলিলমূলে কেনা জমি রয়েছে। এর মধ্যে ৭৩ শতক রেকর্ডীয় এবং আরও ৭০ শতক দলিলমূলে কেনা জমি রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, একই গ্রামের টেনু মিয়া (৫০) গত রোববার সকাল ৯টার দিকে ৪-৫ জন লোককে সঙ্গে নিয়ে ওই জমিতে বাঁশের খুঁটি পুঁতে লাল নিশান টাঙিয়ে দেন।

খবর পেয়ে রবি বর্মন, তাঁর ভাতিজা শ্যামল বর্মন (৪৫) ও মিন্টু বর্মন (৩৮) সেখানে গিয়ে লাল নিশান সরিয়ে নিতে বলেন। এ সময় কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে টেনু মিয়া ও তাঁর সঙ্গে থাকা লোকজন তাঁদের লাঠি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে চলে যান। পরে সকাল ১০টার দিকে টেনু মিয়া পাথারিয়াকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে যান। সেখানে তাঁর ভাগনে মনির আহমেদের (৩৫) নির্দেশে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লিটন চন্দ্র বর্মনের মাথায় ধারালো দা দিয়ে কোপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন আহত শিক্ষক।

এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। ওইদিন বেলা পৌনে ২টার দিকে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে মাথার কাটা স্থানে ছয়টি সেলাই দেওয়া হয় এবং প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

গত মঙ্গলবার বিকেলে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়ে তিনি বাড়ি ফেরেন। আহত শিক্ষক লিটন চন্দ্র বর্মন বলেন, ‘টেনু মিয়া সরকারিভাবে বাবুপুর মৌজায় প্রায় এক একর জমি বন্দোবস্ত পেয়েছেন। সার্ভেয়ার গিয়ে জমিও তাঁকে বুঝিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু বন্দোবস্ত পাওয়া জমিতে না গিয়ে তিনি গত দুই বছর ধরে আমাদের রেকর্ডীয় জমিকে নিজের জমি বলে প্রচারণা চালিয়ে আসছেন।

’ তিনি আরও বলেন, মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। অসুস্থ থাকায় আপাতত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ছুটি নিয়েছেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে টেনু মিয়ার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ধর্মপাশা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক কল্যাণ সমিতির সভাপতি জাকির হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক নূরুল মোমেন বলেন, ‘ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লিটন চন্দ্র বর্মণের ওপর হামলা করে গুরুতর আহত করার ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

এ ঘটনায় তিনি সোমবার দুপুরে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগ দেওয়ার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও সেটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত না হওয়া অত্যন্ত দুঃখ ও হতাশাজনক। ’ তাঁরা বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে এবং ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা না হলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষককে নিয়ে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে।

ধর্মপাশা থানার ওসি (তদন্ত) মোহাম্মদ ইমাম হোসেন বলেন, ‘ওই শিক্ষকের দেওয়া লিখিত অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পুলিশ ঘটনাটি নিয়ে তৎপর রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

মিরপুরে হকার উচ্ছেদ ও সংঘর্ষে জামায়াত আমিরের উদ্বেগ

ধর্মপাশায় দায়ের কোপে আহত শিক্ষক লিটন চন্দ্র বর্মন, ঘটনার ৩ দিনেও মামলা হয়নি

Update Time : 05:43:37 pm, Wednesday, 30 September 2026

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার পাথারিয়াকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের ধারালো দায়ের কোপে আহত হয়েছেন বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লিটন চন্দ্র বর্মন (৩১)।

এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও সেটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। গত রোববার সকাল ১০টার দিকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহত শিক্ষক লিটন চন্দ্র বর্মন সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নের পাথারিয়াকান্দা গ্রামের বাসিন্দা। এ ঘটনায় চারজনকে আসামি করে গত সোমবার দুপুরে ধর্মপাশা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন তিনি।

থানায় দেওয়া অভিযোগ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পাথারিয়াকান্দা গ্রামের দক্ষিণ পাশে লিটন চন্দ্র বর্মনের বাবা রবি বর্মন (৫৮) ও তাঁর তিন কাকার রেকর্ডীয় ও দলিলমূলে কেনা জমি রয়েছে। এর মধ্যে ৭৩ শতক রেকর্ডীয় এবং আরও ৭০ শতক দলিলমূলে কেনা জমি রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, একই গ্রামের টেনু মিয়া (৫০) গত রোববার সকাল ৯টার দিকে ৪-৫ জন লোককে সঙ্গে নিয়ে ওই জমিতে বাঁশের খুঁটি পুঁতে লাল নিশান টাঙিয়ে দেন।

খবর পেয়ে রবি বর্মন, তাঁর ভাতিজা শ্যামল বর্মন (৪৫) ও মিন্টু বর্মন (৩৮) সেখানে গিয়ে লাল নিশান সরিয়ে নিতে বলেন। এ সময় কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে টেনু মিয়া ও তাঁর সঙ্গে থাকা লোকজন তাঁদের লাঠি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে চলে যান। পরে সকাল ১০টার দিকে টেনু মিয়া পাথারিয়াকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে যান। সেখানে তাঁর ভাগনে মনির আহমেদের (৩৫) নির্দেশে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লিটন চন্দ্র বর্মনের মাথায় ধারালো দা দিয়ে কোপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন আহত শিক্ষক।

এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। ওইদিন বেলা পৌনে ২টার দিকে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে মাথার কাটা স্থানে ছয়টি সেলাই দেওয়া হয় এবং প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

গত মঙ্গলবার বিকেলে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়ে তিনি বাড়ি ফেরেন। আহত শিক্ষক লিটন চন্দ্র বর্মন বলেন, ‘টেনু মিয়া সরকারিভাবে বাবুপুর মৌজায় প্রায় এক একর জমি বন্দোবস্ত পেয়েছেন। সার্ভেয়ার গিয়ে জমিও তাঁকে বুঝিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু বন্দোবস্ত পাওয়া জমিতে না গিয়ে তিনি গত দুই বছর ধরে আমাদের রেকর্ডীয় জমিকে নিজের জমি বলে প্রচারণা চালিয়ে আসছেন।

’ তিনি আরও বলেন, মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। অসুস্থ থাকায় আপাতত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ছুটি নিয়েছেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে টেনু মিয়ার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ধর্মপাশা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক কল্যাণ সমিতির সভাপতি জাকির হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক নূরুল মোমেন বলেন, ‘ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লিটন চন্দ্র বর্মণের ওপর হামলা করে গুরুতর আহত করার ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

এ ঘটনায় তিনি সোমবার দুপুরে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগ দেওয়ার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও সেটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত না হওয়া অত্যন্ত দুঃখ ও হতাশাজনক। ’ তাঁরা বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে এবং ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা না হলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষককে নিয়ে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে।

ধর্মপাশা থানার ওসি (তদন্ত) মোহাম্মদ ইমাম হোসেন বলেন, ‘ওই শিক্ষকের দেওয়া লিখিত অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পুলিশ ঘটনাটি নিয়ে তৎপর রয়েছে।