সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রায় ৪ হাজার বাংলাদেশির ভিসা বাতিলের বিষয়টি কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে এ তথ্য জানান তিনি।
নুরুল হক নুর বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ভিসা বাতিল হওয়া ৪ হাজার বাংলাদেশির বিষয়টি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবগত রয়েছে। বিষয়টির দ্রুত সমাধানে কূটনৈতিকভাবে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এদিকে ভিসা বাতিলের কারণে কর্মহীন হয়ে দেশে ফেরা ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীরা তাদের দ্রুত পুনর্বাসনসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছেন।
সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এসব দাবি তুলে ধরেন। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত তাদের এবং পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে মাসে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা করে প্রবাসী সহায়তা ভাতা দিতে হবে। তারা আরও বলেন, কোনো কারণে তাদের পুনরায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাঠানো সম্ভব না হলে সরকারের উদ্যোগে উপযুক্ত অন্য কোনো দেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে।
বিকল্প দেশে পুনর্বাসন কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত মাসিক সহায়তা ভাতা চালু রাখার দাবিও জানিয়েছেন তারা। প্রবাসীদের দাবির মধ্যে রয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা করে ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতার দ্রুত নিষ্পত্তি করা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের আগের কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করা। পাশাপাশি বাংলাদেশ দূতাবাস ও কনস্যুলার সেবার কার্যকারিতা বাড়িয়ে তা আরও সহজ ও নাগালের মধ্যে আনার দাবি জানানো হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে বর্তমানে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের ভিসা নবায়ন, পুনরায় ভিসা পাওয়া এবং অন্যান্য প্রশাসনিক জটিলতার দীর্ঘমেয়াদি সমাধানেরও আহ্বান জানিয়েছেন তারা। বৈধভাবে কর্মরত বাংলাদেশিদের ভিসা সমস্যা দূর করার পাশাপাশি তাদের কর্মসংস্থান ও বৈধ অবস্থান নিশ্চিত করতে দুই দেশের সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ চেয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীরা।
এ ছাড়া দীর্ঘদিন দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখা প্রবাসীদের জন্য নির্দিষ্ট পেনশন বা কল্যাণ ভাতা চালুর দাবি জানানো হয়েছে। তাদের মতে, কর্মজীবন শেষে দেশে ফিরে আসা প্রবাসীদের সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে পরবর্তী কর্মসূচি হিসেবে ‘রেমিট্যান্স শাটডাউন’ ঘোষণা করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীরা।



















