আজ সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২৯ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ০১ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
২৭°C
সর্বোচ্চ: ৩৩°C
সর্বনিম্ন: ২৭°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৭৪%

গ্রামীণ সড়ক সংস্কারে ৩০ বছরের দুর্ভোগের অবসান

  • MIT ERP
  • Update Time : 12:14:35 pm, Wednesday, 2 September 2026
  • 22

গ্রামীণ সড়ক সংস্কারে ৩০ বছরের দুর্ভোগের অবসান

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

বৃষ্টি হলেই সড়কে জমত পানি। কাদায় পা পিছলে চলাচল করতে হতো। শিক্ষার্থী, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের দুর্ভোগ ছিল বেশি। জরুরি প্রয়োজনে বাড়ি থেকে বের হওয়াও কঠিন হয়ে পড়ত। এভাবে প্রায় ৩০ বছর ধরে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার থানাহাট ইউনিয়নের ছরারপাড় এলাকার বাসিন্দাদের। সম্প্রতি সরকারি বরাদ্দে সড়কটিতে মাটি ফেলে উঁচু করায় পরিস্থিতির কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে।

এতে আশপাশের ১৫টি পরিবারসহ প্রায় ২০০ পরিবারের মানুষের চলাচলে স্বস্তি ফিরেছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, সড়কটি দ্রুত পাকা করা হোক। স্থানীয় গৃহবধূ আশা বেগম বলেন, ‘সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে পানি জমে কাদায় পরিণত হতো। এখন মাটি ফেলে উঁচু করায় চলাচলে সুবিধা হয়েছে। তবে সড়কটি পাকা হলে আমাদের দুর্ভোগ স্থায়ীভাবে কমবে। ’ স্থানীয় বাসিন্দা সুমি বেগম, আমেনা খাতুন ও মোখলেছুর রহমান বলেন, বর্ষাকালে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ত।

সরকারি উদ্যোগে সড়কটি উঁচু করায় আপাতত দুর্ভোগ কমেছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কাবিখা, কাবিটা ও টিআর প্রকল্পের আওতায় চিলমারীর ছয় ইউনিয়নে মোট ১৪০টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে থানাহাট ইউনিয়নে ৪৪টি, রমনায় ২৬টি, নয়ারহাটে ২১টি, রাণীগঞ্জে ১৮টি, অষ্টমীরচরে ১৯টি এবং চিলমারী ইউনিয়নে ১২টি প্রকল্প রয়েছে।

প্রকল্পগুলোর আওতায় মাটি ভরাট, সড়ক সংস্কার, সিসি ঢালাই, কালভার্ট ও গাইডওয়াল নির্মাণ করা হয়েছে। রমনা ইউনিয়নের সরকারবাড়ি এলাকায় জব্বারের বাড়ি থেকে গোলামের বাড়ি হয়ে পিসিং রাস্তা পর্যন্ত সড়কে সিসি ঢালাই করা হয়েছে। স্থানীয়দের হিসাবে, এর সুফল পাচ্ছেন প্রায় দুই হাজার মানুষ। এ ছাড়া রমনা ইউনিয়নের সোনারীপাড়া, রাণীগঞ্জের বাবুয়ারপাড়, চিলমারী ইউনিয়নের কড়াই বরিশাল মৌজা, নয়ারহাটের খাউরিয়ারচর এবং অষ্টমীরচরের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক সংস্কার ও উন্নয়নকাজ হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এসব উন্নয়নকাজের ফলে কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত ও দৈনন্দিন চলাচলে সুবিধা হয়েছে। তবে মাটির সড়কগুলো টেকসই করতে পর্যায়ক্রমে পাকা করার দাবি তাদের। থানাহাট ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো. হাফিজুর রহমান ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য মোছা. আদুরী বেগম বলেন, সড়কটি দীর্ঘদিন নিচু থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই মানুষের দুর্ভোগ হতো।

সরকারি বরাদ্দে মাটি ফেলে উঁচু করায় চলাচলে সুবিধা হয়েছে। এখন সড়কটি পাকা করা প্রয়োজন। চিলমারী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোহেল বলেন, উন্নয়নকাজ জনগণের সম্পদ। কাজের মান ও সঠিক বাস্তবায়নের বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রকল্পগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

বিশ্বের তরুণদের স্বপ্নপূরণে রাশিয়াকে সহযোগী করার আহ্বান পুতিনের

গ্রামীণ সড়ক সংস্কারে ৩০ বছরের দুর্ভোগের অবসান

Update Time : 12:14:35 pm, Wednesday, 2 September 2026

বৃষ্টি হলেই সড়কে জমত পানি। কাদায় পা পিছলে চলাচল করতে হতো। শিক্ষার্থী, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের দুর্ভোগ ছিল বেশি। জরুরি প্রয়োজনে বাড়ি থেকে বের হওয়াও কঠিন হয়ে পড়ত। এভাবে প্রায় ৩০ বছর ধরে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার থানাহাট ইউনিয়নের ছরারপাড় এলাকার বাসিন্দাদের। সম্প্রতি সরকারি বরাদ্দে সড়কটিতে মাটি ফেলে উঁচু করায় পরিস্থিতির কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে।

এতে আশপাশের ১৫টি পরিবারসহ প্রায় ২০০ পরিবারের মানুষের চলাচলে স্বস্তি ফিরেছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, সড়কটি দ্রুত পাকা করা হোক। স্থানীয় গৃহবধূ আশা বেগম বলেন, ‘সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে পানি জমে কাদায় পরিণত হতো। এখন মাটি ফেলে উঁচু করায় চলাচলে সুবিধা হয়েছে। তবে সড়কটি পাকা হলে আমাদের দুর্ভোগ স্থায়ীভাবে কমবে। ’ স্থানীয় বাসিন্দা সুমি বেগম, আমেনা খাতুন ও মোখলেছুর রহমান বলেন, বর্ষাকালে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ত।

সরকারি উদ্যোগে সড়কটি উঁচু করায় আপাতত দুর্ভোগ কমেছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কাবিখা, কাবিটা ও টিআর প্রকল্পের আওতায় চিলমারীর ছয় ইউনিয়নে মোট ১৪০টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে থানাহাট ইউনিয়নে ৪৪টি, রমনায় ২৬টি, নয়ারহাটে ২১টি, রাণীগঞ্জে ১৮টি, অষ্টমীরচরে ১৯টি এবং চিলমারী ইউনিয়নে ১২টি প্রকল্প রয়েছে।

প্রকল্পগুলোর আওতায় মাটি ভরাট, সড়ক সংস্কার, সিসি ঢালাই, কালভার্ট ও গাইডওয়াল নির্মাণ করা হয়েছে। রমনা ইউনিয়নের সরকারবাড়ি এলাকায় জব্বারের বাড়ি থেকে গোলামের বাড়ি হয়ে পিসিং রাস্তা পর্যন্ত সড়কে সিসি ঢালাই করা হয়েছে। স্থানীয়দের হিসাবে, এর সুফল পাচ্ছেন প্রায় দুই হাজার মানুষ। এ ছাড়া রমনা ইউনিয়নের সোনারীপাড়া, রাণীগঞ্জের বাবুয়ারপাড়, চিলমারী ইউনিয়নের কড়াই বরিশাল মৌজা, নয়ারহাটের খাউরিয়ারচর এবং অষ্টমীরচরের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক সংস্কার ও উন্নয়নকাজ হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এসব উন্নয়নকাজের ফলে কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত ও দৈনন্দিন চলাচলে সুবিধা হয়েছে। তবে মাটির সড়কগুলো টেকসই করতে পর্যায়ক্রমে পাকা করার দাবি তাদের। থানাহাট ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো. হাফিজুর রহমান ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য মোছা. আদুরী বেগম বলেন, সড়কটি দীর্ঘদিন নিচু থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই মানুষের দুর্ভোগ হতো।

সরকারি বরাদ্দে মাটি ফেলে উঁচু করায় চলাচলে সুবিধা হয়েছে। এখন সড়কটি পাকা করা প্রয়োজন। চিলমারী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোহেল বলেন, উন্নয়নকাজ জনগণের সম্পদ। কাজের মান ও সঠিক বাস্তবায়নের বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রকল্পগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হচ্ছে।