আজ বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
২৯ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ০২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
৩৪°C
সর্বোচ্চ: ৩৬°C
সর্বনিম্ন: ২৭°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ২১%

ঘোড়াশাল পৌরসভায় অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ও খানাখন্দ: জলাবদ্ধতায় বাড়ছে ডেঙ্গু ঝুঁকি

  • MIT ERP
  • Update Time : 10:40:21 am, Sunday, 4 October 2026
  • 31

ঘোড়াশাল পৌরসভায় অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ও খানাখন্দ: জলাবদ্ধতায় বাড়ছে ডেঙ্গু ঝুঁকি

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

নরসিংদীর শিল্পাঞ্চলখ্যাত ঘোড়াশাল পৌরসভায় অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খানাখন্দে ভরা সড়কের বেহাল দশা ও নিয়মিত তদারকির অভাবে তীব্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ড্রেন পরিষ্কার না করা এবং বর্জ্যের স্তূপে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দিনের পর দিন পানি জমে থাকছে।

ফলে চরম দুর্ভোগের পাশাপাশি ডেঙ্গুসহ পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিতে পড়ছেন ঘোড়াশাল পৌরবাসী। পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, বিদ্যমান ড্রেনগুলোর অধিকাংশই দীর্ঘদিন ধরে অপরিষ্কার। পলিথিন, গৃহস্থালির বর্জ্য ও ময়লা-আবর্জনায় সেগুলো ভরাট হয়ে গেছে। কোথাও পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক বা কৃত্রিম পথ না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেও পানিবন্দী হয়ে পড়ছে পৌরবাসী।

দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতায় প্রধান সড়কগুলোতে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় খানাখন্দ, যা যান চলাচল ও পথচারীদের যাতায়াতকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। বিশেষ করে পৌর শহরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পোস্ট অফিস রোড থেকে চামরাবো পর্যন্ত সড়কটি বর্তমানে চরম ঝুঁকিপূর্ণ ও চলাচলের একেবারেই অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিনের অবহেলায় রাস্তাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে বিশালাকার সব খানাখন্দ ও মারাত্মক গর্ত।

ফলে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ ও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে হাজার হাজার সাধারণ মানুষসহ স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের। ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভাঙ্গালপাড়া, পলাশ চরপাড়া, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের টেকপাড়া, খালিশার টেক, মিয়াপাড়া ও দক্ষিণ চরপাড়া এলাকায় পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। দীর্ঘদিন জমে থাকা পানি এখন মশাবাহিত রোগের প্রধান কারখানায় পরিণত হয়েছে, যার ফলে পৌর এলাকার প্রতিটি মহল্লায় ডেঙ্গুর ভয়াবহতা এখন নিয়ন্ত্রণহীন রূপ নিয়েছে।

মশার এই অপ্রতিরোধ্য উপদ্রব পুরো এলাকার জনস্বাস্থ্যকে তীব্র সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। উত্তর চরপাড়া মহল্লার বাসিন্দা হুমায়ন কবির বলেন,আমাদের এলাকার গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা-ঘাটগুলোর খুবই খারাপ অবস্থা আর দীর্ঘদিন ধরে ড্রেনেজ ব্যবস্থার দাবি জানিয়ে আসলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। মাঝে মধ্যে নামমাত্র সংস্কার করা হলেও তা কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।

অন্যদিকে মিয়াপাড়ার বাসিন্দা আসাদুল হক দ্রুত পরিকল্পিত রাস্তা-ঘাট, ড্রেন নির্মাণ, দখল হয়ে যাওয়া খাল উদ্ধার এবং নিয়মিত বর্জ্য অপসারণের জোর দাবি জানান। ঘোড়াশাল পৌরসভার প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী মোঃ আবু ওবায়েদ বলেন, মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী একটি পরিকল্পিত ও টেকসই রাস্তা-ঘাট এবং ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক তৈরির কাজ প্রক্রিয়াধীন। ঘোড়াশাল পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক ও পলাশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, পুরো পৌরসভাকে ঘিরে একটি সুনির্দিষ্ট মাস্টারপ্ল্যান ও ডিপিপি প্রস্তুত করা হচ্ছে।

প্রায় ৫০ কোটি টাকার একটি উন্নয়ন প্রস্তাবনা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো প্রক্রিয়াধীন। প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে পৌরসভার রাস্তা, সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার মতো মূল সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধান করা সম্ভব হবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

অপারেশন ক্লিন হার্টের কোনো পরিকল্পনা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ঘোড়াশাল পৌরসভায় অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ও খানাখন্দ: জলাবদ্ধতায় বাড়ছে ডেঙ্গু ঝুঁকি

Update Time : 10:40:21 am, Sunday, 4 October 2026

নরসিংদীর শিল্পাঞ্চলখ্যাত ঘোড়াশাল পৌরসভায় অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খানাখন্দে ভরা সড়কের বেহাল দশা ও নিয়মিত তদারকির অভাবে তীব্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ড্রেন পরিষ্কার না করা এবং বর্জ্যের স্তূপে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দিনের পর দিন পানি জমে থাকছে।

ফলে চরম দুর্ভোগের পাশাপাশি ডেঙ্গুসহ পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিতে পড়ছেন ঘোড়াশাল পৌরবাসী। পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, বিদ্যমান ড্রেনগুলোর অধিকাংশই দীর্ঘদিন ধরে অপরিষ্কার। পলিথিন, গৃহস্থালির বর্জ্য ও ময়লা-আবর্জনায় সেগুলো ভরাট হয়ে গেছে। কোথাও পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক বা কৃত্রিম পথ না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেও পানিবন্দী হয়ে পড়ছে পৌরবাসী।

দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতায় প্রধান সড়কগুলোতে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় খানাখন্দ, যা যান চলাচল ও পথচারীদের যাতায়াতকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। বিশেষ করে পৌর শহরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পোস্ট অফিস রোড থেকে চামরাবো পর্যন্ত সড়কটি বর্তমানে চরম ঝুঁকিপূর্ণ ও চলাচলের একেবারেই অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিনের অবহেলায় রাস্তাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে বিশালাকার সব খানাখন্দ ও মারাত্মক গর্ত।

ফলে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ ও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে হাজার হাজার সাধারণ মানুষসহ স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের। ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভাঙ্গালপাড়া, পলাশ চরপাড়া, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের টেকপাড়া, খালিশার টেক, মিয়াপাড়া ও দক্ষিণ চরপাড়া এলাকায় পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। দীর্ঘদিন জমে থাকা পানি এখন মশাবাহিত রোগের প্রধান কারখানায় পরিণত হয়েছে, যার ফলে পৌর এলাকার প্রতিটি মহল্লায় ডেঙ্গুর ভয়াবহতা এখন নিয়ন্ত্রণহীন রূপ নিয়েছে।

মশার এই অপ্রতিরোধ্য উপদ্রব পুরো এলাকার জনস্বাস্থ্যকে তীব্র সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। উত্তর চরপাড়া মহল্লার বাসিন্দা হুমায়ন কবির বলেন,আমাদের এলাকার গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা-ঘাটগুলোর খুবই খারাপ অবস্থা আর দীর্ঘদিন ধরে ড্রেনেজ ব্যবস্থার দাবি জানিয়ে আসলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। মাঝে মধ্যে নামমাত্র সংস্কার করা হলেও তা কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।

অন্যদিকে মিয়াপাড়ার বাসিন্দা আসাদুল হক দ্রুত পরিকল্পিত রাস্তা-ঘাট, ড্রেন নির্মাণ, দখল হয়ে যাওয়া খাল উদ্ধার এবং নিয়মিত বর্জ্য অপসারণের জোর দাবি জানান। ঘোড়াশাল পৌরসভার প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী মোঃ আবু ওবায়েদ বলেন, মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী একটি পরিকল্পিত ও টেকসই রাস্তা-ঘাট এবং ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক তৈরির কাজ প্রক্রিয়াধীন। ঘোড়াশাল পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক ও পলাশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, পুরো পৌরসভাকে ঘিরে একটি সুনির্দিষ্ট মাস্টারপ্ল্যান ও ডিপিপি প্রস্তুত করা হচ্ছে।

প্রায় ৫০ কোটি টাকার একটি উন্নয়ন প্রস্তাবনা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো প্রক্রিয়াধীন। প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে পৌরসভার রাস্তা, সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার মতো মূল সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধান করা সম্ভব হবে।