বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে কুষ্টিয়ার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। কোথাও প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ হয়েছে, আবার কোথাও চলছে মণ্ডপ সাজসজ্জার কাজ।
এরই মধ্যে জেলার মণ্ডপগুলোতে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। এবার দেবীর আগমন হবে ঘোটকে এবং গমন হবে নৌকায়। ২০২৬ সালের শারদীয় দুর্গোৎসবে কুষ্টিয়া জেলায় মোট ২৫৮টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। জেলা অনুযায়ী, কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় ৭৯টি, ভেড়ামারা উপজেলায় ১১টি, মিরপুর উপজেলায় ৩১টি, কুমারখালী উপজেলায় ৬১টি, খোকসা উপজেলায় ৬১টি এবং দৌলতপুর উপজেলায় ১৫টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।
হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের কুষ্টিয়া কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক হ্যাপি সাহা বলেন, সবার সহযোগিতায় ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের অংশগ্রহণে এবারের দুর্গোৎসব প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে। দুর্গাপূজা সম্প্রীতি ও আনন্দের বার্তা নিয়ে আসবে—এমনটাই প্রত্যাশা করেন তিনি। কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রেখে এবং সরকারি সব নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করে শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গোৎসব উদযাপনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা করেছেন জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন-হাসান। সভায় তিনি স্ব-স্ব পূজামণ্ডপে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ এবং পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। জানা গেছে, ২০২৬ সালের দুর্গাপূজার সূচি অনুযায়ী ১০ অক্টোবর শনিবার মহালয়া। মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবীর আগমনী বার্তা ও তর্পণের মাধ্যমে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।
১৬ অক্টোবর শুক্রবার মহাষষ্ঠী। এদিন বোধন ও অধিবাসের মাধ্যমে দেবীকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। ১৭ ও ১৮ অক্টোবর শনিবার ও রোববার মহাসপ্তমী এবং নবপত্রিকা বা কলাবউ পূজা অনুষ্ঠিত হবে। ১৯ অক্টোবর সোমবার মহাষ্টমী। এদিন কুমারী পূজা, সন্ধিপূজা ও অঞ্জলি অনুষ্ঠিত হবে। ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার মহানবমীতে নবমী যজ্ঞ, হোম-যজ্ঞ, আরতি, ধুনুচি নাচ ও ভোগ নিবেদনের আয়োজন থাকবে।
২১ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমী। এদিন দর্পণ বিসর্জন, সিঁদুর খেলা ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনব্যাপী দুর্গোৎসবের সমাপ্তি হবে। দুর্গাপূজা মূলত দেবী দুর্গার হাতে মহিষাসুর বধ এবং অশুভ শক্তির ওপর শুভ শক্তির বিজয়ের প্রতীক হিসেবে উদযাপিত হয়। পৌরাণিক কাহিনি অনুযায়ী, দেবী দুর্গা মহিষাসুরকে বধ করেছিলেন। এ কারণে তাকে ‘মহিষমর্দিনী’ বলা হয়।
আবার পুরাণে ‘দুর্গম’ নামের এক অসুরকে বধ করার কারণে তার নাম দুর্গা হয়েছে বলেও উল্লেখ রয়েছে। অসুরবধের এই কাহিনি অন্যায়, অশুভ ও অসৎ শক্তির বিরুদ্ধে ন্যায়, শুভ ও সত্যের বিজয়ের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। পৌরাণিক কাহিনি অনুযায়ী, মহিষাসুরের সঙ্গে দেবীর যুদ্ধ চলে নয় দিন ও নয় রাত। দশম দিনে বিজয়া দশমীতে দেবী দুর্গা মহিষাসুরকে বধ করেন।
এদিকে দুর্গাপূজাকে ঘিরে কুষ্টিয়ার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে এখন চলছে সাজসাজ রব। এরই মধ্যে প্রতিমা তৈরি, মণ্ডপ সাজসজ্জা ও পূজার আনুষঙ্গিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। উৎসবকে ঘিরে পূজামণ্ডপগুলোতে ব্যস্ত সময় পার করছেন আয়োজক ও সংশ্লিষ্টরা।






















