এশিয়ান গেমসের পুরুষ ক্রিকেটের ফাইনালে পাকিস্তানকে ১৯ রানে হারিয়ে স্বর্ণপদক জিতেছে ভারত। রানার্সআপ হয়ে রৌপ্যপদক পেয়েছে পাকিস্তান। এদিকে শ্রীলঙ্কার কাছে যাচ্ছেতাই ব্যাটিংয়ে ১০২ রানেই গুটিয়ে গেছে বাংলাদেশ।
ফলে এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে ব্রোঞ্জও খুইয়েছে বাংলাদেশ। এবারই প্রথম বাংলাদেশ পুরুষ দল ক্রিকেটে কোনো পদক ছাড়াই দেশে ফিরছে। গতকাল শনিবার নিসিনের কোরোগি স্পোর্টস পার্কে টস জিতে আগে ব্যাট করে ভারত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ২১১ রান সংগ্রহ করে। জবাবে পাকিস্তান ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৯২ রান তুলতে সক্ষম হয়। ভারতের ইনিংসে সবচেয়ে বড় অবদান রাখেন অভিষেক শর্মা ও তিলক ভার্মা।
অভিষেক মাত্র ২৮ বলে ৬১ রান করেন। তার ইনিংসে ছিল ৩টি চার ও ৭টি ছক্কা। স্ট্রাইক রেট ছিল ২১৭.৮৫। শেষ দিকে তিলক ভার্মার বিধ্বংসী ব্যাটিং ভারতকে ২০০ রানের গ-ি পার করে দেয়। তিনি মাত্র ২২ বলে অপরাজিত ৫১ রান করেন, শিবম দুবে ১৫ বলে ২৭ এবং শ্রেয়াস আইয়ার ২৪ বলে ২১ রান করেন। পাকিস্তানের হয়ে আরাফাত মিনহাস ২৫ রানে ২ উইকেট এবং আহমেদ দানিয়াল ৪৩ রানে ২ উইকেট নেন।
আব্রার আহমেদ পান একটি উইকেট। ২১২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি পাকিস্তানের। মাত্র ৩৯ রানেই তারা হারায় ৩ উইকেট। তবে চতুর্থ উইকেটে হাসান নওয়াজ ও সাইম আইয়ুবের জুটি ম্যাচে পাকিস্তানকে ফিরিয়ে আনে। হাসান নওয়াজ মাত্র ৫১ বলে ৯৬ রান করেন। তার ইনিংসে ছিল ৫টি চার ও ৭টি ছক্কা। সাইম আইয়ুব ২২ বলে ২৯ রান করেন। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৯২ রানেই থামে পাকিস্তানের ইনিংস।
ভারতের হয়ে বল হাতে ২টি করে উইকেট নেন অক্ষর প্যাটেল, ওয়াশিংটন সুন্দর ও শিবম দুবে। অক্ষর ৪ ওভারে ২৯ রান এবং ওয়াশিংটন ৪ ওভারে ২৯ রান দেন। শিবম দুবে ৩ ওভারে ৩৩ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট। জাসপ্রিত বুমরাহ ৪ ওভারে ৩৩ রান দিয়ে উইকেটশূন্য থাকলেও পাকিস্তানের রান তাড়ার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে চাপ তৈরি করেন। এদিকে ১৬৬ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে বাংলাদেশের দুই ওপেনার আউট হন শূন্য রানে।
প্রথম দুই ওভারেই বাংলাদেশ ২ উইকেট হারায়। অধিনায়ক লিটন দাস গত ম্যাচে করেছিলেন ২ রান। প্রথম বলেই বোল্ড হয়ে গোল্ডেন ডাক নিয়ে সাজঘরে ফিরেছেন। শ্রীলঙ্কান দলে সিনিয়র কিংবা জাতীয় দলে খেলা অভিজ্ঞ ক্রিকেটার নেই বললেই চলে। তারা প্রথমে ২১ রানে ৪ উইকেট হারালেও ঠিকই ১৬৫ রান বোর্ডে জমা করেছিল। সেখানে বাংলাদেশের অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানরা শুধু আসা-যাওয়ায় ব্যস্ত ছিলেন।
চারজন ব্যাটসম্যান কোনো রানই করতে পারেননি। ৯ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামা নাসুম আহমেদই বাংলাদেশের সংগ্রহ ১০০ পার করেছেন। তার ব্যাটে আসে দলের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ২৬ রান। এ ছাড়া ইয়াসির আলি রাব্বি ২১ এবং পারভেজ হোসেন ইমন ২০ রান করেছেন। ১৭.৩ ওভারেই বাংলাদেশ ১০২ রানে অলআউট হয়ে যায়। লঙ্কানদের পক্ষে ২টি করে উইকেট নিয়েছেন নুয়ান থুসারা, থারিন্দু রতœনায়েকে, বিজয়াকান্ত বিয়াসকান্ত এবং ওয়ানুজা সাহান।
এর আগে নিজেদের সিদ্ধান্তে ব্যাটিং নিলেও শ্রীলঙ্কার শুরুটা ভালো হয়নি। বাংলাদেশ দুই প্রান্তেই স্পিন দিয়ে আক্রমণ শুরু করে। তাদের ঘূর্ণিতে ৪ ওভারের মধ্যে ৪ উইকেট হারায় লঙ্কানরা। রহস্যময় স্পিনার আলিস আল ইসলামকে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলায়নি বাংলাদেশ। গতকাল ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচে প্রথম স্পেলে তিনি ৩ ওভারে মাত্র ৭ রান দিয়ে ১ উইকেট নিয়েছেন।
সাইফ প্রথম স্পেলে ২ ওভারে ১৮ রান দিয়েছেন। বাংলাদেশের সফল বোলার স্পিনার শেখ মেহেদি হাসান। তিনি পূর্ণ ৪ ওভারে মাত্র ১৯ রানে ২ উইকেট নিয়েছেন। শ্রীলঙ্কা ১৩ ওভার পর্যন্ত চাপে ছিল। বল খানিকটা পুরোনো হওয়ায় অভিজ্ঞ বোলার মুস্তাফিজুর রহমানকে ১৪তম ওভারে আনেন অধিনায়ক লিটন দাস। প্রথম ওভারেই তিনি ২৫ রান দিয়েছেন। শুরুর দুই বলেই চার হাঁকিয়েছেন লঙ্কান দুই ব্যাটার।
মুস্তাফিজকে দুই ওভার বিরতির পর প্রান্ত বদলে আবার আনেন অধিনায়ক। নিজের দ্বিতীয় ওভারে মোস্তাফিজ দিয়েছেন ১১ রান। রিশাদও ২১ রান দিয়েছেন তার শেষ ওভারে। ১৩-১৮ ওভারে শ্রীলঙ্কা ৮৩ রান নিয়েছে। শেষ ওভারে সাইফ হাসান ২ উইকেট নিলে ৯ উইকেটে ১৬৫ রানে থামে শ্রীলঙ্কা।






















