আজ মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
২১ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ২৩ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
৩০°C
সর্বোচ্চ: ৩৪°C
সর্বনিম্ন: ২৬°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৭৫%

বিইউবিটিতে অনুষ্ঠিত হলো ‘ন্যাশনাল ফিউচার অ্যাস্ট্রোনটস মিট-আপ ২০২৬’

  • MIT ERP
  • Update Time : 05:16:59 pm, Sunday, 4 October 2026
  • 20

বিইউবিটিতে অনুষ্ঠিত হলো ‘ন্যাশনাল ফিউচার অ্যাস্ট্রোনটস মিট-আপ ২০২৬’

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

শিশু-কিশোরদের মাঝে মহাকাশ বিজ্ঞান, সৃজনশীলতা এবং ভবিষ্যতের মহাকাশ অভিযানের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টির লক্ষ্যে ঢাকার বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজিতে (বিইউবিটি) ‘ন্যাশনাল ফিউচার অ্যাস্ট্রোনটস মিট-আপ ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

স্পেস ইনোভেশন ক্যাম্প ও বিইউবিটির যৌথ আয়োজনে দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন স্কুলের ৪ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোররা অংশ নেয়। আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল স্পেস স্টোরিটেলিং প্রতিযোগিতা। প্রথম ধাপে অংশগ্রহণকারীরা মহাকাশ নিয়ে নিজেদের স্বপ্ন, ভাবনা, কল্পনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তিন মিনিটের উপস্থাপনা করে। সেখান থেকে নির্বাচিত প্রতিযোগীরা দ্বিতীয় ধাপে পাঁচ মিনিটের চূড়ান্ত উপস্থাপনায় অংশ নেয়।

প্রতিযোগীদের বয়সের ভিত্তিতে ৬ থেকে ৮, ৯ থেকে ১১ এবং ১২ থেকে ১৪ বছর—এই তিনটি বিভাগে ভাগ করা হয়। দুই ধাপের প্রতিযোগিতা শেষে তিন বিভাগ থেকে মোট ১৫ জনকে বিজয়ী হিসেবে পুরস্কৃত করা হয়। শুধু প্রতিযোগিতায় সীমাবদ্ধ ছিল না আয়োজনটি। দিনজুড়ে শিশুদের জন্য ছিল মহাকাশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন হাতে-কলমে কার্যক্রম। এর মধ্যে ছিল স্পেস রোবটিক্স, রোবটিক্স কর্মশালা, রকেটারি কর্মশালা, স্পেস আর্ট এবং বিভিন্ন ইন্টার‌্যাকটিভ স্পেস সায়েন্স কার্যক্রম।

বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে শিশুদের মহাকাশের বিভিন্ন অভিজ্ঞতার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, শিল্প, কল্পনা ও আনন্দের সমন্বয়ে পুরো আয়োজনটি শিশুদের জন্য হয়ে ওঠে ভিন্নধর্মী এক মহাকাশ অভিজ্ঞতা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিইউবিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. এ বি এম শওকত আলী। বক্তব্যে তিনি শিশুদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতি কৌতূহলী হওয়ার পাশাপাশি বড় স্বপ্ন দেখার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, আজকের শিশুরাই আগামী দিনের বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, উদ্ভাবক ও মহাকাশ গবেষক। নতুন প্রজন্মকে শুধু প্রযুক্তির ব্যবহারকারী হিসেবে নয়, নতুন প্রযুক্তি ও জ্ঞানের উদ্ভাবক হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। জ্ঞান অর্জন, পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং নতুন কিছু জানার আগ্রহ তাদের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিইউবিটির ফ্যাকাল্টি অব কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ডিন ড. মুহাম্মদ আমিনুর রহমান।

বিচারকদের পক্ষে বক্তব্য দেন ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড সায়েন্সেসের (ইউআইটিএস) অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর আল ইমতিয়াজ। তিনি শিশুদের উপস্থাপনা, মহাকাশ নিয়ে তাদের চিন্তাভাবনা ও সৃজনশীলতার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতেও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতি তাদের কৌতূহল ধরে রাখার আহ্বান জানান। সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন স্পেস ইনোভেশন ক্যাম্পের প্রেসিডেন্ট আরিফুল হাসান অপু।

পরে প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি ও বিচারকদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়। তিনটি বয়সভিত্তিক বিভাগের ১৫ জন বিজয়ীর হাতে তুলে দেওয়া হয় মেডেল। আরিফুল হাসান অপু বলেন, “আমরা চাই শিশুদের কাছে মহাকাশ শুধু বইয়ের একটি অধ্যায় হয়ে না থাকুক। তারা মহাকাশ নিয়ে প্রশ্ন করুক, নিজের মতো করে ভাবুক, গল্প বলুক, রোবট তৈরি করুক, রকেট নিয়ে জানুক এবং ভবিষ্যতের পৃথিবী ও মহাকাশকে কল্পনা করুক।

আজকের এই শিশুদের মধ্য থেকেই হয়তো একদিন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, গবেষক কিংবা মহাকাশচারী তৈরি হবে। ” আয়োজকদের মতে, ‘ন্যাশনাল ফিউচার অ্যাস্ট্রোনটস মিট-আপ’ শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়; শিশুদের আনন্দের সঙ্গে মহাকাশ বিজ্ঞান শেখা, নিজেদের চিন্তা প্রকাশ এবং হাতে-কলমে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার একটি প্ল্যাটফর্ম।

আয়োজনটিতে প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহযোগী হিসেবে ছিল রাইজ আপ ল্যাবস এবং পেমেন্ট সহযোগী হিসেবে ছিল সূর্যপে। পাশাপাশি সহযোগী হিসেবে ছিল বিইউবিটির বেসিস স্টুডেন্টস ফোরাম বিইউবিটি শাখা। আয়োজকদের সার্বিক সহযোগিতা ও অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে সফলভাবে শেষ হয় দিনব্যাপী এই আয়োজন। পুরস্কার বিতরণ, সম্মাননা প্রদান ও দলীয় ছবি তোলার মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটে ‘ন্যাশনাল ফিউচার অ্যাস্ট্রোনটস মিট-আপ ২০২৬’-এর।

মহাকাশের গল্প, রোবট, রকেট, শিল্প ও নতুন কিছু জানার আনন্দে শিশু-কিশোরদের জন্য দিনটি হয়ে ওঠে স্মরণীয় এক মহাকাশযাত্রা।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

অবসরের পর কী করবেন লিওনেল মেসি

বিইউবিটিতে অনুষ্ঠিত হলো ‘ন্যাশনাল ফিউচার অ্যাস্ট্রোনটস মিট-আপ ২০২৬’

Update Time : 05:16:59 pm, Sunday, 4 October 2026

শিশু-কিশোরদের মাঝে মহাকাশ বিজ্ঞান, সৃজনশীলতা এবং ভবিষ্যতের মহাকাশ অভিযানের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টির লক্ষ্যে ঢাকার বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজিতে (বিইউবিটি) ‘ন্যাশনাল ফিউচার অ্যাস্ট্রোনটস মিট-আপ ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

স্পেস ইনোভেশন ক্যাম্প ও বিইউবিটির যৌথ আয়োজনে দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন স্কুলের ৪ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোররা অংশ নেয়। আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল স্পেস স্টোরিটেলিং প্রতিযোগিতা। প্রথম ধাপে অংশগ্রহণকারীরা মহাকাশ নিয়ে নিজেদের স্বপ্ন, ভাবনা, কল্পনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তিন মিনিটের উপস্থাপনা করে। সেখান থেকে নির্বাচিত প্রতিযোগীরা দ্বিতীয় ধাপে পাঁচ মিনিটের চূড়ান্ত উপস্থাপনায় অংশ নেয়।

প্রতিযোগীদের বয়সের ভিত্তিতে ৬ থেকে ৮, ৯ থেকে ১১ এবং ১২ থেকে ১৪ বছর—এই তিনটি বিভাগে ভাগ করা হয়। দুই ধাপের প্রতিযোগিতা শেষে তিন বিভাগ থেকে মোট ১৫ জনকে বিজয়ী হিসেবে পুরস্কৃত করা হয়। শুধু প্রতিযোগিতায় সীমাবদ্ধ ছিল না আয়োজনটি। দিনজুড়ে শিশুদের জন্য ছিল মহাকাশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন হাতে-কলমে কার্যক্রম। এর মধ্যে ছিল স্পেস রোবটিক্স, রোবটিক্স কর্মশালা, রকেটারি কর্মশালা, স্পেস আর্ট এবং বিভিন্ন ইন্টার‌্যাকটিভ স্পেস সায়েন্স কার্যক্রম।

বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে শিশুদের মহাকাশের বিভিন্ন অভিজ্ঞতার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, শিল্প, কল্পনা ও আনন্দের সমন্বয়ে পুরো আয়োজনটি শিশুদের জন্য হয়ে ওঠে ভিন্নধর্মী এক মহাকাশ অভিজ্ঞতা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিইউবিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. এ বি এম শওকত আলী। বক্তব্যে তিনি শিশুদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতি কৌতূহলী হওয়ার পাশাপাশি বড় স্বপ্ন দেখার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, আজকের শিশুরাই আগামী দিনের বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, উদ্ভাবক ও মহাকাশ গবেষক। নতুন প্রজন্মকে শুধু প্রযুক্তির ব্যবহারকারী হিসেবে নয়, নতুন প্রযুক্তি ও জ্ঞানের উদ্ভাবক হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। জ্ঞান অর্জন, পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং নতুন কিছু জানার আগ্রহ তাদের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিইউবিটির ফ্যাকাল্টি অব কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ডিন ড. মুহাম্মদ আমিনুর রহমান।

বিচারকদের পক্ষে বক্তব্য দেন ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড সায়েন্সেসের (ইউআইটিএস) অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর আল ইমতিয়াজ। তিনি শিশুদের উপস্থাপনা, মহাকাশ নিয়ে তাদের চিন্তাভাবনা ও সৃজনশীলতার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতেও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতি তাদের কৌতূহল ধরে রাখার আহ্বান জানান। সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন স্পেস ইনোভেশন ক্যাম্পের প্রেসিডেন্ট আরিফুল হাসান অপু।

পরে প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি ও বিচারকদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়। তিনটি বয়সভিত্তিক বিভাগের ১৫ জন বিজয়ীর হাতে তুলে দেওয়া হয় মেডেল। আরিফুল হাসান অপু বলেন, “আমরা চাই শিশুদের কাছে মহাকাশ শুধু বইয়ের একটি অধ্যায় হয়ে না থাকুক। তারা মহাকাশ নিয়ে প্রশ্ন করুক, নিজের মতো করে ভাবুক, গল্প বলুক, রোবট তৈরি করুক, রকেট নিয়ে জানুক এবং ভবিষ্যতের পৃথিবী ও মহাকাশকে কল্পনা করুক।

আজকের এই শিশুদের মধ্য থেকেই হয়তো একদিন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, গবেষক কিংবা মহাকাশচারী তৈরি হবে। ” আয়োজকদের মতে, ‘ন্যাশনাল ফিউচার অ্যাস্ট্রোনটস মিট-আপ’ শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়; শিশুদের আনন্দের সঙ্গে মহাকাশ বিজ্ঞান শেখা, নিজেদের চিন্তা প্রকাশ এবং হাতে-কলমে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার একটি প্ল্যাটফর্ম।

আয়োজনটিতে প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহযোগী হিসেবে ছিল রাইজ আপ ল্যাবস এবং পেমেন্ট সহযোগী হিসেবে ছিল সূর্যপে। পাশাপাশি সহযোগী হিসেবে ছিল বিইউবিটির বেসিস স্টুডেন্টস ফোরাম বিইউবিটি শাখা। আয়োজকদের সার্বিক সহযোগিতা ও অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে সফলভাবে শেষ হয় দিনব্যাপী এই আয়োজন। পুরস্কার বিতরণ, সম্মাননা প্রদান ও দলীয় ছবি তোলার মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটে ‘ন্যাশনাল ফিউচার অ্যাস্ট্রোনটস মিট-আপ ২০২৬’-এর।

মহাকাশের গল্প, রোবট, রকেট, শিল্প ও নতুন কিছু জানার আনন্দে শিশু-কিশোরদের জন্য দিনটি হয়ে ওঠে স্মরণীয় এক মহাকাশযাত্রা।