নীলফামারী সদর উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের সাম্প্রতিক বদলি ও ডেপুটেশন নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ডেপুটেশন বাতিল না করে শিক্ষক বদলি করা এবং শিক্ষক সংকট থাকা স্কুল থেকে কোনো প্রতিস্থাপন ছাড়াই শিক্ষক সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও সচেতন মহল।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে গত ২০ আগস্ট স্মারক নং-উপপ্রাশিপ/সদর/নীল/৮২৪-এর মাধ্যমে সহকারী শিক্ষকদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন বিদ্যালয়ে বদলির আদেশ জারি করা হয়। নথি ও সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই আদেশের ৩ নম্বর ক্রমিকে থাকা সহকারী শিক্ষক জুই রানীকে তার মূল কর্মস্থল দাঁড়িহারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে তরণীবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়।
তবে বদলির আগে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংযুক্তিতে (ডেপুটেশন) কর্মরত ছিলেন। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, ডেপুটেশনে থাকা কোনো শিক্ষককে বদলি করতে হলে আগে তার সংযুক্তি বাতিল করে মূল কর্মস্থলে যোগদান করানোর পর বদলি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু জুই রানীর ক্ষেত্রে সংযুক্তি বাতিল না করেই বদলি আবেদন গ্রহণ ও আদেশ জারি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, সম্প্রতি ১৩ জন শিক্ষকের বদলিতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে বদলি বাণিজ্য হয়েছে। এর প্রতিবাদ করতে গেলে শিক্ষকদের বিভিন্ন তুচ্ছ কারণে হয়রানি করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত ১৬ ও ১৮ আগস্ট পৃথক দুটি আদেশে আটজন শিক্ষকের ডেপুটেশন বাতিল করা হয়। কিন্তু জুই রানীর ডেপুটেশন বাতিলের কোনো আদেশ পাওয়া যায়নি। এদিকে কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হাজিরা খাতা ও ৩০ আগস্টের ‘বিদ্যালয়ে দৈনিক উপস্থিতি তথ্য’ বিবরণী পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গত ২০ আগস্ট বদলির আদেশ জারি হলেও জুই রানী ২৩ আগস্ট পর্যন্ত কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন এবং হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেছেন।
পরে ২৪ আগস্ট তিনি নতুন কর্মস্থল তরণীবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। তরণীবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক উম্মে সালমা বলেন, ‘বদলিকৃত শিক্ষক জুই রানী গত ২৪ আগস্ট আমাদের বিদ্যালয়ে যোগদান করেছেন। বর্তমানে তিনি এখানেই কর্মরত আছেন। ’ তবে ডেপুটেশন বাতিল ছাড়াই কিভাবে বদলি হলেন সে বিষয়ে জুই রানী কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।
এদিকে কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে জুই রানীকে সরিয়ে নেওয়ার পর সেখানে শিক্ষক সংকট আরও তীব্র হয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়টিতে পাঁচজন শিক্ষকের অনুমোদিত পদের বিপরীতে জুই রানীসহ কর্মরত ছিলেন তিনজন শিক্ষক। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ৮১ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। জুই রানী বদলি হয়ে যাওয়ায় এখন মাত্র দুইজন শিক্ষক দিয়ে পুরো বিদ্যালয়ের পাঠদান ও দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে।
এতে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সংযুক্তি বাতিল না করে কীভাবে জুই রানীর বদলি আদেশ জারি করা হলো, জানতে চাইলে নীলফামারী সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও বদলি কমিটির সদস্য সচিব জছিজুল আলম মন্ডল কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, ‘যদি এ ধরনের বদলি আদেশ হয়ে থাকে, তাহলে পদ্ধতিটি সঠিক নয়।
আমরা পুরো বিষয়টির খোঁজ নিচ্ছি এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।



















