5:13 pm, Tuesday, 28 July 2026

বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ মামলা: ওএসডি অতিরিক্ত ডিআইজি জহিরুলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

  • MIT ERP
  • Update Time : 05:12:31 pm, Tuesday, 28 July 2026
  • 0

বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের মামলায় ওএসডি অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন ঢাকার একটি আদালত।

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। গতকাল সোমবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মুনতাসির আহমেদ বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে এ আদেশ দেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. আজমত হোসাইন জানান, ধর্ষণের অভিযোগে গত ২০ মে ট্রাইব্যুনালে মামলাটি করেন ভুক্তভোগী নারী। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে গত ১৪ জুলাই স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হক তদন্ত শেষে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রতিবেদন জমা দেন। গতকাল সোমবার সেই তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণের দিন ধার্য ছিল। আসামি আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল তাকে পলাতক দেখিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২১ সালের জানুয়ারিতে মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম যখন মাগুরার পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন, তখন বাদীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে ওঠে। জহিরুল তার স্ত্রীকে তালাক দিয়ে বাদীকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

আর্জিতে আরও বলা হয়, ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি মাগুরার সরকারি বাংলোতে বাদীকে নাকফুল পরিয়ে সম্পর্কের আনুষ্ঠানিকতা প্রকাশ করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। একই বছরের ৮ মার্চ বাদী অসুস্থ হয়ে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি হলে জহিরুল নিজেকে তার স্বামী পরিচয় দিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ২০২১ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে মাগুরার সরকারি বাংলো, অফিসের বিশ্রামাগার এবং ঢাকার বাসায় বাদীর সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন জহিরুল ইসলাম। পরবর্তী সময়ে পুলিশ সদর দপ্তরে বদলি হওয়ার পরও বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তিনি সম্পর্ক বজায় রাখেন। তবে ২০২৫ সালের ১৩ জুলাই বাদী বিয়ের জন্য চাপ দিলে জহিরুল অস্বীকৃতি জানান এবং আইনি পদক্ষেপ নিলে ক্ষতি করার হুমকি দেন।

এই ঘটনার পর ১৫ জুলাই ভাটারা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পাশাপাশি পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছে লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী নারী। পরবর্তীতে আত্মীয়-স্বজনের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা ব্যর্থ হলে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত জহিরুল ইসলামের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ মামলা: ওএসডি অতিরিক্ত ডিআইজি জহিরুলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

Update Time : 05:12:31 pm, Tuesday, 28 July 2026

বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। গতকাল সোমবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মুনতাসির আহমেদ বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে এ আদেশ দেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. আজমত হোসাইন জানান, ধর্ষণের অভিযোগে গত ২০ মে ট্রাইব্যুনালে মামলাটি করেন ভুক্তভোগী নারী। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে গত ১৪ জুলাই স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হক তদন্ত শেষে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রতিবেদন জমা দেন। গতকাল সোমবার সেই তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণের দিন ধার্য ছিল। আসামি আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল তাকে পলাতক দেখিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২১ সালের জানুয়ারিতে মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম যখন মাগুরার পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন, তখন বাদীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে ওঠে। জহিরুল তার স্ত্রীকে তালাক দিয়ে বাদীকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

আর্জিতে আরও বলা হয়, ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি মাগুরার সরকারি বাংলোতে বাদীকে নাকফুল পরিয়ে সম্পর্কের আনুষ্ঠানিকতা প্রকাশ করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। একই বছরের ৮ মার্চ বাদী অসুস্থ হয়ে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি হলে জহিরুল নিজেকে তার স্বামী পরিচয় দিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ২০২১ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে মাগুরার সরকারি বাংলো, অফিসের বিশ্রামাগার এবং ঢাকার বাসায় বাদীর সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন জহিরুল ইসলাম। পরবর্তী সময়ে পুলিশ সদর দপ্তরে বদলি হওয়ার পরও বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তিনি সম্পর্ক বজায় রাখেন। তবে ২০২৫ সালের ১৩ জুলাই বাদী বিয়ের জন্য চাপ দিলে জহিরুল অস্বীকৃতি জানান এবং আইনি পদক্ষেপ নিলে ক্ষতি করার হুমকি দেন।

এই ঘটনার পর ১৫ জুলাই ভাটারা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পাশাপাশি পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছে লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী নারী। পরবর্তীতে আত্মীয়-স্বজনের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা ব্যর্থ হলে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত জহিরুল ইসলামের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।