প্রতি মাসে বিদ্যুৎ বিল বাড়তে থাকায় অনেকেরই সংসারের বাজেটে চাপ তৈরি হয়। তবে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য সবসময় নতুন প্রযুক্তি বা দামি যন্ত্রপাতি কেনার প্রয়োজন নেই। দৈনন্দিন জীবনের কিছু অভ্যাসে পরিবর্তন আনলেই কমানো যায় বিদ্যুতের অপচয়, সেই সঙ্গে কমতে পারে মাসিক বিলও।
ঘর থেকে বের হওয়ার সময় ফ্যান, লাইট, টেলিভিশনসহ অপ্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক যন্ত্র বন্ধ করে দেওয়ার অভ্যাস করা উচিত। মোবাইল বা অন্য কোনো ডিভাইস পুরোপুরি চার্জ হওয়ার পর চার্জারও প্লাগ থেকে খুলে রাখা ভালো। গরমের সময়ে এসির তাপমাত্রা ১৮ থেকে ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে না রেখে ২৫ থেকে ২৬ ডিগ্রিতে রাখলে বিদ্যুৎ খরচ কমতে পারে। একই সঙ্গে দরজা-জানালা বন্ধ রাখা এবং নিয়মিত এসির ফিল্টার পরিষ্কার করাও জরুরি।
ফ্রিজের দরজা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সময় খোলা রাখা উচিত নয়। বারবার দরজা খোলা এবং গরম খাবার সরাসরি ফ্রিজে রাখলে কম্প্রেসারকে বেশি কাজ করতে হয়। এতে বিদ্যুৎ খরচও বেড়ে যেতে পারে। দিনের বেলায় ঘরে পর্যাপ্ত আলো থাকলে লাইট না জ্বালিয়ে জানালা দিয়ে আসা প্রাকৃতিক আলো ব্যবহার করা যেতে পারে। টিভি, কম্পিউটার, সেট-টপ বক্স বা গেমিং কনসোল দীর্ঘ সময় ব্যবহার না করলে শুধু রিমোট দিয়ে বন্ধ না করে মূল সুইচও বন্ধ রাখা ভালো।
পুরোনো বাতির পরিবর্তে এলইডি বাল্ব ব্যবহার করলে তুলনামূলক কম বিদ্যুৎ খরচ হয়। পাশাপাশি অল্প কাপড়ের জন্য বারবার ওয়াশিং মেশিন বা ইস্ত্রি না চালিয়ে একসঙ্গে কাজগুলো করা যেতে পারে। এসি, ফ্রিজ ও পানির পাম্পসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্র নিয়মিত পরিষ্কার ও সার্ভিসিং করলেও বিদ্যুৎ সাশ্রয় সম্ভব। অপরিষ্কার ফিল্টার বা ত্রুটিপূর্ণ যন্ত্র স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারে।
তাই বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য বড় কোনো পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। অপ্রয়োজনীয় যন্ত্র বন্ধ রাখা, সঠিক তাপমাত্রা বজায় রাখা এবং বৈদ্যুতিক যন্ত্র নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের মতো ছোট ছোট সচেতন অভ্যাসই মাস শেষে বিদ্যুৎ বিল কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।



















