অনেকে মনে করেন মাথাব্যথা হওয়া মানেই তা মাইগ্রেনের সমস্যা, আবার মাইগ্রেন বলতে কেবল মাথায় যন্ত্রণাকেই বোঝেন অনেকে। তবে মাইগ্রেন কেবল মাথাব্যথার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, এর সঙ্গে আরও নানা ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
এমনকি মাথাব্যথা শুরু হওয়ার আগেও শরীর কিছু সংকেত দিতে পারে। মাইগ্রেনে সাধারণত মাথায় স্পন্দন বা ধকধকে ব্যথা হতে পারে। তবে অনেকের ক্ষেত্রে এর সঙ্গে বমি বমি ভাব বা বমি হয়। তীব্র আলো, জোরে শব্দ, কোনো কোনো গন্ধ, এমনকি শরীরে হালকা স্পর্শও অসহ্য লাগতে পারে। ফলে দৈনন্দিন কাজকর্ম, পড়াশোনা বা অফিসের কাজ করাও কঠিন হয়ে যায়। মাথাব্যথা শুরু হওয়ার আগে শরীর কিছু সতর্কবার্তাও দিতে পারে।
যেমন—বারবার হাই ওঠা, মেজাজের পরিবর্তন, বিশেষ কোনো খাবার খাওয়ার প্রবল ইচ্ছা, বেশি প্রস্রাব পাওয়া, ক্লান্তি বা ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে মাইগ্রেনের আগে বা চলাকালে ‘অরা’ দেখা যায়। তখন চোখের সামনে আলোর ঝলক, ছোট ছোট দাগ, রেখা বা অদ্ভুত আকার ভেসে উঠতে পারে। কারও কারও হাত বা মুখে সাময়িক ঝিনঝিনি কিংবা অসাড়ভাবও হতে পারে।
কথা বলতেও সাময়িক অসুবিধা হতে পারে। তবে সব মাইগ্রেন রোগীর ‘অরা’ হয় না। মাইগ্রেনের অ্যাটাক কমে যাওয়ার পরও কিছুক্ষণ দুর্বলতা, ক্লান্তি, মাথা ঝাপসা লাগা বা বিভ্রান্তির মতো অনুভূতি থাকতে পারে। বারবার মাইগ্রেনের সমস্যা হলে, মাথাব্যথার তীব্রতা বা ঘনঘন হওয়ার প্রবণতা বাড়লে কিংবা দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত সময়ে খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান এবং মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা অনেকের ক্ষেত্রে উপকারী হতে পারে। কোনো খাবার, ঘুমের অভাব বা মানসিক চাপের পর সমস্যা বাড়ছে কি না, তা বুঝতে ‘মাইগ্রেন ডায়েরি’ রাখাও কাজে দিতে পারে। তবে হঠাৎ জীবনের সবচেয়ে তীব্র মাথাব্যথা শুরু হলে, বিশেষ করে এর সঙ্গে জ্বর, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, বিভ্রান্তি, খিঁচুনি, কথা বলতে সমস্যা, হঠাৎ দৃষ্টির পরিবর্তন কিংবা শরীরের কোনো অংশ দুর্বল বা অসাড় হয়ে গেলে দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন।
মাথায় আঘাত লাগার পর তীব্র মাথাব্যথা হলেও তা অবহেলা করা উচিত নয়। তাই প্রতিবারের মাথাব্যথাকে মাইগ্রেন ভেবে না নিয়ে, লক্ষণ অস্বাভাবিক হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।



















