10:16 pm, Saturday, 5 April 2025

থানা চত্বরে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে যুবদল নেতা নিহত

  • Akram
  • Update Time : 10:21:45 am, Saturday, 28 December 2024
  • 54

থানা চত্বরে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে যুবদল নেতা নিহত

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

কুড়িগ্রামের উলিপুর থানা চত্বরে বিএনপির দুগ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উলিপুর পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফুল ইসলাম (৩৮) নিহত এবং বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যার পর থানা চত্বরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

নিহত আশরাফুল ইসলাম উপজেলার পৌর এলাকার ৬ নং ওয়ার্ডের দয়ালপাড়া গ্রামের আয়নাল হকের ছেলে। তিনি জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সদ্য ঘোষিত আহ্বায়ক কমিটির সদস্য তাসভীরুল ইসলামের সমর্থক বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি তাসভীরুল ইসলাম এবং রংপুর বিভাগীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল খালেকের সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। উভয় পক্ষের কয়েকজন নেতাকর্মীদের মধ্যে বিবাদমান একটি অরাজনৈতিক বিষয় নিয়ে মীমাংসার চেষ্টা চলছিল। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হলে উপস্থিত যুবদল নেতা আশরাফুল সংঘর্ষ থামানোর চেষ্টা করেন। এ সময় তিনি গুরুতর আহত হন। পরে দ্রুত উলিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তবে সংঘর্ষের আগে থানায় দুপক্ষ বৈঠকে বসলেও কী বিষয় নিয়ে কথা হয়েছিল তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ নিয়ে থানা পুলিশও তাৎক্ষণিক কোনো তথ্য দেয়নি।

এদিকে আশরাফুলের নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও তা সংঘর্ষের ঘটনায় হয়নি বলে দাবি করেছে পুলিশ। তারা বলছে, আশরাফুল সম্ভবত স্ট্রোক করেছিলেন। থানার গেটের কাছে দাঁড়িয়ে দুপক্ষের মারামারি দেখার সময় তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বৈঠকে উপস্থিত এক পুলিশ সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আলোচনার এক পর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে আশরাফুল মাটিতে পড়ে যান। আমাদের লোকজন তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

সিভিল সার্জন ডা. মঞ্জুর এ মুর্শেদ বলেন, সংঘর্ষের ঘটনার পর একজনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। বেশ কয়েকজন আহত রয়েছেন। নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকা প্রশ্নে তাৎক্ষণিক কোনো তথ্য জানাতে পারেননি তিনি।

উলিপুর থানার ওসি জিল্লুর রহমান বলেন, আমি ছুটিতে আছি। থানার ভেতরে নয়, শুনেছি থানা চত্বরের কাছে বিএনপির দুগ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। একজন নিহত হয়েছেন। আমি থানার উদ্দেশে রওয়ানা হয়েছি।

উল্লেখ্য, গত ২৩ ডিসেম্বর কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। কমিটিতে আব্দুল আব্দুল খালেক সমর্থিত মো. মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফাকে আহ্বায়ক এবং তাসভীরুল ইসলামকে ১নং সদস্য করা হয়।

Write Your Comment

About Author Information

Akram

Popular Post

কনক্রিট হল ব্লক- বাড়ির শক্ত ভিতের জন্য সেরা পছন্দ

থানা চত্বরে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে যুবদল নেতা নিহত

Update Time : 10:21:45 am, Saturday, 28 December 2024

কুড়িগ্রামের উলিপুর থানা চত্বরে বিএনপির দুগ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উলিপুর পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফুল ইসলাম (৩৮) নিহত এবং বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যার পর থানা চত্বরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

নিহত আশরাফুল ইসলাম উপজেলার পৌর এলাকার ৬ নং ওয়ার্ডের দয়ালপাড়া গ্রামের আয়নাল হকের ছেলে। তিনি জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সদ্য ঘোষিত আহ্বায়ক কমিটির সদস্য তাসভীরুল ইসলামের সমর্থক বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি তাসভীরুল ইসলাম এবং রংপুর বিভাগীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল খালেকের সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। উভয় পক্ষের কয়েকজন নেতাকর্মীদের মধ্যে বিবাদমান একটি অরাজনৈতিক বিষয় নিয়ে মীমাংসার চেষ্টা চলছিল। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হলে উপস্থিত যুবদল নেতা আশরাফুল সংঘর্ষ থামানোর চেষ্টা করেন। এ সময় তিনি গুরুতর আহত হন। পরে দ্রুত উলিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তবে সংঘর্ষের আগে থানায় দুপক্ষ বৈঠকে বসলেও কী বিষয় নিয়ে কথা হয়েছিল তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ নিয়ে থানা পুলিশও তাৎক্ষণিক কোনো তথ্য দেয়নি।

এদিকে আশরাফুলের নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও তা সংঘর্ষের ঘটনায় হয়নি বলে দাবি করেছে পুলিশ। তারা বলছে, আশরাফুল সম্ভবত স্ট্রোক করেছিলেন। থানার গেটের কাছে দাঁড়িয়ে দুপক্ষের মারামারি দেখার সময় তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বৈঠকে উপস্থিত এক পুলিশ সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আলোচনার এক পর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে আশরাফুল মাটিতে পড়ে যান। আমাদের লোকজন তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

সিভিল সার্জন ডা. মঞ্জুর এ মুর্শেদ বলেন, সংঘর্ষের ঘটনার পর একজনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। বেশ কয়েকজন আহত রয়েছেন। নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকা প্রশ্নে তাৎক্ষণিক কোনো তথ্য জানাতে পারেননি তিনি।

উলিপুর থানার ওসি জিল্লুর রহমান বলেন, আমি ছুটিতে আছি। থানার ভেতরে নয়, শুনেছি থানা চত্বরের কাছে বিএনপির দুগ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। একজন নিহত হয়েছেন। আমি থানার উদ্দেশে রওয়ানা হয়েছি।

উল্লেখ্য, গত ২৩ ডিসেম্বর কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। কমিটিতে আব্দুল আব্দুল খালেক সমর্থিত মো. মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফাকে আহ্বায়ক এবং তাসভীরুল ইসলামকে ১নং সদস্য করা হয়।