স্থবিরতার দীর্ঘ প্রহর পেরিয়ে আবারও গ্যালারির গর্জনে মুখরিত সাতক্ষীরা স্টেডিয়াম। রবিউল ইসলাম শিবলু, সৌম্য সরকার, মোস্তাফিজুর রহমান কিংবা নারী ফুটবলের সাবিনা খাতুন ও আফেইদা খন্দকার প্রান্তির মতো জাতীয় তারকা গড়ার এই উর্বর ভূমিতে ফিরে এসেছে ক্রীড়াঙ্গনের হারিয়ে যাওয়া উৎসবের আমেজ। দীর্ঘ চার-পাঁচ বছরের খেলার খরা কাটিয়ে আজ রোববার বিকেলে সাতক্ষীরা স্টেডিয়ামে ‘জেলা প্রশাসক কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২০’-এর মহারণে মুখোমুখি হচ্ছে কালিগঞ্জ উপজেলা ও আশাশুনি উপজেলা।
আটটি উপজেলার অংশগ্রহণে শুরু হওয়া এই টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই গ্যালারিতে ছিল ফুটবলপ্রেমী দর্শকদের উপচে পড়া ভিড়। গ্যালারিতে স্থান সংকুলান না হওয়ায় মাঠের চারপাশ ঘিরে সুশৃঙ্খলভাবে খেলা উপভোগ করেছেন হাজারো দর্শক। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ প্রথম রাউন্ড ও সেমিফাইনালের বাধা পেরিয়ে চূড়ান্ত শিরোপার লড়াইয়ে জায়গা করে নেয় কালিগঞ্জ ও আশাশুনি।
যুবসমাজকে মাদকের গ্রাস থেকে দূরে রাখা এবং মাঠে ফিরিয়ে আনাই এই আয়োজনের অন্যতম মূল লক্ষ্য। জেলা প্রশাসক কাওসার আজিজ বলেন, তরুণদের মাদকের ভয়াবহ থাবা থেকে রক্ষা করে খেলাধুলার প্রতি অনুপ্রাণিত করতেই আমাদের এই উদ্যোগ। আজকের রোমাঞ্চকর ফাইনাল ম্যাচটি মাঠে এসে উপভোগ করার জন্য আমি সর্বস্তরের ক্রীড়ামোদি মানুষের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানাচ্ছি।
এই আসরের অভাবনীয় সাফল্য জেলার পুরো ক্রীড়াঙ্গনে নতুন আশা জাগিয়েছে। সাতক্ষীরা জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক ও সাবেক ফুটবলার ইমাদুল হক খান জানান, সফল এই আয়োজনের ধারাবাহিকতায় দ্রুতই জেলায় প্রথম ও দ্বিতীয় বিভাগ এবং প্রিমিয়ার কাপ ফুটবলের আয়োজন করা হবে, যা তৃণমূল থেকে নতুন জাতীয় মানের প্রতিভা তুলে আনতে ভূমিকা রাখবে। একই সুর সাবেক ক্রীড়া সংগঠকদের কণ্ঠেও।
সাতক্ষীরা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও সাবেক ক্রিকেটার মীর তাজুল ইসলাম রিপন জানান, ফুটবলের এই সুবাতাস ধরে রাখতে টুর্নামেন্ট শেষেই ক্রিকেট, নারী ক্রিকেট ও প্রিমিয়ার লিগ আয়োজনের সার্বিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বর্ষাসিক্ত এই বিকেলেই পর্দা নামছে সাতক্ষীরার বহু কাঙ্ক্ষিত ফুটবল মহোৎসবের। ট্রফি কার হাতে উঠছে—কালিগঞ্জ নাকি আশাশুনি—তা দেখতে এখন প্রহর গুনছে পুরো জেলা।



















