আজ শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
৩০ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ০৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
৩৩°C
সর্বোচ্চ: ৩৪°C
সর্বনিম্ন: ২৬°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৫৯%

খাগড়াছড়ির পাহাড়ী শিল্পীদের ভাগ্য পরিবর্তনে নতুন উদ্যোগ

  • MIT ERP
  • Update Time : 08:47:47 pm, Tuesday, 15 September 2026
  • 72

খাগড়াছড়ির পাহাড়ী শিল্পীদের ভাগ্য পরিবর্তনে নতুন উদ্যোগ

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

পাহাড়, ঝর্ণা আর সবুজে ঘেরা খাগড়াছড়ির শিল্পীদের সৃষ্টিশীল কাজকে জনসাধারণের কাছে পৌঁছে দিতে এবং তাদের আয়ের নতুন পথ তৈরি করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে খাগড়াছড়ি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট।

ইনস্টিটিউটে চালু করা হয়েছে স্থায়ী চিত্র প্রদর্শনী ও শিল্পকর্ম বিক্রয় কেন্দ্র। যেখানে স্থানীয় শিল্পীরা নিজেদের আঁকা ছবি প্রদর্শন ও বিক্রি করতে পারছেন। ইনস্টিটিউট সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশিত ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মসূচি ও নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর লক্ষ্য স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিল্পীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং তাদের শিল্পকর্মকে বাণিজ্যিকভাবে বিকাশের সুযোগ করে দেওয়া।

প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে পাহাড়ের অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, বিভিন্ন নৃ-গোষ্ঠীর জীবনধারা, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিনির্ভর চিত্রকর্ম। জেলার নবীন ও অভিজ্ঞ শিল্পীদের আঁকা ছবিতে সাজানো হয়েছে গ্যালারির দেয়াল। প্রদর্শনীর পাশাপাশি সরাসরি ক্রেতা ও সংগ্রাহকদের কাছে শিল্পকর্ম বিক্রির সুযোগ থাকায় শিল্পীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে নতুন আশাবাদ। চিত্রশিল্পী প্রনব তালুকদার বলেন, অনেক তরুণ শিল্পী সুযোগের অভাবে নিরুৎসাহিত হয়ে পড়েন।

১৮০ দিনের এই প্রদর্শনী কর্মসূচি নতুন প্রজন্মকে শিল্পচর্চায় আরও উৎসাহিত করবে এবং তাদের সৃজনশীলতা প্রকাশের সুযোগ বাড়াবে। শিল্পী নান্টু, লিলি চাকমা ও মুকুল ত্রিপুরাসহ দর্শনার্থীরা জানান, প্রদর্শনীতে পাহাড়ি সংস্কৃতির নানা উপাদান জীবন্ত হয়ে উঠেছে। আগে অনেক শিল্পকর্ম ঘরেই পড়ে থাকত, এখন সেগুলো সহজেই বিক্রি হচ্ছে, যা শিল্পীদের জন্য বড় প্রাপ্তি।

খাগড়াছড়ি জেলা তথ্য কর্মকর্তা মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, পাহাড়ের জীবন, জীবিকা ও সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা শিল্পীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে এ ধরনের উদ্যোগ নিয়মিত নেওয়া প্রয়োজন। খাগড়াছড়ি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের পরিচালক ঞ্যো হ্লা মং বলেন, শিল্পীদের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতেই এই প্রদর্শনী ও বিক্রয় কেন্দ্র চালু করা হয়েছে।

যেকোনো শিল্পী অফিস চলাকালীন সময়ে তার সৃষ্টিকর্ম প্রদর্শনী ও বিক্রির জন্য জমা দিতে পারবেন। তিনি জানান, গত ১৫ জুন জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত কেন্দ্রটির উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর থেকে এ পর্যন্ত ১১টি চিত্রকর্ম বিক্রি হয়েছে। স্থানীয় সাংস্কৃতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে পাহাড়ি শিল্পচর্চার পাশাপাশি পর্যটন ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

ইয়েমেনে প্রেসিডেন্টের প্রাসাদে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ৫

খাগড়াছড়ির পাহাড়ী শিল্পীদের ভাগ্য পরিবর্তনে নতুন উদ্যোগ

Update Time : 08:47:47 pm, Tuesday, 15 September 2026

পাহাড়, ঝর্ণা আর সবুজে ঘেরা খাগড়াছড়ির শিল্পীদের সৃষ্টিশীল কাজকে জনসাধারণের কাছে পৌঁছে দিতে এবং তাদের আয়ের নতুন পথ তৈরি করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে খাগড়াছড়ি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট।

ইনস্টিটিউটে চালু করা হয়েছে স্থায়ী চিত্র প্রদর্শনী ও শিল্পকর্ম বিক্রয় কেন্দ্র। যেখানে স্থানীয় শিল্পীরা নিজেদের আঁকা ছবি প্রদর্শন ও বিক্রি করতে পারছেন। ইনস্টিটিউট সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশিত ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মসূচি ও নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর লক্ষ্য স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিল্পীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং তাদের শিল্পকর্মকে বাণিজ্যিকভাবে বিকাশের সুযোগ করে দেওয়া।

প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে পাহাড়ের অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, বিভিন্ন নৃ-গোষ্ঠীর জীবনধারা, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিনির্ভর চিত্রকর্ম। জেলার নবীন ও অভিজ্ঞ শিল্পীদের আঁকা ছবিতে সাজানো হয়েছে গ্যালারির দেয়াল। প্রদর্শনীর পাশাপাশি সরাসরি ক্রেতা ও সংগ্রাহকদের কাছে শিল্পকর্ম বিক্রির সুযোগ থাকায় শিল্পীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে নতুন আশাবাদ। চিত্রশিল্পী প্রনব তালুকদার বলেন, অনেক তরুণ শিল্পী সুযোগের অভাবে নিরুৎসাহিত হয়ে পড়েন।

১৮০ দিনের এই প্রদর্শনী কর্মসূচি নতুন প্রজন্মকে শিল্পচর্চায় আরও উৎসাহিত করবে এবং তাদের সৃজনশীলতা প্রকাশের সুযোগ বাড়াবে। শিল্পী নান্টু, লিলি চাকমা ও মুকুল ত্রিপুরাসহ দর্শনার্থীরা জানান, প্রদর্শনীতে পাহাড়ি সংস্কৃতির নানা উপাদান জীবন্ত হয়ে উঠেছে। আগে অনেক শিল্পকর্ম ঘরেই পড়ে থাকত, এখন সেগুলো সহজেই বিক্রি হচ্ছে, যা শিল্পীদের জন্য বড় প্রাপ্তি।

খাগড়াছড়ি জেলা তথ্য কর্মকর্তা মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, পাহাড়ের জীবন, জীবিকা ও সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা শিল্পীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে এ ধরনের উদ্যোগ নিয়মিত নেওয়া প্রয়োজন। খাগড়াছড়ি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের পরিচালক ঞ্যো হ্লা মং বলেন, শিল্পীদের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতেই এই প্রদর্শনী ও বিক্রয় কেন্দ্র চালু করা হয়েছে।

যেকোনো শিল্পী অফিস চলাকালীন সময়ে তার সৃষ্টিকর্ম প্রদর্শনী ও বিক্রির জন্য জমা দিতে পারবেন। তিনি জানান, গত ১৫ জুন জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত কেন্দ্রটির উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর থেকে এ পর্যন্ত ১১টি চিত্রকর্ম বিক্রি হয়েছে। স্থানীয় সাংস্কৃতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে পাহাড়ি শিল্পচর্চার পাশাপাশি পর্যটন ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।