ইরানের পাল্টা হামলায় ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়েছে ইসরায়েল। এ ঘটনায় রেকর্ডসংখ্যক ক্ষতিপূরণের দাবি জমা পড়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির ট্যাক্স অথরিটি।
তেহরানে হামলার পর ইরানের পাল্টা আঘাতে ইসরায়েল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আয়াতুল্লাহ খামেনির নেতৃত্বে দেশটি ইসরায়েলকে কোনো ছাড় দেয়নি। এতে চাপে পড়েন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চাইতে বাধ্য হন। ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হলেও এরই মধ্যে বিপুল ক্ষতির সম্মুখীন হয় তেলআবিব।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত থেকে বাঁচতে ইসরায়েলের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া আর কোনো আশ্রয় খুঁজে পাওয়া সম্ভব হয়নি।
বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, ১২ দিনের এই সংঘাত ইসরায়েলের অর্থনীতিকে বড় ধাক্কা দিয়েছে। ট্যাক্স অথরিটির মহাপরিচালক শাই আহারোনোভিচ জানান, ক্ষতির পরিমাণ ‘কল্পনাতীত’। শুধু সরাসরি ক্ষতি প্রায় ৪ বিলিয়ন নিউ ইসরায়েলি শেকেল (১.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার)। ব্যবসা-বাণিজ্যের স্থবিরতা এবং অন্যান্য পরোক্ষ ক্ষতি মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ কয়েক বিলিয়ন শেকেল ছাড়িয়েছে।
‘অপারেশন ট্রু প্রমিস থ্রি’-এর আওতায় ইরান শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী কিছু প্রতিহত করতে পারলেও বহু ভবন ও সামরিক স্থাপনা ধ্বংস হয়। এমনকি ইরান ইসরায়েলের দুটি অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে বলেও দাবি করা হচ্ছে।
যুদ্ধ শেষে ট্যাক্স অথরিটির কাছে রেকর্ড ৫৩,৫৯৯টি ক্ষতিপূরণের আবেদন জমা পড়ে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ওয়াইজম্যান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স, যা মোসাদের সঙ্গে কাজ করে। এছাড়া বহু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দীর্ঘ সময় অচল হয়ে পড়ে।
অন্যদিকে, ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী গোপন অভিযানে মোসাদের দুই সদস্যকে আটক করে এবং তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক ও ড্রোন জব্দ করে। এতে ইসরায়েলের সামরিক দুর্বলতাও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।