আমেরিকা-ইসলায়েলের চির শত্রু, চোখের কাঁটা ইরান। ১৯৭৯ সালে পশ্চিমা-পন্থী শাহ সরকারের পতন ও ধর্মীয় সরকারের উত্থানের মধ্য দিয়েই সম্পর্কের অবনতির সূচনা।
এরপরই শুরু হয় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি যা সমগ্র পশ্চিমা বিশ্বকে কঠিনভাবে নাড়া দেয়।
ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে এমন সন্দেহে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এতে ইরান ও আমেরিকা-ইসলায়েলের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়ন আরো বাড়তে থাকে।
ইতি মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব বিস্তার এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দেওয়া নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ হয়। যার ফলশ্রুতিতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে মদদ দেওয়ার অভিযোগ করে। ২০১৯ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসনের ‘সর্বোচ্চ চাপ’ নীতির কারণে উত্তেজনা আরো বাড়ে।
২০২০ সালের ৩ জানুয়ারি ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের অভিজাত কুদস ফোর্সের কমান্ডার মেজর জেনারেল কাসেম সোলাইমানির গাড়িবহরে হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করে মার্কিন বাহিনী। এ হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে আমেরিকার সাথে ইরানের সম্পর্ক একেবারে খাদের তলানীতে পৌঁছায়। শুরু হয় শত্রু-শত্রু খেলা।
কখনো শান্ত আবার কখনো অশান্ত এমন চিত্রই দেখা যাচ্ছিল চিরশত্রু এই দেশের মধ্যে। এর কিছু দিন বাদেই ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর, আমেরিকার সরাসরি সমর্থনে গাজা আক্রমণ করে। ইরান, আমেরিকা-ইসরায়েলকে সতর্ক করলেও আক্রমণ অভ্যাহত রাখে ইসরায়েল। এতে ক্ষিপ্ত হয় ইরান।
২০২৪ এবং ২০২৫ সাল জুড়ে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ এই সম্পর্ককে আরও তিক্ত করে। লোহিত সাগরে হুতি বিদ্রোহীদের আক্রমণ এবং এর জবাবে মার্কিন পদক্ষেপ এই উত্তেজনাকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। কাশেম সোলাইমানির হত্যা, রাষ্ট্রপতি ইব্রাহিম রাইসির হত্যাকাণ্ড প্রবলভাবে প্রতিশোধের আগুনকে তীব্রভাবে জালিয়ে দেয়।
সর্বশেষ ২০২৫ সালে ইরান, ইসরায়েলের অহংকারকে ধুলুর সাথে মিশিয়ে দেয়। তাদের সমস্ত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়ে তাদের শক্তি-সামর্থকে বিশ্বের কাছে নতুনভাবে তুলে ধরেন। আমেরিকার মধ্যস্ততায় থামে এই ক্ষেপনাস্ত্র যুদ্ধ। ইরানের কাছে পরাস্ত হয় পশ্চিমা বিশ্ব।
কিন্তু এর অপমান ভুলে যায়নি আমেরিকা-ইসরায়েল। ইরানকে ঙেঙে চুরে তথনছ করে দিতে আঁকে নানান ষড়যন্ত্রের ছক। পশ্চিমাপন্থী, ইরানের জাতীয় বেঈমান শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভিকে দিয়ে আবার ইরানকে অস্থির করে তুলছে।
সরকার বিরোধী আন্দোলন এখন ইরানের সর্বত্রই ছড়িয়ে পড়ছে। মসজিদে আগুন, জাতীয় পতাকা ছিড়ে ফেলার মতো জঘন্য অপরাধগুলো করছে বিক্ষোভকারীরা। ধারনা করা যাচ্ছে খামেনির পরাজয়ের মধ্য দিয়েই ইরানের ধ্বংসে অশুভ সূচনা হতে চলছে। ইরানীরা হয়ত এখন বুঝতে পারছে না, পরে ঠিকই হাড়ে হাড়ে টের পাবেন যুক্তরাষ্ট্রের ষড়যন্ত্রের পা দেওয়া ভয়াবহতা কতটা ভুল সিন্ধান্ত ছিলো।
মনজুরুল ইসলাম জয়, বাংলাদেশ ডিপ্লোম্যাট









