আজ শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
৩০ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ০৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
৩২°C
সর্বোচ্চ: ৩৪°C
সর্বনিম্ন: ২৬°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৫৯%

ছেলের আসক্তি ছাড়াতে গিয়ে নিজেই জনপ্রিয় গেমার ৬০ বছরের মা

  • MIT ERP
  • Update Time : 04:08:47 pm, Saturday, 3 October 2026
  • 34

ছেলের আসক্তি ছাড়াতে গিয়ে নিজেই জনপ্রিয় গেমার ৬০ বছরের মা

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

দক্ষিণ চীনের গুয়াংডং প্রদেশের মেইঝৌ শহরের শহরতলির বাসিন্দা ঝোং জুয়ানজুয়ান। ৬০ বছর বয়সী এই নারী এখন ই-স্পোর্টস ও অনলাইন গেমিং জগতে ব্যাপক জনপ্রিয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘আন্টি জুয়ান’ নামে পরিচিতি পেয়েছেন।

হংকংভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঝোং চার বছর আগে ভিডিও গেম খেলা শুরু করেন এবং বর্তমানে প্রতিদিন তার গেম লাইভ-স্ট্রিম দেখতে অনলাইনে হাজার হাজার দর্শকের সমাগম ঘটে। প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করা ঝোং জীবনের বিভিন্ন সময়ে সেলস ও শিশু পরিচর্যাসহ নানা ধরনের পার্ট-টাইম (খণ্ডকালীন) কাজ করেছেন। প্রায় ১০ বছর আগে তিনি কর্মজীবন থেকে অবসর নেন।

একসময় গেমিংয়ের কারণে ঝোংয়ের পারিবারিক জীবনে চরম অশান্তি দেখা দিয়েছিল। প্রায় দুই দশক আগে ঝোংয়ের ছেলে মাধ্যমিক স্কুলে পড়ার সময় ভিডিও গেমসের প্রতি মারাত্মকভাবে আসক্ত হয়ে পড়ে। যার ফলে তার পড়াশোনায় চরম অবনতি ঘটে। সে সময় ঝোং প্রায়ই স্থানীয় ইন্টারনেট ক্যাফেগুলোতে গিয়ে ছেলেকে খুঁজে বের করতেন। অনেক সময় সেখান থেকে ছেলেকে ধরে নিয়ে আসতেন।

তবে ২০২০ সালে ঝোংয়ের জীবনে এক নতুন মোড় আসে। চাকরি ছেড়ে দেওয়ার পর তার ছেলে ‘সোদে’ ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাড়িতে গেম খেলতে শুরু করে। গেমসের প্রতি যুবপ্রজন্মের এই তীব্র আকর্ষণের পেছনের কারণ বুঝতে ঝোং নিজেই ভার্চুয়াল গেমিংয়ের জগতে প্রবেশ করার সিদ্ধান্ত নেন। শুরুতে ঝোংয়ের এই আগ্রহ দেখে তার ছেলে অবাক হলেও অত্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে তাকে গেমিংয়ের প্রাথমিক নিয়মকানুন শেখাতে শুরু করেন।

তবে ৬০ বছর বয়সে এসে ভিডিও গেম শেখা ঝোংয়ের জন্য সহজ ছিল না। দৃষ্টিশক্তি কমে আসা এবং বয়সের কারণে হাত ও চোখের প্রতিক্রিয়ার গতি ধীর হওয়ায় তিনি বেশ সমস্যার মুখে পড়েন। ছেলে সোদে জানান, শুরুতে তার মা গেমের চরিত্রকে সোজা হাঁটিয়ে নিতেও ব্যর্থ হতেন। দেয়ালে ধাক্কা খেয়ে ঘুরে যাওয়া কিংবা ডিজিটাল সিঁড়ি বেয়ে ওপরে ওঠার মতো প্রাথমিক বিষয়গুলোতেও তার বেশ বেগ পেতে হতো।

শারীরিক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও হাল ছাড়েননি ঝোং। নিয়মিত অনুশীলন চালিয়ে যান এবং ২০২২ সাল থেকে তার গেম খেলার দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার (লাইভ-স্ট্রিম) শুরু করেন। অত্যন্ত সাধারণ মানের কম্পিউটার ও গেমিং সরঞ্জাম ব্যবহার করেও তার চমৎকার গেমিং দক্ষতা দেখে তাজ্জব বনে যান দর্শকেরা। এ পর্যন্ত ৮ হাজার ঘণ্টারও বেশি সময় অনলাইন গেমসে কাটিয়েছেন এই প্রবীণ নারী।

তার প্রিয় তালিকার শীর্ষে রয়েছে বিভিন্ন কৌশলগত ‘শুটিং গেম’। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে অনলাইন গেমিং জগতে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতি পান ঝোং। ওই সময় তাকে বিখ্যাত শুটিং গেম ‘কাউন্টার-স্ট্রাইক: গ্লোবাল অফেন্সিভ’ (CS: GO)-এর একটি বিশেষ অনলাইন প্রদর্শনী ম্যাচে খেলার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। প্রতিদিন তার স্ট্রিম দেখতে আসা হাজার হাজার তরুণ দর্শকের কাছে ঝোং এখন কেবল একজন গেমার নন, বরং ধৈর্য ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির এক অনন্য প্রতীক।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

ইয়েমেনে প্রেসিডেন্টের প্রাসাদে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ৫

ছেলের আসক্তি ছাড়াতে গিয়ে নিজেই জনপ্রিয় গেমার ৬০ বছরের মা

Update Time : 04:08:47 pm, Saturday, 3 October 2026

দক্ষিণ চীনের গুয়াংডং প্রদেশের মেইঝৌ শহরের শহরতলির বাসিন্দা ঝোং জুয়ানজুয়ান। ৬০ বছর বয়সী এই নারী এখন ই-স্পোর্টস ও অনলাইন গেমিং জগতে ব্যাপক জনপ্রিয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘আন্টি জুয়ান’ নামে পরিচিতি পেয়েছেন।

হংকংভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঝোং চার বছর আগে ভিডিও গেম খেলা শুরু করেন এবং বর্তমানে প্রতিদিন তার গেম লাইভ-স্ট্রিম দেখতে অনলাইনে হাজার হাজার দর্শকের সমাগম ঘটে। প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করা ঝোং জীবনের বিভিন্ন সময়ে সেলস ও শিশু পরিচর্যাসহ নানা ধরনের পার্ট-টাইম (খণ্ডকালীন) কাজ করেছেন। প্রায় ১০ বছর আগে তিনি কর্মজীবন থেকে অবসর নেন।

একসময় গেমিংয়ের কারণে ঝোংয়ের পারিবারিক জীবনে চরম অশান্তি দেখা দিয়েছিল। প্রায় দুই দশক আগে ঝোংয়ের ছেলে মাধ্যমিক স্কুলে পড়ার সময় ভিডিও গেমসের প্রতি মারাত্মকভাবে আসক্ত হয়ে পড়ে। যার ফলে তার পড়াশোনায় চরম অবনতি ঘটে। সে সময় ঝোং প্রায়ই স্থানীয় ইন্টারনেট ক্যাফেগুলোতে গিয়ে ছেলেকে খুঁজে বের করতেন। অনেক সময় সেখান থেকে ছেলেকে ধরে নিয়ে আসতেন।

তবে ২০২০ সালে ঝোংয়ের জীবনে এক নতুন মোড় আসে। চাকরি ছেড়ে দেওয়ার পর তার ছেলে ‘সোদে’ ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাড়িতে গেম খেলতে শুরু করে। গেমসের প্রতি যুবপ্রজন্মের এই তীব্র আকর্ষণের পেছনের কারণ বুঝতে ঝোং নিজেই ভার্চুয়াল গেমিংয়ের জগতে প্রবেশ করার সিদ্ধান্ত নেন। শুরুতে ঝোংয়ের এই আগ্রহ দেখে তার ছেলে অবাক হলেও অত্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে তাকে গেমিংয়ের প্রাথমিক নিয়মকানুন শেখাতে শুরু করেন।

তবে ৬০ বছর বয়সে এসে ভিডিও গেম শেখা ঝোংয়ের জন্য সহজ ছিল না। দৃষ্টিশক্তি কমে আসা এবং বয়সের কারণে হাত ও চোখের প্রতিক্রিয়ার গতি ধীর হওয়ায় তিনি বেশ সমস্যার মুখে পড়েন। ছেলে সোদে জানান, শুরুতে তার মা গেমের চরিত্রকে সোজা হাঁটিয়ে নিতেও ব্যর্থ হতেন। দেয়ালে ধাক্কা খেয়ে ঘুরে যাওয়া কিংবা ডিজিটাল সিঁড়ি বেয়ে ওপরে ওঠার মতো প্রাথমিক বিষয়গুলোতেও তার বেশ বেগ পেতে হতো।

শারীরিক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও হাল ছাড়েননি ঝোং। নিয়মিত অনুশীলন চালিয়ে যান এবং ২০২২ সাল থেকে তার গেম খেলার দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার (লাইভ-স্ট্রিম) শুরু করেন। অত্যন্ত সাধারণ মানের কম্পিউটার ও গেমিং সরঞ্জাম ব্যবহার করেও তার চমৎকার গেমিং দক্ষতা দেখে তাজ্জব বনে যান দর্শকেরা। এ পর্যন্ত ৮ হাজার ঘণ্টারও বেশি সময় অনলাইন গেমসে কাটিয়েছেন এই প্রবীণ নারী।

তার প্রিয় তালিকার শীর্ষে রয়েছে বিভিন্ন কৌশলগত ‘শুটিং গেম’। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে অনলাইন গেমিং জগতে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতি পান ঝোং। ওই সময় তাকে বিখ্যাত শুটিং গেম ‘কাউন্টার-স্ট্রাইক: গ্লোবাল অফেন্সিভ’ (CS: GO)-এর একটি বিশেষ অনলাইন প্রদর্শনী ম্যাচে খেলার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। প্রতিদিন তার স্ট্রিম দেখতে আসা হাজার হাজার তরুণ দর্শকের কাছে ঝোং এখন কেবল একজন গেমার নন, বরং ধৈর্য ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির এক অনন্য প্রতীক।